‘সংসদকে ‘ইমম্যাচিউর’ বলা ঠিক হয়নি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৬ পিএম, ০৯ আগস্ট ২০১৭ | আপডেট: ০৯:০৪ পিএম, ০৯ আগস্ট ২০১৭
‘সংসদকে ‘ইমম্যাচিউর’ বলা ঠিক হয়নি’

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের দেয়া রায়ে ইস্যুর বাইরে অনেক অযাচিত মন্তব্য করা হয়েছে বলে মতামত দিয়েছেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। তিনি বলেন, ‘ওই রায়ে পার্লামেন্ট মেম্বারদের ‘ইমম্যচিউর’ বলা হয়েছে। যেটা এখানে বলার কোনো দরকার ছিল না।’

বুধবার জাতীয় আইন কমিশনে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘রায়ে জুডিশিয়ারির বাইরে অনেক মন্তব্য করা হয়েছে। যার প্রয়োজন ছিল না। এই প্রথম কোনো রায় সামরিক শাসনের পক্ষে গেছে।’ রায়ে সংসদকে ‘ইমম্যাচিউর’বলাও ঠিক হয়নি বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমি ষোড়শ সংশোধনীর রায় পড়ে দেখেছি যে এই রায়ে অনেক অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য রয়েছে। যেসব কথার কোনো প্রয়োজনই এই রায়ে ছিল না।

সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। যেকোনো রায় প্রকাশ হওয়ার পর দেশের যে কেউ সেই রায় নিয়ে সমালোচনা করতে পারবে।

তিনি বলেন, সংসদ ভুল করলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সুযোগ আছে, সুপ্রিম কোর্ট ভুল করলে আমরা যাবো কোথায়?

ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের মাধ্যমে বহাল হওয়া সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রসঙ্গে এবিএম খাইরুল হক বলেন, ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে ফিরতে হলে আগে এ সংক্রান্ত আইন করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই প্রথম কোনো রায়ে দেখলাম যেখানে অরিজিনালকে বাদ দিয়ে মার্শাল ‘ল এর প্রভিশনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’

গত ১ অাগস্ট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। ওই দিন সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৯৯ পৃষ্ঠার ওই রায় প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত রায় অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের সুপারিশ করার ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতেই ফিরেছে।

চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের যে সংশোধন আনা হয় তা সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে, গণতন্ত্র, রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, সুশাসন, দুর্নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। যা প্রয়োজন ছিল না বলেও জানান সাবেক প্রধান বিচারিপতি এবিএম খায়রুল হক।

এফএইচ/এসএইচএস/এমএস