মানবতাবিরোধী অপরাধ
ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি পেশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী এম এ রাজ্জাক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ অসমাপ্ত অবস্থায় শুনানি আগামীকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
এর আগে, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে মামলার উদ্বোধনী বক্তব্য লিখিতভাবে আদালতে উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
সাক্ষী এম এ রাজ্জাক একসময় চাকরি করলেও বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তার ছেলে মো. আসিফ ইকবাল আন্দোলনে শহীদ হন।
এম এ রাজ্জাক জবানবন্দিতে বলেন, আমার ছেলে মনিপুর স্কুলে লেখাপড়া করত। একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করত। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনের জন্য মিরপুর-১০ এলাকায় যায়। সেদিন শুক্রবার ছিল।
এর আগে ২২ জানুয়ারি ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। একই সঙ্গে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের উদ্বোধনী বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার প্রসিকিউশন উদ্বোধনী বক্তব্য উপস্থাপন করে ও সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
এর আগে, গত ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি করে সেদিন ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। এই আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম না হওয়ায় ট্রাইব্যুনালে তাদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
এরপরও তারা গ্রেফতার বা হাজির না হওয়ায় তাদের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার হতে আইনে কোনো বাধা নেই।
প্রসিকিউশনের মতে, ওবায়দুল কাদের সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন, জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছে সেই গণহত্যার পরিকল্পনা, নির্দেশ এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একই সঙ্গে তার দলের অন্য নেতারা বিশেষ করে বাহাউদ্দিন নাছিম, আরাফাত পুরো প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে এই হত্যাকাণ্ডকে ফ্যাসিলিটেট করেছেন। ওই সময় পুলিশ বা অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি অক্সিলিয়ারি ফোর্স হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ সরাসরি আক্রমণে অংশগ্রহণ করেছে এবং নির্মম নিষ্ঠুরভাবে ছাত্রজনতার আন্দোলন দমনে তারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে,অত্যাচার করেছে, অঙ্গহানি করেছে।
প্রসিকিউশন জানায়, এসব কারণে ওবায়দুল কাদেরকে এখানে কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির কারণে এই মামলার আসামি করা হয়েছে। অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই শীর্ষস্থানীয় নেতা।
এফএইচ/এমএমকে