পুরান ঢাকায় সোহাগ হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন ১২ মার্চ
রাজধানীর পুরান ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (মিটফোর্ড) সামনে ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১২ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালত এ দিন ধার্য করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলাটির তদন্তে কিছু ত্রুটি ও অসংগতি থাকায় গত ২০ জানুয়ারি আদালত অধিকতর (পূর্ণাঙ্গ) তদন্তের নির্দেশ দেন। রোববার মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও জমা দিতে ব্যর্থ হন তদন্ত কর্মকর্তা।
এ অবস্থায় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ আদালতে অধিকতর তদন্তের সময়সীমা আরও ১৫ কার্যদিবস বাড়ানোর আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য সময় বৃদ্ধি প্রয়োজন।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার (বর্তমানে শাহবাগ থানায় কর্মরত) অফিসার ইনচার্জ (নিরস্ত্র) মো. মনিরুজ্জামান গত বছরের ৮ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে তদন্তে ত্রুটি থাকায় তা সংশোধনের লক্ষ্যে বর্তমানে অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে একদল ব্যক্তি ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে পাথর দিয়ে আঘাত ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় পরদিন ১০ জুলাই নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে গত ৮ ডিসেম্বর মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। বর্তমানে মামলার ১৩ জন আসামি কারাগারে রয়েছেন এবং আটজন পলাতক বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।
সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
এমডিএএ/এমএএইচ/