ক্যান্সার রোগীদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে পরচুলা


প্রকাশিত: ০২:৫৯ এএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৬

ব্যাঙ্গালোরে পরচুলা তৈরির কারিগর হিসেবে পরিচিত। তার দোকান থেকে তৈরি শত শত পরচুলা পড়ে ক্যান্সার রোগীদের জীবনে যেন নতুন প্রাণের সূচনা হচ্ছে। তিনি হলেন মরিশেট্টি কুমার। নিজের কাজ সম্পর্কে মরিশেট্টি বলেন, কোনও কাজই ছোট বা বড় নয়। কেউ হয়তো ভাবতে পারে যে তারা যেটা করছে সেটা ক্ষুদ্র বা অর্থহীন। কিন্তু আমি আমার ভাগ্যকে মেনে নিয়েছি। আর আমি হাসিমুখেই পরচুলা তৈরির কাজ করি। খবর বিবিসির।

যেসব মানুষ রোগে ভুগে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে তারা এই পরচুলা পড়ে খুশী হচ্ছে। তাদের মনে আশার সঞ্চার জাগছে। তাদের জন্য এতুটুক করতে পারাটা আমার কাছে সৌভাগ্যের ব্যাপার। সেসব রোগীদের জন্য আমি সামান্য কিছু করতে পারছি এটাই আমার কাছে অনেক কিছু। একটি কৃষক পরিবারে জন্ম নেন মি. কুমার।

তরুণ বয়সেই ঘর ছেড়ে পালিয়েছিলেন মরিশেট্টি। তার জীবনের লক্ষ্য ছিল কান্নাডা ভাষার চলচ্চিত্র তৈরিতে যে দল কাজ করছে তাদের সঙ্গে কাজ করবে। সেই দলের সঙ্গে দীর্ঘকাল কাজও করেছেন। চলচ্চিত্র ইউনিটের সঙ্গে দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতায় তিনি শিখেছেন কিভাবে মানুষের ফেলে দেয়া চুল দিয়ে বিভিন্নভাবে পরচুলা তৈরি করা যায়। পরচুলা তৈরির কাজটি অনেক কষ্টকর। কারণ সাধারণ চুলগুলো প্রতিটিই হাতে বুনতে হয়। যদিও তিনি যখন এ কাজটি শেখেন তখন ক্যান্সার বা কেমোথেরাপি এবং এ কারণে রোগীদের চুল পড়ে যেতে পারে সে সম্পর্কে কিছুই জানতেননা তিনি।

তার কাছে একদিন একজন কাস্টমার এলেন যিনি ক্যান্সারের কারণে তার সব চুল পড়ে যাওয়ায় আক্ষেপ করেন। আর সে সময়েই এই রোগ আর রোগের প্রভাবে চুল পড়ে যাবার বিষয়ে জানেন তিনি।

তিনি বলেন, আমার ওই কাস্টমারের মাথায় পরচুলা পড়িয়ে দেবার পর তার চোখের যে উজ্জ্বল দৃষ্টি দেখতে পেরেছিলাম সেটাই আমার জীবনে পরিবর্তন নিয়ে আসে। টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র তারকাদের জন্য পরচুলা তৈরির কাজ করতেন তিনি। কিন্তু তা থেকে সরে এসে তিনি শুধুমাত্র ক্যান্সার রোগীদের জন্য পরচুলা তৈরি শুরু করে দিলেন।

পরচুলা তৈরির জন্য তিরুপাটি শহর থেকে সাধারণ চুল কেনা হয়। কারণ ওই জায়গাটি মাথার চুল ফেলার জন্য মঙ্গলজনক বলা হয় বলে তীর্থযাত্রীরা সেখানে তাদের মাথার চুল ফেলেন। এ কাজে তাকে সাহায্য করেন তার স্ত্রী ললিতা মরিশেট্টি।

ললিতা মূলত কিনে আনা চুলগুলো পরিস্কার করে সেগুলো ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে রোদে শুকান। তারপর চুলের বান্ডিল নিয়ে সেগুলো বাঁধতে বসেন। তারা যৌথ চেষ্টায় একটি দোকানও খুলেছেন। এ পর্যন্ত ২০ হাজারেরও বেশি পরচুলা তৈরি করেছেন শুধুমাত্র ক্যান্সার রোগীদের জন্য।

এই পরচুলাগুলোর দামও খুব কম নির্ধারণ করেছেন তারা। এ কাজে খুব বেশি দাম না পেলেও এই কাজ করে তারা মানসিক শান্তি পান বলে জানিয়েছেন।

টিটিএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।