বুয়েটের তিন শিক্ষককে হাইকোর্টে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫৫ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৮:২৩ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তিন ছাত্রীকে ইভটিজিং এবং এক ছাত্রকে শারীরিক নির্যাতন করার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির তিন শিক্ষককে তলব করেছেন হাইকোর্ট। রিটকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার এবিএম আলতাব হোসেন জাগো নিউজকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিন শিক্ষক হলেন- তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. কামরুল আহসান, যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও কমিটির সদস্য ড. মো. মাকসুদ হেলালী এবং পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. রওশন মমতাজ।

এই তিন শিক্ষককে ২৪ জানুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে ওই ঘটনা নিয়ে তৈরি করা তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন আদালত।

এক রিট আবেদনের শুনানির পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এবিএম আলতাফ হোসেন, তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট শুভজিৎ ব্যানার্জি শুভ।

২০১৫ সালে বুয়েটে অনুষ্ঠিত র্যাগিংয়ের সময় এক ছাত্রর বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তিন ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিন আবাসিক হল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার ও পরীক্ষায় অংশ নেয়া বিষয়ক একটি শাস্তি দেয়া হয়। এর বিরুদ্ধে ওই সময়ে তিন ছাত্রীর পক্ষে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন। রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

আইনজীবী আলতাফ হোসেন জানান, র্যাগিংয়ের সময় ওই তিন ছাত্রী এক ছাত্রের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে। ওই কমিটি ওই বছরের ৩ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। এদিকে মেয়েরা বিভিন্ন চাপে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলেও ২৭ জুলাই তাদের শাস্তি দেয়া হয়।

ওই শাস্তির আদেশে বলা হয়, ‘২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ইভটিজিংয়ের বিষয়ে তোমাদের দাখিল করা লিখিত অভিযোগপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্তের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ এবং বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিনের সামনে তোমাদের বক্তব্য পুঙ্ক্ষানুপুঙক্ষভাবে পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধ নির্ধারণপূর্বক অডিন্যান্স রিলেটিং টু দ্য বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ডডিসিপ্লিন এর ৫ এবং ২৪ ধারা অনুযায়ী সর্বসম্মতভাবে তোমাকে দোষী সাব্যস্ত করে নিম্নবর্ণিত শাস্তি দেয়া হয়েছে।

প্রথম : তোমাকে চলতি টার্মসহ পরবর্তী দুই টার্মের জন্য (মোট তিন টার্ম) একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হলো।
দ্বিতীয় : তোমাকে আবাসিক হল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হলো/আবাসিক ছাত্রী হওয়ার অনুপযুক্ত। ইচ্ছা করলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ শাস্তি পুর্নবিবেচনা করার জন্য একাডেমিক কাউন্সিলের নিকট আপিল করতে পারবে।’

পরে একাডেমিক কাউন্সিলে আপিলের পরও শাস্তি বহাল রাখা হয়েছে বলে ২ আগস্ট এক চিঠিতে জানান রেজিস্ট্রার।

আইনজীবী আলতাফ হোসেন আরও জানান, তাদের এই শাস্তি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনলোজি অর্ডিন্যান্স ১৯৬১ এর ধারা ৬ এর লঙ্ঘন। ফলে ওই শাস্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করলে ওই বছরের আগস্ট মাসেই হাইকোর্ট তাদের শাস্তি স্থগিত করে রুল জারি করেন।

সেই রুলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বুয়েটের আইনজীবীর উপস্থাপিত ওই তদন্ত প্রতিবেদনে ইভটিজিংয়ের ঘটনায় সত্যতার দেখা মেলে। এ কারণে প্রতিবেদনের বিষয়ে তদন্ত কমিটির তিন সদস্যকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।

এফএইচ/জেডএ/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :