১২৩ বারের মতো পেছালো সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩৩ পিএম, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
ফাইল ছবি

সাংবাদিক দম্পতি সাগর–রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আবারও পিছিয়েছে। এই নিয়ে ১২৩ বারের মতো প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পরিবর্তন করা হলো। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক নির্ধারিত দিন প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হন। এ অবস্থায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

এই বহুল আলোচিত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রুনির বন্ধু তানভীর রহমান ছাড়াও রয়েছেন বাসার নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল এবং আবু সাঈদ। মামলার তদন্তে আসামিদের একাধিক দফা রিমান্ডে নেওয়া হলেও কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমদিকে মামলার তদন্তভার ছিল স্থানীয় থানার এক উপ-পরিদর্শকের হাতে। পরে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি।

পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটির তদন্তভার র‍্যাবের কাছে ন্যস্ত করা হয়। দীর্ঘদিন তদন্ত চললেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্তে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ র‌্যাবকে তদন্ত থেকে অব্যাহতি দিয়ে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এমডিএএ/এমআইএইচএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।