শেয়ার জালিয়াতি
এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি ইউসুফের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকার বেসরকারি কনটেইনার ডিপো ইনকনট্রেড লিমিটেডের শেয়ার জালিয়াতির এক মামলায় বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
সোমবার (১৬ মার্চ) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিকের আদালত ব্যবসায়ী আমিরুল হকের করা মামলায় এ পরোয়ানা জারি করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল হাসেম।
আমিরুল হক দেশের আরেক শীর্ষ শিল্প গ্রুপ সীকম গ্রুপের চেয়ারম্যান। ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এফবিসিসিআইয়ের ১৯৯৬-১৯৯৮ এবং ২০০০-২০০৩ মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) সংসদীয় আসনে ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র এবং ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
আদালতের নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, ২০০৬ সালে আমিরুল হক ও তার স্ত্রী নাসিরা সুলতানা বেসরকারি কনটেইনার ডিপো ইনকনট্রেড লিমিটেডের মোট ২ হাজার ৩০০ শেয়ারের বিপরীতে ৫০০ শেয়ারের মালিকানা অর্জন করেন। পরবর্তীতে ২০০৭ ও ২০০৯ সালে কোম্পানির শেয়ার বৃদ্ধি করা হলেও শেয়ার হোল্ডার আমিরুল হক ও তার স্ত্রীকে সে বিষয়ে জানানো হয়নি। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরের ১০ ডিসেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই।
পিবিআই তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়ের নোটিশ না দিয়েই জাল রেজুলেশন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বৃদ্ধি করা হয় এবং সেই শেয়ার এককভাবে নিজের নামে বরাদ্দ নেন ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন। তদন্তে আরও উঠে আসে, প্রথম দফায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৭টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৬ লাখ ২৭ হাজার ৫৩৩টি শেয়ার বৃদ্ধি করে মোট প্রায় ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০টি শেয়ার নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন। এসব শেয়ারের বাজারমূল্য প্রায় ৯ কোটি ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় পিবিআই তদন্তে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ১০৯, ৫০৬ ও ৩৪ ধারার অপরাধের সত্যতা পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহসিন সরকারের বিরুদ্ধেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এমডিআইএইচ/এমএমএআর