আসামি খালাস পাওয়ার অনেক কারণ থাকে : অ্যাটর্নি জেনারেল


প্রকাশিত: ০৩:৫৪ পিএম, ১৫ জুন ২০১৬
ফাইল ছবি

ফৌজদারি মামলায় আসামির খালাস পাওয়ার অনেক কারণ থাকে বলে মন্তব্য করেছন রাষ্ট্রের প্রধান আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।   

বুধবার চাঞ্চল্যকর আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ড মামলায় রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ার তিনি এ কথা বলেন।


রায়ে নিম্ন আদালত থেকে শাস্তি পাওয়া ১১ আসামি হাইকোর্টের রায়ে খালাস পেয়েছেন। আর দণ্ড কমেছে সাতজনের। দণ্ড হ্রাস ও খালাস প্রাপ্ত এসব আসামির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ।

তিনি বলেন, বেনিফিট অব ডাউটের (সন্দেহ থাকায় সুবিধা) জন্যেও খালাস পায়। আদালতের মনে যখন সন্দেহ হয় তখন খালাস পায়।

তিনি আরো বলেন, যারা অস্ত্র হাতে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের ব্যাপারেও আদালতে সাক্ষ্য প্রমাণ করা হয়েছে। এটা একটা ভীষণ জঘন্য রকমের হত্যাকাণ্ড ছিল। দীর্ঘদিন এই হত্যাকাণ্ডের আপিল শুনানি হয়েছে। আজকে রায় পাওয়া গেছে। যাদেরকে মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন এবং  খালাস দেওয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করবো।
 
বুধবার দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ। দুপুর ১টায় রায় পড়া শুরু হয়। শুরুতে কিছু অবজারভেশন দেন বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। এরপর রায়ের অপারেটিভ অংশ পড়ে শুনান অপর বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ।

এ মামলায় নিম্ন আদালতে ২৮ জন দণ্ড পেলেও হাইকোর্টে ১৪ জনের দণ্ড বহাল রয়েছে। এদের মধ্যেও বিদেশে পলাতক রয়েছেন পাঁচজন। এছাড়া খালাস পাওয়া ১১ জনের মধ্যেও তিনজন পলাতক। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে মাহবুবে আলম বলেন, আপিলে যদি আমরা ফল লাভ করি, তখন পরবর্তী পর্যায়ে আসবে এই পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া।

নিম্ন আদালতে রায়ের প্রায় ১২ বছর পর হাইকোর্টে আজ আপিলের রায় হল। এই দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচারে দেরি হওয়ার বিষয়টি আইনের দুর্বলতা নয়। এটি একটি আইনের শাসনের প্রতিফলন। কারণ, একটি লোককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে তড়িঘড়ি করে তার আপিল নিষ্পত্তি বা সর্বোচ্চ আদালতে বিচার নিষ্পন্ন করে ফেলা এটা ন্যায় বিচার ব্যাহত হয় বলে মনে করি। কারণ একটা সময় নিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করাতে আসামীপক্ষ তাদের কথা বলার জন্য যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ে যে আসামীরা খালাশ পেলেন তারাতো ১২ বছর ধরে জেলে আছে তাদের বিষয়ে মাহবুবে আলম বলেন, ফৌজদারী মামলায় আসামিরা খালাস পায় অনেক কারণে। বেনিফিট অব ডাউট (সন্দেহ থাকায় সুবিধা) এর জন্যেও খালাস পায়। আদালতের মনে যখন সন্দেহ হয় তখন খালাস পায়। যাদের সম্বন্ধে কোনো রকম সাক্ষ্য তথ্য-উপাত্ত আছে তাদেরই গ্রেফতার করা হয়, তাদের ব্যাপারে বিচার করা হয়। কিন্তু এতোদিন তারা জেলে ছিলো একথা বললে তো ক্রিমিনাল জাস্টিসই ওয়ার্ক করবে না।’

এফএইচ/এএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।