প্রথম বিসিএসেই পুলিশ ক্যাডার পান জহিরুল

আনিসুল ইসলাম নাঈম
আনিসুল ইসলাম নাঈম আনিসুল ইসলাম নাঈম , ফিচার লেখক
প্রকাশিত: ০১:৩৭ পিএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১

জহিরুল ইসলাম ৩৮তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। তার জন্ম ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার চকরাধাকানাই গ্রামে। তার বাবা আব্দুস সালাম ও মা ফজিলা খাতুন। তিনি ২০০৮ সালে ইঞ্জিনিয়ার শামসুদ্দিন আহমদ হাই স্কুল থেকে এসএসসি ও ২০১০ সালে ময়মনসিংহের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

বর্তমানে তিনি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে ঢাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আছেন। সম্প্রতি তার বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া, ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও সফলতার গল্প শুনিয়েছেন জাগো নিউজকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনিসুল ইসলাম নাঈম—

জাগো নিউজ: আপনার শৈশবের গল্প দিয়ে শুরু করতে চাই—
জহিরুল ইসলাম: গ্রামে দুরন্ত শৈশব কেটেছে। ক্রিকেট ও ফুটবল খেলা বেশি পছন্দের ছিল। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় আমার ছেলেবেলা কাটিয়েছি। ছোট থেকেই শান্ত স্বভাবের ছিলাম। তবে নিত্য নতুন বিষয় সম্পর্কে আমার আগ্রহ তখন থেকেই। ছোট থেকেই পড়ুয়া স্বভাবের ছিলাম। আমি ভাই-বোনদের মধ্যে সবার ছোট ছিলাম। এ জন্য সবার আদর ও ভালো দিকনির্দেশনায় বেড়ে ওঠা সম্ভব হয়।

jagonews24

জাগো নিউজ: পড়াশোনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল কি?
জহিরুল ইসলাম: তেমন কোনো বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তবে হায়ার ম্যাথ পড়ার জন্য বেশ দূরে যেতে হতো। আমার ভাগ্নে (বয়সে বড়) তখন ময়মনসিংহ মেডিকেলে পড়তো, সে অনেক সমস্যার সমাধান করে দিতো। একটি ব্যাপার আছে, প্রতিবন্ধকতা বলবো না ঠিক, তবে এটি আমার পড়াশোনায় বেশ বাধা হয়েছিল। এইচএসসি পড়ার সময় প্রথম বাড়ির বাইরে গিয়ে থাকতে বেশ খারাপ লাগত। তাই প্রায় প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি চলে আসতাম। আবার শনিবার সকালে গিয়ে ক্লাস করতাম। এভাবে চলার ফলে রেগুলার প্রাইভেট পড়ার ব্যাচ থেকে ছিটকে যেতে হয়েছিল। যা হোক, অনেক সময় পর্যন্ত এর জন্য আমাকে ভুগতে হয়েছিল।

জাগো নিউজ: বিসিএসের স্বপ্ন দেখেছিলেন কখন থেকে?
জহিরুল ইসলাম: ফাইনাল পরীক্ষা শেষে তখনো প্রজেক্ট আর ল্যাব পরীক্ষা বাকি ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রদ্ধেয় স্যারের কাছে পরামর্শ নিই। চাকরির মার্কেটে কিভাবে, কোন দিকে অগ্রসর হবো? স্যার বেসরকারি চাকরিতে নিরাপত্তার অভাবের বিষয়ে বলেন এবং সরকারি চাকরির দিকে এগোতে উৎসাহিত করেন। যেহেতু সরকারি চাকরির মাঝে বিসিএস অন্যতম, তাই বিসিএস প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। পাশাপাশি কোচিংয়ে নতুন ব্যাচে ভর্তি হয়ে যাই।

