খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার: গ্রেফতার শাহীন ৫ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৫ পিএম, ০২ মার্চ ২০২৬
খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের আলোচিত ঘটনায় গ্রেফতার আসামি শাহীন

রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের আলোচিত ঘটনায় গ্রেফতার আসামি শাহীনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে শাহীনকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

এর আগে, রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের কাটা হাত, পা, মাথাসহ দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুই হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তার নাম ওবায়দুল্লাহ। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের রুমমেট শাহীনকে গ্রেফতার করা হয়।

রোববার মিন্টো রোডে অবস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ জানান, অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়া-বিবাদের জেরে ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করেন শাহীন।

পুলিশ জানায়, নিহতের দেহের একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। সেটি আমিনবাজার সালিপুর ব্রিজ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে শাহীন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিসি হারুন-অর-রশীদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করা হয়। পরে রাত ৯টার পর বিভিন্ন স্থানে খণ্ডিত দেহাবশেষ ফেলে দেওয়া হয়। ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং শাহীন হিরাঝিল হোটেলে চাকরি করতেন। তারা মতিঝিলের কবি জসীম উদ্‌দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে একসঙ্গে ভাড়া থাকতেন।

ঘটনার বর্ণনায় পুলিশ জানায়, রাতে সিগারেট ও খাবার আনা নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। পরে ঘুমানোর সময় কথা বলা নিয়ে বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে ঝগড়ার মধ্যে শাহীন চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে। পরে মরদেহ খণ্ডিত করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।

পুলিশের তথ্যমতে, নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের একটি গেটের পাশে একটি পা, কমলাপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মাথা এবং মতিঝিলের একটি ময়লাবোঝাই কনটেইনারে ড্রামভর্তি দেহাংশ ফেলা হয়। এছাড়া আমিনবাজার এলাকায় আরও অংশ ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আসামি।

পুলিশ জানায়, সাইকেলে করে খণ্ডিত দেহাংশ ফেলার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। শাহীন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে এবং তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পরও শাহীন স্বাভাবিকভাবে কর্মস্থলে যাতায়াত করছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাকে হিরাঝিল হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়।

আদালতের আদেশের পর পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে শাহীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমডিএএ/এএমএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।