ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতি : বাবুল চিশতী আরও ২ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫৩ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০১৮

ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকটির অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীর (বাবুল চিশতী) অাবারও দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে দুদক। এসময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আবারও পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম ফাহাদ বিন আমিন চৌধুরি দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ১০ এপ্রিল ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলার চিশতীর পাঁচদিন ও তার ছেলেসহ বাকি তিনজনের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এরপর বুধবার চারদিনের রিমান্ড শেষে বাবুল চিশতীর ছেলেসহ তিনজনকে আদালতে হাজির করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এসময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক শামছুল আলম। অন্যদিকে তাদের আইনজীবী নজিবুল্লাহ হিরু জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে পাঠানোর তিন আসামি হলেন- চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ব্যাংকের এসভিপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুদুর রহমান খান।

এর আগে ফারমার্স ব্যাংকের জালিয়াতির ঘটনায় দুদক মাহবুবুল হক চিশতী এবং তার পরিবারের পাঁচ সদস্য, ব্যাংকের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে গত সপ্তাহে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ওই তালিকায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দীন খান আলমগীরের নাম নেই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকটির গ্রাহকের ঋণের ভাগ নিয়েছেন মহিউদ্দীন খান আলমগীর ও মাহবুবুল হক চিশতী। এর মাধ্যমে দু’জনের নৈতিক স্থলন ঘটেছে এবং তারা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেয়া ফারমার্স ব্যাংকের কার্যক্রম শুরুর পরই অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন কর্মকর্তারা। আস্থার সংকট তৈরি হলে আমানতকারীদের অর্থ তোলার চাপ বাড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে বাধ্য হন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর ও নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী। পরিচালকের পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তারা।

জেএ/এমবিআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :