গাইবান্ধায় বসতবাড়ির আশপাশ ও কৃষিজমির অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের নির্দেশ
গাইবান্ধা জেলার আবাসিক ও বসতবাড়ির আশপাশ এবং কৃষিজমিতে বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
এ সংক্রান্ত রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তানজিমাতুল মাওয়া। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক।
জানা গেছে, কৃষি ও পরিবেশ রক্ষার জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ে গাইবান্ধার জেলার অবৈধ ইটভাটার তথ্য ও তালিকা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয় তাকে লিখিত তথ্য সরবরাহ করে।
তাতে দেখা যায়, গাইবান্ধার আওতাধীন অবৈধ ইটভাটা রয়েছে ১৭৯টি। এ তথ্য অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হলে জেলা প্রশাসক অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের কোনো পদক্ষেপ নেননি। তারপর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানাে হয়। নোটিশ পেয়েও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় রিট আবেদন করা হয়।
শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৬ মে আদালত রুল জারি করেন। রুলে গাইবান্ধা জেলায় লাইসেন্সবিহীন ১৭৯টি অবৈধ ইটভাটা কেন উচ্ছেদের পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
একই সঙ্গে ইটভাটা প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩ অনুযায়ী ১৭৯টি ইটভাটা উচ্ছেদ করতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত। কৃষি সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ১৫ জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, গাইবান্ধায় ১৫৮টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। রুল যথাযথ ঘোষণা করে হাইকোর্ট রায় দেয়।
আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক জানান, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩ এর ধারা (৫) মোতাবেক কৃষিজমিতে বা কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইট প্রস্তুত সম্পূর্ণ বেআইনি। অনুরূপভাবে ওই আইনের ৮ এর (ক) মোতাবেক আবাসিক বা বসতবাড়ির আশপাশ এবং ধারা-৫ মোতাবেক কৃষিজমিতে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন সম্পূর্ণ বেআইনি।
রিটে বলা হয়, আবাসিক বা পৌর ও শহর এলাকা ও কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপনের কারণে ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় লাখ লাখ লোকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি এবং নারিকেল-সুপারি শাস না থাকাসহ বিভিন্ন ধরনের ফলের শাকসবজি এবং ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হয়। ইটভাটার কারণে নিম্ন তফসিলি জমিসহ কয়েক হাজার একর সম্পত্তিতে খাদ্যশস্য উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়। এভাবে ফসলি জমির মাটি, ইটভাটা কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করবে।
এফএইচ/এমকেআর