৫০০ টাকায় শুরু, আড়াই লাখ টাকার ব্যাগ বিক্রি

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৪৪ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২১

সাজেদুর আবেদীন শান্ত

রুমা আক্তারের জন্ম নোয়াখালীর হাতিয়ায়। চার বোন, দুই ভাইয়ের মধ্য রুমা সবার ছোট। রাঙ্গামাটি কলেজের মাস্টার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। বাবা আনোয়ার হোসেন মির বেসরকারি চাকরি করতেন। মা জোস্না বেগম গৃহিণী। বিএ দ্বিতীয় বর্ষে থাকা অবস্থায় ২০১৭ সালের মে মাসে পিডিপির চাকরিজীবী নাজমুল হুদা নাহিদের সঙ্গ বিয়ে হয় রুমার। এরপর স্বামীর চাকরি সূত্রে রাঙ্গামাটি চলে যান রুমা। বর্তমানে এক মেয়ে নিয়ে রুমার সংসার।

রাঙ্গামাটি আসার পর চাকমা নারীদের ঝুড়ি-ব্যাগ বুনতে দেখে রুমার ইচ্ছা জাগে ঝুড়ি-ব্যাগ নিয়ে কাজ করার। কিন্তু কীভাবে শুরু করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। উদ্যোক্তা হওয়া প্রসঙ্গে রুমা বলেন, ‘নিজের একটা পরিচিতির দরকার ছিল। চাকরি করার ইচ্ছা থাকলেও নানা পরিস্থিতির কারণে সেটা করে উঠতে পারিনি।’

jagonews24

তিনি বলেন, ‘বাচ্চা হওয়ার আধা ঘণ্টা পরই তাকে আইসিইউতে দিতে হয় সাত দিনের জন্য। ওই অবস্থায় তাকে দেখে অনেকটা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাই। এভাবে প্রায় ছয় মাস চলল। কিন্তু নিজেকে এভাবে দেখতে একদম ভালো লাগছিল না। ছোটবেলা থেকেই নিজেকে কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখতে ভালো লাগত। হঠাৎ করোনা পরিস্থিতিতে মনে হলো স্বামীর পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। তখন থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা মাথায় আসে।’

রুমা বলেন, ‘গত বছরের জুনের ৬ তারিখ আমার জা আমাকে ফেসবুক ভিত্তিক ই-কমার্স গ্রুপ উইতে যুক্ত করে দিয়েছেন। সেখানে দেখছি সব দেশীয় পণ্য। তাই চিন্তা করলাম, আমি যেহেতু রাঙ্গামাটিতে স্থায়ী আর ঝুড়ির ব্যাগ যেহেতু পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। তাহলে এটা নিয়েই কাজ শুরু করি। করোনায় যখন রাঙ্গামাটির টেক্সটাইল মার্কেটগুলো বন্ধ ছিল; তখন স্বামীর মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম ঝুড়ি-ব্যাগ নিয়ে কাজ করার।’

jagonews24

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে দোকান থেকে ছবি তুলে কাজ শুরু করি। এতে ভালো সাড়া পাই। সবচেয়ে মজার ব্যাপার, আমার কাজ শুরু করার সময় থেকেই জমজমাট ঝুড়ি সেল হচ্ছে মার্কেটগুলোয়। করোনা পরিস্থিতিতেও সবাই খুব আনন্দের সঙ্গে আমার কাছে ঝুড়ি দিচ্ছে। সবাই বলে, ‘দিদি আপনি আমাদের নতুন দিন ফিরিয়ে দিয়েছেন করোনার এ পরিস্থিতিতে’।’

ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী রুমা তিনজন কারিগর দিয়ে পণ্য কাস্টমাইজড করা শুরু করেন। শুরুতে রুমা মাত্র ৫০০ টাকা দিয়ে কাজ শুরু করেন। আর মাত্র ২ মাসে অনলাইনে ঝুড়ি বিক্রি করেন লাখ টাকার উপরে। বর্তমানে রুমার অনলাইনে মোট ঝুড়ি বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার টাকার।

jagonews24

নিজের পণ্যকে দেশের ৬৪ জেলায় ও দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে পৌঁছে দিতে চান রুমা। সবার মাঝে দেশীয় পণ্য ঝুড়ি-ব্যাগকে তুলে ধরাসহ নিজের উদ্যোগকে বড় করে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে চান তিনি। রুমার মতো হাজার হাজার নারী আজ স্বাবলম্বী ফেসবুক ভিত্তিক ই-কমার্স গ্রুপের কল্যাণে।

রুমার মতো অনেকেই আজ সাবলম্বী হয়ে স্বামী, সন্তান, পরিবার-পরিজনদের অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করে চলছেন। করোনাকালে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন।

লেখক: ফিচার লেখক ও শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু কলেজ, ঢাকা।

জেএমএস/এসইউ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]