বিসিএসের তিনটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ: ইমাম মোশারফ

আনিসুল ইসলাম নাঈম
আনিসুল ইসলাম নাঈম আনিসুল ইসলাম নাঈম , ফিচার লেখক
প্রকাশিত: ০৬:৩০ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২৩

শেখ ইমাম মোশারফ ৪১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তার জন্ম খুলনায় হলেও ঢাকাতেই বেড়ে ওঠা। তিনি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। এরপর গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক শেষ করেন।

সম্প্রতি জাগো নিউজের সঙ্গে তিনি বিসিএস জয়, ক্যারিয়ার পরামর্শ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনিসুল ইসলাম নাঈম—

জাগো নিউজ: ৪১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডার পেয়েছেন, আপনার অনুভূতি কী?
শেখ ইমাম মোশারফ: দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন যখন সত্য হয়, তখন এ অনুভূতি ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। আমার বিসিএস যাত্রার প্রথম থেকেই প্রশাসন ক্যাডারের প্রতি অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করতো। মহান আল্লাহ পাকের কাছে অশেষ শুকরিয়া। দেশ ও জাতির প্রতি দায়িত্ব যেন সঠিকভাবে পালন করতে পারি।

আরও পড়ুন: সাপ্লাই চেইন প্রফেশনালদের নিয়ে ‘আয়না’ 

জাগো নিউজ: বিসিএসের ভাবনা মাথায় কখন এলো?
শেখ ইমাম মোশারফ: মূলত তৃতীয় বর্ষের শুরুর দিকে একটি ঘটনা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমি বিসিএস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র হওয়ায় এবং এসিএম পোগ্রামিং নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ থাকার কারণে আমার চিন্তা ভাবনা ছিল কর্পোরেট সেক্টরমুখী। ওই সময়টাতে টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে যথেষ্ট পড়াশোনা ও ঘাটাঘাটি করলেও দেশ-বিদেশ এবং রাজনীতি বা অর্থনীতি বিষয়ক জিনিসগুলোর প্রতি আগ্রহ এবং পড়াশোনা দুটিই কম ছিল। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে যখন আমি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র তখনকার ঘটনা; আমাদের বাসায় এক চাচ্চু দাওয়াত খেতে আসেন। যিনি বর্তমান লন্ডনে মিনিস্টার হিসেবে কর্মরত আছেন। লাঞ্চের সময় টিভিতে রোহিঙ্গা আগমন এবং ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যকার বৈঠকের জল্পনা-কল্পনা নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী খবর হচ্ছিল। তিনি আমাকে রোহিঙ্গা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলেন। এসব বিষয়ে তখন আমার ভাসা ভাসা জ্ঞান থাকার কারণে ক্লিয়ার কোনো উত্তর দিতে পারিনি। তিনি আমাকে বললেন, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এসব খোঁজ-খবর রাখা উচিত। বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য বড় কিছু করতে হলে ও জনগণের উপকার করতে হলে নিজেকে সেই অধিষ্ঠানে অধিষ্ঠিত করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মূলত এ থেকেই আমার বোধোদয় হয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত হয়ে বড় পরিসরে অবদান রাখার ইচ্ছা থেকেই তখন থেকে বিসিএস নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে থাকি।

জাগো নিউজ: বিসিএস যাত্রায় প্রস্তুতি কিভাবে নিয়েছেন?
শেখ ইমাম মোশারফ: আমার মূল স্ট্র্যাটেজি ছিল—কম পড়বো, কিন্তু গুছিয়ে পড়বো এবং যা পড়বো একদম সলিড পড়বো। বিসিএসে তিনটি ধাপ—প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা। প্রতিটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ধাপের প্রস্তুতিও ভিন্ন ভিন্ন। খুব লম্বা একটা সময় ধরে প্রিপারেশন নিতে হয় বিসিএসের জন্য এবং এই লাইনে ঢুকলে আমাকে কর্পোরেট সেক্টরের কথা বাদ দিতে হবে। এই চিন্তাগুলো মাথায় নিয়েই আমি সিদ্ধান্ত নিই বিসিএস দেওয়ার। দীর্ঘ এ যাত্রায় প্রায় সময়ই হতাশা বা ফ্রাস্ট্রেশন, দুশ্চিন্তা গ্রাস করতো। কিন্তু সৎ নিয়ত নিয়ে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে প্রিপারেশন চালিয়ে যাই। শুধু পরিশ্রম নয়, সুপরিকল্পিত পরিশ্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের জন্য।

জাগো নিউজ: পর্দার আড়াল থেকে কেউ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন?
শেখ ইমাম মোশারফ: আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে বিসিএসের এই দীর্ঘ যাত্রায় আমাকে খুবই বিশেষ একজন সর্বদা সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করেছেন। এই হতাশাপূর্ণ অনিশ্চয়তার পথে স্থিরতা ও মানসিক প্রশান্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভালো কিছু করার জন্য। আর এই পুরো সাপোর্টটিই আমি পেয়েছি তার কাছ থেকে। আসলে যে মানুষগুলো আমাদের দুঃখ-দুর্বিপাকের সময়ে পাশে থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে অনুপ্রেরণা ও সমর্থন দিয়ে যায় তারাই প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী। এ মানুষগুলোই যথাযথ মূল্যায়ন ও অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য।

আরও পড়ুন: বারবার অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে: মোহন আহমেদ 

জাগো নিউজ: নতুনরা বিসিএসের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?
শেখ ইমাম মোশারফ: বিসিএস প্রস্তুতি শেষ বর্ষ থেকে নেওয়া উচিত বলে মনে করি। যারা প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষ তাদের মূলত একাডেমিক রেজাল্টের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ বিসিএস ভাইবায় চেয়ারম্যান স্যার চার বছরের আমলনামা (একাডেমিক সার্টিফিকেট) হাতে নিয়েই পরীক্ষার্থী সম্পর্কে একটি ধারণা করে ফেলেন। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিদিন পেপার পড়া, দেশ-বিদেশের খবর রাখা, ইংরেজি আর্টিকেল বা উপন্যাস পড়া ইত্যাদি অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। শেষ বর্ষ থেকে বিসিএসের সিলেবাস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে আস্তে আস্তে এ সম্পর্কিত পড়াশোনা শুরু করা যেতে পারে। একই সাথে একাডেমিক রেজাল্ট অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। বিসিএস প্রিলিমিনারিতে পাসের জন্য ২০০-তে ২০০ নাম্বারই অপরিহার্য নয়। ১৩০ বা ১৪০ নাম্বার টার্গেট করে টপিক ধরে ধরে স্ট্রং জোনগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। লিখিত পরীক্ষার আগে নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাসটা বিশেষ ফলপ্রসূ হয়ে থাকে। এতে বিশেষ করে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অংশের প্রিপারেশন খুব সহজেই হয়ে যায়। ভাইবার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে পুরো প্রিপারেশন বেশ কতগুলো ক্ষেত্রে ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। যেমন- নিজের সম্পর্কে, নিজের বিশ্ববিদ্যালয়, নিজ জেলা, নিজ পঠিত বিষয়, ক্যাডার চয়েসের প্রথম তিন ক্যাডার সম্পর্কে, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, চাকরিরত থাকলে সেই চাকরি সম্পর্কিত জ্ঞান ইত্যাদি।

জাগো নিউজ: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
শেখ ইমাম মোশারফ: নিজেকে গুছিয়ে নিতে এখন আপাতত নিজেকেই সময় একটু বেশি দিচ্ছি। যাই করি না কেন দিনশেষে তা যেন দেশ ও দশের কল্যাণে কাজে লাগে, সেদিকে সর্বদাই নজর রাখবো। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে লক্ষ্য আমরা হাতে নিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করার জন্য দেশের সব সেক্টরকে ডিজিটালাইজ করার সুদূরপ্রসারী চিন্তা রয়েছে। কম্পিউটার সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের হওয়ায় এ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখতে পারবো বলে আমি বিশ্বাসী।

এসইউ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।