প্রশ্ন ফাঁস রোধে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ নয় : হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৩০ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৩:২২ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
প্রশ্ন ফাঁস রোধে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ নয় : হাইকোর্ট

এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, আইন সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের ড্রাফটিং উইংয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, তথ্য প্রযুক্তি সচিব, বিটিআরসির সচিব-চেয়ারম্যান, বিটিসিএলের চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক-চেয়ারম্যান, ঢাকা-রাজশাহী, কুমিল্লা-যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল সিলেট, দিনাজপুর উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডর চেয়ারম্যান এবং পুলিশের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল খায়রুন নেসা।

এর আগে চলতি এসএসসি পরীক্ষা বাতিল করে নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া, ফাঁসের ঘটনায় বিচারিক ও প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অপরাধে দণ্ডরোপে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট দায়ের করেন আইনুন নাহার সিদ্দিকাসহ তিন আইনজীবী। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতেই রুল জারি করেন আদালত।

আইনুন্নাহার নিজেই আদালতের আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন সংযুক্ত করে বুধবার রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আইনুন্নাহার সিদ্দিকা, সিকদার মাহমুদুর রাজি, মো. রাজু মিয়া ও নূর মোহাম্মদ আজমী।

আইনজীবী আইনুন্নাহার সিদ্দিকা জানান, আদালত একটি রুল জারি করেছেন। এ ছাড়া বিচারিক ও প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠন করে দেবেন আদালত। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে বলেছেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি হচ্ছে।

তখন আদালত বলেছেন, দুপুর ২টার মধ্যে প্রশাসনিক কমিটিতে কারা কারা থাকছেন তা জানাতে। ওই সময় কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেবেন আদালত।

রিটের প্রাথমিক শুনানির পর আদালত থেকে বের হয়ে আইনজীবী আইনুন্নাহার সিদ্দিকা বলেন, আদালত একটি রুল জারি করেছেন। এছাড়া বিচারিক ও প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠন করে দিবেন আদালত। এ সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান আদালতে বলেছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তখন আদালত বলেছেন, প্রশাসনিক কমিটিতে কারা কারা থাকছেন তা দুপুর ২টায় জানাতে। ওই সময় কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেবেন আদালত।

রুলে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে দুই সপ্তাহের রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরে এসএসসির যতগুলো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে তার সব ক’টির প্রশ্নই ফাঁস হয়েছে। এসব অভিযোগে ছাত্র-শিক্ষকসহ অনেককে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

প্রশ্ন ফাঁস রোধের ব্যাপক তর্জনি-গর্জনির মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর তিনদিন আগে থেকে শুরু করে সব পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত দেশে সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে বলেও সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে যদি আসল প্রশ্নপত্র মিলে যায় সেক্ষেত্রে পরীক্ষা বাতিল করা হবে বলেও জানায় শিক্ষামন্ত্রণালয়।

এরই মধ্যে পরীক্ষা শুরুর পর প্রতিটি পরীক্ষার প্রশ্নই ফেসবুকে ফাঁস হয়ে যায় বলে গণমাধ্যমগুলোতে খবর রয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় তা মানতে নারাজ।

প্রশ্নফাঁস রোধে ইন্টারনেটের গতি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে সেখান থেকে আবার পিছু হটে সরকার।

এফএইচ/এনএফ/পিআর