রিমান্ড শেষে কারাগারে তৌহিদ আফ্রিদি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:১৯ পিএম, ৩০ আগস্ট ২০২৫
ফাইল ছবি

জুলাই আন্দোলনের সময়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে ‌‌‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ তৌহিদ আফ্রিদিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

শনিবার (৩০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট বিকালে শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত তৌহিদ আফ্রিদির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড চলাকালীন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তৌহিদ আফ্রিদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং মাই টিভির পরিচালক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি স্বৈরাচারী সরকারের পক্ষ নিয়ে লাইভে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং সেলিব্রেটি ও অন্য কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দিয়ে আন্দোলন বন্ধের জন্য প্ররোচিত করেছে। এক্ষেত্রে যারা দ্বিমত পোষণ করে তাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন

এতে আরও বলা হয়, আসামির উসকানিমূলক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে গুলিবর্ষণে মামলার ভিকটিম আসাদুল হক বাবু (২৪) মৃত্যুবরণ করে বলে তদন্তে প্রকাশ পায়। মামলার প্রকৃত ঘটনা, অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জন্য সাতদিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে হত্যায় সহায়তার অভিযোগ আনেন। এসময় তৌহিদ আফ্রিদি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নাকচ করেন।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেফতার করে সিআইডি। মামলায় তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর এবং তার বাবা নাসির উদ্দিন সাথী ২২ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। একই মামলায় নাসির উদ্দিন সাথীকে ১৭ আগস্ট গ্রেফতার করে রিমান্ড শেষে ২৩ আগস্ট কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়ে আসাদুল হক বাবু আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ৩০ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন মামলাটি করেন। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছিল।

এমআইএন/কেএইচকে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।