শিশির মনির
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান সংস্কারগুলোর বিরোধিতা করছে সরকার
জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, গণভোট, বিচারপতি নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও ব্যাংক সংস্কার অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগগুলোর বিরোধিতা করছে বিএনপি সরকার।
সোমবার (৩০ মার্চ) সুপ্রিম কোর্ট অ্যানেক্স ভবনের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
শিশির মনির দাবি করেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কারগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১২টি অকার্যকর করা, তিনটি বাতিল এবং ১৩টি পর্যালোচনা করে নতুনভাবে প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক অধ্যাদেশ মেনে নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোই বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিশির মনির বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ, বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ, বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় অধ্যাদেশ, গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও ব্যাংক সংস্কার অধ্যাদেশ— এসবই প্রধান সংস্কার উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত। তিনি দাবি করেন, এসব উদ্যোগের বিরোধিতার মাধ্যমে সরকার মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত সরকারের ১৮ মাসের অর্জনকে অস্বীকার করছে।
আপনারা দেখতে পেয়েছেন যে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গৃহীত ১৩৩টি অধ্যাদেশ মহান জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
এসংক্রান্ত একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে। এ বিশেষ কমিটির গতকাল রাতে পর্যালোচনা বৈঠক শেষ হয়েছে। আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে মহান জাতীয় সংসদে এ ব্যাপারে রিপোর্ট পেশ করার দিন ধার্য আছে। আপনারা দেখবেন যে গণভোট অধ্যাদেশকে অকার্যকরা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ, গণভোট অধ্যাদেশের আর কোনো কার্যকারিতা নেই। সে জন্য এটি অটোমেটিক বাতিল হয়ে যাবে মর্মে।
গতকাল মতামত প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে এই ধারণা সঠিক নয়। গণভোট অধ্যাদেশ সরাসরি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ধারা ৬ এবং বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্বাচনের তফসিলের সঙ্গে সংযুক্ত।
এতে বলা হয়, নির্বাচনের তফসিল এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ধারা ৬ ও গণভোট অধ্যাদেশের শিডিউলে উল্লিখিত ৩০টি ঐক্যমত্য বিষয় একে অপরের সঙ্গে এতভাবে যুক্ত যে এগুলোর মধ্যে কোনো একটি আলাদা করলে অন্যটি কার্যত মৃতপ্রায় হয়ে যাবে।
তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সবগুলো অধ্যাদেশ একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। ধারা ছয় অনুযায়ী, গণভোট অধ্যাদেশ নির্বাচন কমিশনকে গণভোট সংগঠনের লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করার সুযোগ দেয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ধারা ছয়ের আলোয়ই গণভোট অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। তাই যদি এটিকে বাতিল করা হয়, তাহলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের বৈধতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলা হবে। একই কারণে, এ অধ্যাদেশ বাতিল করা উচিত নয় এবং পাস করাটাই যৌক্তিক বলে তিনি মত দিয়েছেন।
শিবিরের সাবেক এ নেতা আরও বলেন, গুম ও মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধনের মাধ্যমে গুমে জড়িত বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা দৃষ্টান্তহীনভাবে দোষমুক্ত হতে পারবে। বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল করলে দলীয় স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের সুযোগ আবার তৈরি হবে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে। ব্যাংক সংস্কার আইন অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে সেক্টরে লুটপাটকারীদের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
এফএইচ/এমএএইচ/