jagonews24

জাগো নিউজ: বিসিএস যাত্রার গল্প শুনতে চাই, প্রস্তুতি কীভাবে নিয়েছেন?
জহিরুল ইসলাম: বিসিএসে প্রস্তুতির শুরুতেই বিগত বছরের প্রশ্ন অ্যানালাইসিস করতে থাকি। ফলে বিষয়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ টপিক সামনে চলে আসে। সেগুলো বারবার পড়তে থাকি। তাছাড়া যেসব টপিক থেকে বারবার প্রশ্ন এসেছে, সেগুলো গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা শুরু করি। একই সঙ্গে আমার যেসব বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলো নিয়মিত অনুশীলন করেছি। পাঠ্য বইয়ের সঙ্গে সাপ্লিমেন্টারি বই সংগ্রহ করেছি। কোচিংয়ে লেকচার আর লেকচার শিট পড়েছি। প্রিলিমিনারি গাইড সংগ্রহে ছিল। তাছাড়া কোচিংয়ে নিয়মিত ছিলাম। আমার নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞানের বিষয় এবং গণিত পড়ানোর অভিজ্ঞতা ভালো সাহায্য করেছে। পাশাপাশি ইংরেজি, বিজ্ঞান এবং ম্যাথে নিয়মিত সময় দিয়েছি।

জাগো নিউজ: পর্দার আড়াল থেকে কেউ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে?
জহিরুল ইসলাম: পরিবার ও স্যারদের কাছ থেকে মানসিক সাপোর্ট ছিল। প্রথম শ্রেণির এমন একটি চাকরির প্রত্যাশা ছিল। যেখানে পদোন্নতি ও সম্মান থাকবে। আমার মা এবং ভাই-বোনদের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যারদের কথা সব সময় মনে পড়ে এবং পড়বে।

jagonews24

জাগো নিউজ: নতুনরা বিসিএস প্রিলির জন্য কীভাবে প্রস্তুতি শুরু করবেন?
জহিরুল ইসলাম: নতুনরা এক সেট প্রিলিমিনারি বই ফলো করবেন। পাশাপাশি বিগত বছরের প্রশ্ন আর ডাইজেস্ট। কোনো বিশেষ বিষয়ে দুর্বল থাকলে তার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে এগোতে হবে। বেসিক কনসেপ্ট ক্লিয়ার করার জন্য নবম-দশম শ্রেণির বাংলা, গণিত ও বিজ্ঞান বোর্ড বই পড়তে হবে। নিয়মিত পত্রিকা পড়ার কোনো বিকল্প নেই।

জাগো নিউজ: প্রিলি শেষ করার পর বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি নিয়ে আপনার পরামর্শ কী?
জহিরুল ইসলাম: প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ভালো হলে, সময় নষ্ট না করে লিখিত প্রস্তুতি শুরু করা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। কৌশল অবলম্বন করতে হবে, স্পষ্ট ও যথাযথ জ্ঞান অর্জন করার চেষ্টা থাকতে হবে। প্রিলিমিনারির প্রস্তুতি লিখিত পরীক্ষার ৫০ শতাংশ বা তার বেশি প্রস্তুতি কভার করে। বাংলাদেশ, বাংলা ও ইংরেজিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা এ তিন বিষয়ে ৬০০ নম্বর।

jagonews24

জাগো নিউজ: বিসিএস ভাইবার প্রস্তুতি কেমন হবে?
জহিরুল ইসলাম: ভাইবার জন্য বাজার থেকে দু’একটা গাইড বই কিনে পড়লেই ধারণা হবে। এছাড়া নিজের সম্পর্কে, দেশ ও জাতি, ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি, স্নাতকের পঠিত বিষয় ও সমসাময়িক বিষয়ে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। ভাইবা বোর্ডে বিনয়ী এবং স্পষ্টভাষী হতে হবে।

জাগো নিউজ: একজন পুলিশ হিসেবে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
জহিরুল ইসলাম: একজন পুলিশ বা একজন ব্যক্তি হিসেবে আমি চেষ্টা করবো, যেন মানুষকে সবচেয়ে সহজে সেবা দিতে পারি। মানুষ যেন এদেশে নিরাপদ বোধ করে—এটাই প্রত্যাশা এবং এর জন্য কাজ করব। পুলিশ হিসেবে চ্যালেঞ্জটা নিতে চাই এবং সুচারুভাবে দায়িত্ব পালন করে যেতে চাই।

এসইউ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - jago[email protected]