কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের ওপর হামলা, দুপুরে মামলার শুনানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৩ এএম, ১২ এপ্রিল ২০২৬
গ্রেফতার আসামিকে আদালতে আনা হয়/ ছবি: জাগো নিউজ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে মাদকসেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষক ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজ (রোববার) দুপুরে পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গ্রেফতার আসামি এহসানুর হক মাহিমকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তানভীর আহমেদ শুনানি শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষকের আইনজীবী খালিদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।

খালিদ হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনার পর পুলিশ মাহিমকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করেছিল। পরে বিচারক শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন এবং আজকের তারিখে পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করেছিলেন।

ঘটনায় ভুক্তভোগী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইসলাম কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেছিলেন, অভিযুক্ত মাহিম তার বাড়ির গলিতে বিভিন্ন সময় আড্ডাবাজি ও মাদক সেবন করতেন। এ বিষয়ে তার বাবা মো. নজরুল ইসলাম (৬৭) বাধা দিলে অভিযুক্ত তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছিল, ৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে কালিন্দী ইউনিয়নের মাদারীপুর সড়ক-২ এলাকায় তাদের বসতবাড়ির সামনে মাহিম আড্ডা দেওয়ার সময় নজরুল ইসলাম তাকে নিষেধ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছিলেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত তাকে মাটিতে ফেলে শারীরিক নির্যাতন করে। ঘটনায় তার বাম চোখের নিচে লেগে রক্তাক্ত গুরুতর জখম হয়েছিল।

এসময় শিক্ষক রাইসুল ইসলাম এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করলে তাকেও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল, এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছিল।

পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছিল। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বলে জানা গিয়েছিল।

ঘটনার পরদিন থানায় অভিযোগ জানিয়ে মামলা করতে গেলে প্রথমে অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। পরে গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছিল।

এদিকে শুক্রবার আদালতে আসামিকে হাজির করার সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানিয়েছিলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছিল এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান ছিল। আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া হবে।

এমডিএএ/এমআইএইচএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।