পুলিশ কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র ত্রিপুরাকে হাইকোর্টে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১৭ পিএম, ৩০ জানুয়ারি ২০১৮

গুলিভর্তি পিস্তলসহ হজরত শাহজালাল অন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী আটকের পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার ঘটনায় ওই সময়ের উত্তরা জোনের ডিসি বিধান চন্দ্র ত্রিপুরাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। তাকে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি স্বশরীরে হাজির হয়ে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত রুলের শুনানিতে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ। পুলিশ অফিসারের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন।

ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার বিষয়ে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর-ই-আজম মিয়া ও উপপরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত সাহার বিরুদ্ধে আদেশের জন্য নির্ধারিত দিন ধার্য ছিল আজ। কিন্তু আদেশ না দিয়ে আদালত পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষে থাকা আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়নকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, এখন তো আইনানুসারে না হয়ে টেলিফোনেই সব হয়। উত্তরা জোনের ডিসি বিধান চন্দ্র ত্রিপুরার মৌখিক নির্দেশেই গুলিভর্তি পিস্তলসহ আটক যাত্রীকে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর আদালত উত্তরা জোনের ডিসি বিধান চন্দ্র ত্রিপুরাকে তলব করেন।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি এ ঘটনার জন্য আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর-ই-আজম মিয়া ও উপপরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত সাহা। নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলে হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের ভর্ৎসনা করেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত প্রকাশিত খবরটি আদালতের নজরে আনেন আইন কর্মকর্তা ফরহাদ আহমেদ।

আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারির পাশাপাশি বিমানবন্দর থানার ওসি ও এসআইকে তলব করেন। আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে তাদের এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ বলেন, বিমানবন্দর হচ্ছে দেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গাগুলোর একটি। সেখানে দুই-তিনটি নিরাপত্তা বেষ্টনি পার হওয়ার পর ব্যাগে গুলিভর্তি পিস্তল ধরা পড়ে। অস্ত্রসহ যিনি ধরা পরেন তার নাম আজমত রহমান। তিনি ফারমার্স ব্যাংকের পরিচালক। তার বাবা আতাহার উদ্দিন ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে যে কোনো নাগরিকের দায়িত্ব বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আদালতের নজরে আনা। সংশ্লিষ্ট আদালতের আইন কর্মকর্তা হিসেবেই বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়।

এফএইচ/এআরএস/পিআর