এতে কি পুলিশের মর্যাদা বাড়বে?


প্রকাশিত: ০৪:৫২ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৬

‘মানুষের জান-মাল রক্ষা পুলিশের দায়িত্ব। তারাই বাড়ি-ঘরে আগুন দিচ্ছে। এমন ভিডিও ফুটেজ আল-জাজিরায় গেছে। সারা পৃথিবী তা দেখেছে। এতে কি পুলিশের মর্যাদা বাড়বে?’

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশ আগুন ধরিয়েছে এম খবরের বিষয়ে আইনজীবী নুরুল ইসলাম সুজন এমপিকে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট আদালত এসব কথা বলেন। একইসঙ্গে দেশের আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণের প্রতি মনোযোগী হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গাইবান্ধায় সাঁওতালদের উপর হামলার ঘটনায় জারি করা রুলের সোমবার শুনানির এক পর্যায়ে পুলিশ বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব এ প্রশ্ন তোলেন।

আদালত বলেন, ‘দেশটা গড়েন। সুন্দর দেশ গড়তে পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণের প্রতি দৃষ্টি দেন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাদের কি শিখানো হয়। এসপি ডিসির পদোন্নতি কিভাবে হয় তা আমাদের জানা আছে। সারদায় (পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) ট্রেনিংয়ে কি শিখানো হয়।’

সম্প্রতি গাইবান্ধায় পুলিশ কর্তৃক সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়ার ভিডিও ফুটেজ বিদেশি চ্যানেলে (আল-জাজিরা) প্রকাশিত হয়। এমন তথ্য সম্বলিত বিষয় আদালতের সামনে উত্থাপন করার পর আদালত গাইবান্দার জেলা প্রশাসক (ডিসি)-এর পক্ষে আইনজীবী নুরুল ইসলাম সুজন এমপিকে উদ্দেশ্য করে এসব প্রশ্ন তোলেন।

এর আগে পুলিশ ও মিল কর্তৃপক্ষের উপর হামলাকারীদের ‘বাঙালি দুষ্কৃতিকারী’ বলায় গাইবান্ধা জেলায় দায়িত্বরত বিশেষ শাখার (এসবি) পুলিশ সুপারকে তলব করে আদেশ দেন হাইকোর্ট। আগামী ২ জানুয়ারি (সোমবার) এসপিকে আদাতে হাজির হয়ে ‘বাঙালি দুস্কৃতিকারী’ কেন বলেছেন তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে ‘বাঙালি দুষ্কৃতিকারী’ শব্দ ব্যবহার করায় গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক আবদুস সামাদ হাইকোর্টের কাছে আজ (সোমবার) নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। আদালতে তিনি বলেছেন, ‘ভুল করেছি। ভবিষ্যতে শব্দ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার অঙ্গীকার করছি।’ পরে আদালত তাকে অব্যাহতি দেন। তবে ভবিষ্যতের জন্য তাকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তবে প্রশাসকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসবির এসপিকে তলব করেন আদালত।

গত ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চিনিকল কর্মী, সাঁওতাল ও পুলিশের সংঘর্ষের সময় চারজন নিহত ও বহু লোক আহত হন। ওই ঘটনায় ইতোমধ্যে হাইকোর্টে পৃথক তিনটি রিট আবেদন হয়েছে। এছাড়া ওই হামলার ঘটনায় গত ৩০ নভেম্বর গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও চিনিকল কর্তৃপক্ষের দেয়া তিনটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

প্রতিবেদন দেখার পর গত ৬ ডিসেম্বর গাইবান্ধার জেলা প্রশাসককে তলব করেন হাইকোর্ট। এ নির্দেশে আজ (সোমবার) জেলা প্রশাসক আবদুস সামাদ হাইকোর্টে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

একইসঙ্গে হামলার বিষয়ে মামলাকারী স্বপন মূর্মূকে হাইকোর্টে হাজির করা হয়। পরে বিচারকের খাসকামরায় তাদের জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়। এ সময় ডিসির পক্ষে অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন এমপি, রিটকারীপক্ষে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও ওবায়দুর রহমান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু উপস্থিত ছিলেন।

পরে আসকের আইনজীবী ওবায়দুর রহমান আদালতে বলেন, স্বপন মূর্মূর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। আদালত চাইলে এর সিডি দাখিল করতে পারি। এখানে স্বপন মূর্মূকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশই সাওতালদের বাড়িতে আগুন দিয়েছে’। এ সময় আদালত বলেন, আমরা সেটা দেখবো।

এরপর ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাওতালদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়ার ছবির ফটোকপি আদালতে দাখিল করেন এবং বলেন, এখানে দেখা যাচ্ছে পুলিশই আগুন দিচ্ছে। তাই পুলিশ দিয়ে তদন্ত করলে সঠিক হবে না। এ জন্য আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছি।

এ সময় সব বিষয় দেখে ১৪ ডিসেম্বর (বুধবার) আদেশ দেয়া হবে বলে মামলার কার্যক্রম মূলতবি করেন।

এফএইচ/আরএস/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।