জামিন জালিয়াতির তথ্য জানালেন অ্যার্টনি জেনারেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:১৬ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের কাছে আসামিদের জামিন জালিয়াতির তথ্য তুলে ধরেছেন অ্যার্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম। রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধান বিচারপতিকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে রাষ্ট্রের প্রধান এ আইনজীবী বলেন, ‘ইতোমধ্যে আদালতের রায় নিয়ে জাল-জালিয়াতি শুরু হয়ে গেছে। আদালত থেকে জামিন দেয়া হয়নি অথচ জামিনের কাগজ তৈরি করে আসামিরা জেল থেকে বেরিয়ে গেছে। এসব দুর্নীতির বিষয়ে আপনি ব্যবস্থা নেবেন। কীভাবে ইনফরমেশন টেকনোলজিকে আদালতের কাজে আরো ব্যবহার করা যায় সে ব্যাপারে নিশ্চয়ই আপনি ব্যবস্থা নেবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’

মাহবুবে আলম বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আপনি শপথ নিয়েছেন। আজ (রোববার) আমরা এ শুভ সকালে আপনাকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য এখানে সমবেত হয়েছি। সারা দেশের প্রায় পঞ্চাশ হাজার আইনজীবী এবং আজ এখানে যারা বিজ্ঞ আইনজীবী উপস্থিত আছেন তাদের পক্ষ থেকে বারের নেতা বা লিডার অব দি বার হিসেবে আমি আপনাকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বিচারপতি হিসেবে আপনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। মালয়েশিয়া, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, হংকং ও ফিলিপাইনে গিয়েছেন। সাফল্যের সঙ্গে ওইসব সেমিনারে দেশের পক্ষ থেকে আপনার বক্তব্য ও মতামত উপস্থাপন করেছেন।

বিভিন্ন সময়ে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের দেয়া রায়ের প্রসঙ্গ টেনে অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, ‘আপনি আপনার বিচারিক জীবনে ইতোমধ্যেই অনেকগুলো উল্লেখযোগ্য মামলায় রায় দিয়েছেন। ওই রায়গুলো দেশে এবং বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। আপনার ওইসব রায়ের ভেতরে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি বনাম বাংলাদেশ সরকার, যা ২৯ বি এল ডি-এর ৩৭৫ পৃষ্ঠায় এবং ২০০৯ সালের বি এল সি-এর ৪৮৮ পাতায় ছাপা হয়। আমাদের দেশের নারীরা জীবন-জীবিকার তাগিদে কর্মজীবী হন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সেইসঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত মেয়েরাও এ হয়রানির হাত থেকে রেহায় পায় না। এ বিষয়ে আপনি যৌন হয়রানির সংজ্ঞা এবং এ হয়রানি নিরসনের জন্য আপনার রায়ে যা উল্লেখ করেছেন তা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।’

‘অপর একটি মামলা অর্থাৎ বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি বনাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যা ৬১ ডি এল আর-এর ৩৭১ পাতায় ছাপা হয়। ওই মামলাটি নিষ্পত্তি করতে গিয়ে আপনি সন্তানের পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব নির্ধারণের জন্য ডি এন এ টেস্টের আদেশ দেন। ফলে এ আদেশের মাধ্যমে বিচারের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের প্রয়োগ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়’-বলেন মাহবুবে আলম।

আপনি হাইকোর্টে থাকাকালীন দীর্ঘ সময় রিট বেঞ্চে আসীন ছিলেন এবং সে সময় উল্লিখিত দুটি মামলা ছাড়াও বহু মামলার রায় দিয়েছেন, যা সময়ের অভাবে আর উল্লেখ করলাম না।

আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সমিতির সাবেক সভাপতি, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল, সিনিয়র আইনজীবীরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এফএইচ/জেডএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :