প্রশ্ন ফাঁস মাদকের মতো ভয়াবহ : হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১২ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৩:১৭ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

মাদকের মতো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে প্রশ্নপত্র ফাঁস। মাদক যেভাবে তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে প্রশ্ন ফাঁসও তেমনি দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে। এ সময় আদালত নীরব দর্শকের মতো বসে থাকতে পারে না।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয় নিয়ে দায়ের করা এক রিটের শুনানিতে হাইকোর্ট এসব কথা বলেছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।

চলমান এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ২০ জনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী জৌর্তিময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানান, আদালত আরও বলেছেন, চলমান এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করার জন্য তিনজন জেলা জজের সমন্বয়ে বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করা উচিত। এছাড়া এসব বিষয় টেককেয়ার করতে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের দিয়ে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি করা উচিত।

আদালতে এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। তখন আদালত কমিটির অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চান এবং পরবর্তীতে আদেশ দেবেন বলে জানান।

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা মাদকের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেন, যে কোনোভাবেই তা বন্ধ করতে হবে। উচ্চ আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে।

এর আগে এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার পরিপ্রেক্ষাপটে পরীক্ষা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আইনুর নাহার সিদ্দিকা, শিকদার মাহমুদুল রাজি, মোহাম্মদ রাজু মিয়া ও আইনজীবী নূর মুহাম্মদ আজমী।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ফাঁস হতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগেরও দাবি ওঠে। এমনকি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আইনি নোটিশও পাঠানো হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল খায়রুন নেসা।

এফএইচ/আরএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :