‘প্রসিকিউটর তুরিনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩৫ পিএম, ০৯ মে ২০১৮

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক আসামির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজের গোপন বৈঠক সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত চলছে।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু। তিনি বলেন, আমি কোনো পক্ষে কথা বলবো না। তার বিষয়ে যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়টি তদন্ত হওয়ার পর জানা যাবে। এ বিষয়ে আমি কোনো কিছু জানি না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর গুলশানে ড. তুরিন আফরোজের ওই গোপন বৈঠকে বসার বিষয়ে যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত বুধবার আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বুধবার বিকেলে জাগো নিউজকে বলেন, প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের গোপন বৈঠক সংক্রান্ত অভিযোগের নথি আইন মন্ত্রণালয় পেয়েছে। এটি পর্যালোচনা করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে।

তিনি বলেন, ‘অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। এটি আমরা পর্যালোচনা করব, আইনি প্রক্রিয়ায় দেখব। আইন যেটা বলে দেয়, সেভাবেই আমরা এটাকে দেখব। এটার ব্যাপারে এর থেকে বেশি আমার কিছু বলার নেই।’

প্রসিকিউর তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে উঠা এই অভিযোগ সত্য হলে আইন মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নেবে বলে এর আগে জানিয়েছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, ‘এটা যদি সত্যি হয় তবে আইন মন্ত্রণালয় অবশ্যই পদক্ষেপ নেবে।’

তিনি বলেন, আমিতো আর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাই না বা তাদের মামলাও পরিচালনা করি না। কাজেই এ বিষয়ে আমার পক্ষে বলা সম্ভব না।

এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এম সানাউল হক জাগো নিউজকে বলেন, এ ধরনের বিচারাধীন মামলার আসামির সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের কোনো আইনজীবীর দেখা সাক্ষাৎ করা নৈতিকতাবিরোধী।

তিনি বলেন, যেহেতু বিষয়টি তদন্ত (অনুসন্ধান) করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, এখন তদন্তে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসুক।

সানাউল হক বলেন, আমরা চাই না ট্রাইব্যুনালের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন ইস্যু নিয়ে কোন ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হোক। দীর্ঘ পরিশ্রমের মাধ্যমে সরকারের যে অর্জন এবং সাফলতা তা ম্লান যেন না হয়।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে করা মামলাটি পরিচালনার দায়িত্ব গত বছরের গত ১১ নভেম্বর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে দেয়া হয় ।

এরপর ওয়াহিদুল হককে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎ করতে চান তুরিন আফরোজ। তাকে যে কোনো দিন আটক করা হতে পারে বলেও তিনি কথোপকথনে জানান। প্রথমে ওয়াহিদুল হকের গুলশানের বাসায় তাদের সাক্ষাৎ হবে বলে জানানো হয়। পরে সাক্ষাতের স্থান পরিবর্তন করা হয়। তারা গুলশানে অলিভ গার্ডেন নামের একটি রেস্টুরেন্টে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা প্রায় তিন ঘণ্টা মামলার নথিপত্র নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ এবং তাকে গ্রেফতারের আদেশের অনুলিপি নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয় ওয়াহিদুল হককে। পরদিন ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠান।

ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অভিযোগে ইতোমধ্যে তুরিন আফরোজে ট্রাইব্যুনালের সব ধরনের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন প্রসিকিউশন। অভিযোগ প্রমাণি হলে তাকে বিধি মোতাবেক বরখাস্ত করা হতে পারে। এমনকি তার পেশাদারি সনদও বাতিল করতে পারে বার কাউন্সিল।

এফএইচ/জেডএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]