সাংবাদিক নির্যাতনে তদন্তের নির্দেশ
মাদারীপুরের কালকিনিতে দৈনিক যায়যায়দিন’র উপজেলা প্রতিনিধি শহিদুল ইসলামকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
‘গাছে বেঁধে সাংবাদিক নির্যাতন’ শিরোনামে অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।
আদেশে বলা হয়, এসপি’র সমমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করতে হবে। তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৪ মে’র মধ্যে আদালতে দাখিলেরও নির্দেশ দেয়া হয়।
একই সঙ্গে গাছে বেঁধে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত দোষীদের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ, মাদারীপুর জেলার এসপি, কালকিনি থানার ওসি-সহ সংশ্লিষ্টদের ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাদারীপুরের কালকিনিতে দৈনিক যায়যায়দিনের উপজেলা প্রতিনিধি শহিদুল ইসলামকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাকে এ নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করতে চাইলেও তা নেয়নি পুলিশ। উল্টো শুক্রবার রাতে তার বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে গতকাল শনিবার কারাগারে পাঠানো হয়।
ওই ঘটনায় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলে নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে স্থানীয় দৈনিক সুবর্ণগ্রাম কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা হয়। এছাড়া রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।
শহিদুল ইসলাম কালকিনি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে নির্বাচনী প্রচারের সংবাদ সংগ্রহ করতে পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নে যান শহিদুল ইসলাম। তিনি নির্বাচনী প্রচারের ছবি তুলতে গেলে তার ওপর আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যানপ্রার্থী বাদল তালুকদার ও তার সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায়। শহিদুলের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট ও ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। তাৎক্ষণিক খবর দিলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কালকিনি থানায় নিয়ে যায়। এ সময় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর ছোট ভাই সরোয়ার তালুকদার (৩০) ও নাজমুল খান (১৭) নামে দু’জনকে আটক করা হয়। বিকেলে শহিদুল ওই ঘটনায় থানায় মামলা করতে চাইলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের চাপের মুখে পুলিশ মামলা না নিয়ে তাকে আটকে রাখে। সন্ধ্যায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। রাতে চাঁদাবাজির মামলায় শহিদুলকে গ্রেফতার করে কালকিনি থানা পুলিশ। রোববার সকালে শহিদুলকে আদালতে নেয়া হয়। আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ওই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে দৈনিক সুবর্ণগ্রাম কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রুবেল খান, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর মাহমুদ আবীর, ছাত্রলীগের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম মিলন, যুবলীগ নেতা আবু সাঈদ রাজু, মাহমুদ হাসান সোহান, ফোরকান আহম্মেদ নাইম, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মিন্টু, সাব্বির হোসেন আজিজ, আরিফুর রহমান, সাংবাদিক শহীদুল ইসলামের ভাই সাইদ সরদার ও স্ত্রী সালমা বেগম প্রমুখ।
সভায় দ্রুত শহিদুল ইসলামের মুক্তিসহ তার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতের শাস্তির দাবিতে রবিবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়।
এফএইচ/এমএআর/জেআইএম