বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের ফলে সন্তান জন্মদানের ঘটনায় মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মো. এরশাদ আলম (জর্জ)।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আসামি জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর পূর্বপরিচয় ছিল। ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মারা যাওয়ার পর আসামি তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি এবং সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর কাফরুল থানাধীন ইব্রাহিমপুর এলাকার একটি বাসায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। পরে ভুক্তভোগী নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আসামি তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন।
তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগী নারী একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। আদালতের নির্দেশে নবজাতক ও আসামির ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। সিআইডির মালিবাগ ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় জাহাঙ্গীর হোসেনই ওই নবজাতকের জৈবিক বাবা। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর পুলিশ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
বিচারকালে প্রসিকিউশন পক্ষ পাঁচজন সাক্ষী আদালতে উপস্থাপন করে। আসামিপক্ষ দাবি করেছিল যে সম্পর্কটি পারস্পরিক সম্মতিতে ছিল। তবে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ে আদালত সন্তানের ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। দণ্ডিত আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সন্তানের ২১ বছর বয়স পর্যন্ত ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি আসামির সম্পত্তি থেকে ভরণপোষণ সম্ভব না হয়, তবে আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রকে এই দায়িত্ব বহন করতে হবে।
এমডিএএ/বিএ