৪ নারী উদ্যোক্তার সফলতার গল্প

সাজেদুর আবেদীন শান্ত
সাজেদুর আবেদীন শান্ত সাজেদুর আবেদীন শান্ত , ফিচার লেখক
প্রকাশিত: ০৭:০৫ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২২

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশের নারীরাও ‘আমরা নারী-আমরা পারি’ প্রতিপাদ্যে বিশ্বাসী হয়ে সংগ্রাম করে সফল হয়েছেন। আমরা আজ জানাবো তেমনই চারজন সফল নারী উদ্যোক্তার সফলতার গল্প—

আরিফিন পারভীন লিজা
কুষ্টিয়ার আরিফা পারভীন লিজা একজন প্রভাষক। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি পা রাখেন উদ্যোক্তা জীবনে। কাজ করছেন হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন খাবার নিয়ে। এটাই তার সিগনেচার প্রোডাক্ট। করোনাকালে অটুট মনোবল ও দক্ষতা দিয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি হাতে তৈরি মিষ্টি পৌঁছে দেন বাংলাদেশের ৬৪ জেলায়। শুধু বাংলাদেশেই নয়, দেশের বাইরেও ১২টি দেশে মিষ্টি পাঠিয়েছেন তিনি। মাত্র দুই বছরে অনলাইনে মিষ্টি বিক্রি করে লাখোপতি হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘করোনা আমার জীবনে এসেছিল নতুন একটি পরিচয় তৈরি করতে। করোনা না এলে হয়তো আমি উদ্যোক্তা হতে পারতাম না। এখন উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় দিতে নিজেকে খুব ভালো লাগে। পরিবারও আমার এ কাজে প্রচুর উৎসাহ দেয়। বিশেষ করে আমার স্বামী এবং ভাই খুবই সাহায্য করে। বাধা যে পাইনি তা নয়, এ কাজ করতে গিয়ে আশেপাশের মানুষ অনেক কটু কথা বলেছেন। তবে নিজের কাছের মানুষগুলো উৎসাহ দিয়েছেন বলে অন্যের কথা খুব একটা গায়ে মাখিনি।

রুবাইদা রিয়াত রাখী
রুবাইদা রাখী প্রথাগত নিয়ম ভেঙে চার বছর ধরে কাজ করছেন ঘরের তৈরি খাবার নিয়ে। মূলত ঢাকা শহরের ব্যস্ত চাকরিজীবী, ব্যাচেলরদের কথা ভেবেই তার এ উদ্যোগ শুরু। দেশীয় ১০০ রকমের ভর্তা, ভাজি, হারাতে থাকা আঞ্চলিক অনেক রকম খাবার নিয়ে কাজ করছেন তিনি। প্রায় ৫০০ জন পর্যন্ত মানুষের রান্না করা খাবারের অর্ডার নেন তিনি। আর এতেই তিনি দেখা পান সফলতার।

তিনি বলেন, ‘শুরুটা কখনোই কারোর জন্য সহজ হয় না। কাজ ছোট কিংবা বড় হোক সবাইকেই কাজটা নিয়ে ভীষণ সাধনা করে যেতে হয়। মেধা, শ্রম, বুদ্ধি এবং সততা দিয়ে এগোনোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। রান্নার কাজ খুব কষ্টসাধ্য এবং পরিশ্রমের। আমি কোনো বাধায়ই থেমে থাকিনি। সব রকম পরিস্থিতিতে লড়ে গেছি। কখনো কম্প্রোমাইজ করিনি। কাজটিকে নেশা হিসেবে নিয়েছি, প্যাশন হিসেবে দেখেছি। কাজকে আমি শুধু আমার ভেবে আপন করতে চেষ্টা করি। সফলতা বলতে ভীষণ রকম পরিশ্রম আর ধৈর্য ধরে কাজ চালিয়ে যাওয়াই বুঝি। থেমে থাকলে বা ভয় পেলে চলবে না। কাজ যেমনই হোক, নিজের কাজকে সম্মান প্রদর্শন করে চালিয়ে যেতে হবে। পরিশ্রম আর লেগে থাকাটা নির্ণয় করবে আপনার অবস্থান।’

আফরোজা আনিকা
আফরোজা আনিকা আজ থেকে ৩ বছর আগে অনলাইনে কিছু একটা করবেন বলে ভেবেছেন। এরপর ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে ফেসবুক পেজ খুলে মাত্র ১৫০০ টাকা পুঁজি নিয়ে ঘরে তৈরি গুঁড়া মসলার উদ্যোগ শুরু করেন। এখন বর্তমানে এসে ২০২২ সালে ১২ ধরনের গুঁড়া মসলা নিয়ে কাজ করছেন। অল্প সময়েই সফলতার দেখা পান আনিকা। শুধু মসলা বিক্রি করেই হয়ে যান লাখোপতি।

আনিকা বলেন, ‘উদ্যোগের শুরুতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইল এবং নানা ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে নিজের পণ্যকে পরিচয় করার চেষ্টা করতাম। ধীরে ধীরে আমার পণ্য পরিচিতি লাভ করতে থাকে। ক্রেতারা আমার মসলা ব্যবহার করতেন, সাথে নিজের পরিবার ও আত্মীয়দেরও পরিচয় করিয়ে দিতেন। এভাবেই চলতে থাকে আমার ব্যবসা। আমি যখন কাজ শুরু করি; তখন পুরো মাসে হয়তো ৫-১০ কেজি মসলা বিক্রি হতো। বর্তমানে এসে প্রতি সপ্তাহে আগের চেয়ে প্রায় ৩ গুণ মসলা বিক্রি হয়। এখন আর আমাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয় না। আমি ভয় পাই না, আমি জয় করি সাহসের সাথে আমার সব বাধা।’

ফারজানা আফরোজ
ফারজানা আফরোজ কাজ করছেন ফ্রোজেন ফুড এবং ডেজার্ট আইটেম নিয়ে। অনলাইনে খাবারগুলো খুব সহজেই পছন্দ হয় মানুষের। তাই তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অল্প সময়েই দেখা পান সফলতার।

তিনি বলেন, ‘করোনাকালে যখন বিশ্ব থমকে গেছে; তখনই অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি করেছে আমার মতো হাজারো নারী উদ্যোক্তা। উদ্যোগের ক্ষেত্রে আমি সবচেয়ে বেশি মেনে চলেছি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ফ্রেশ খাবার এবং সময়মতো ডেলিভারি প্রক্রিয়া। এর সমন্বয় যদি সুন্দর হয়, তাহলে যে কোনো উদ্যোগই ধীরে হলেও এক সময়ে সফলতা পাবে। উদ্যোক্তা জীবনের শুরুটা খুব মসৃণ না হলেও এখন আমি সফল। অনেক উঁচু-নিচু পথ পাড়ি দিতে হয়েছে কিন্তু থেমে যাইনি কখনো। প্রথম থেকে আমার একটি পরিকল্পনা ছিল, আমি সে অনুযায়ী ধীর পায়ে এগিয়ে গেছি। অনেক নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ এসেছে, যা ধৈর্যসহ সমাধান করেছি। দেড় বছরের টানা পরিশ্রম আজ আমাকে পরিচিত করেছে। দিয়েছে নতুন পরিচয়।’

এসইউ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।