চিকিৎসায় অবহেলা পর্যবেক্ষণে কমিটি গঠনের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০৬ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৮

চুয়াডাঙ্গায় চক্ষু শিবিরে চিকিৎসার অবহেলা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহারের কারণে ১৭ জনের চোখ হারানোর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল এবং ওষুধ কোম্পানিকে চোখ হারানো প্রত্যেককে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে দেশের যেকোনো হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলার ঘটনা ঘটলে তার পর্যবেক্ষণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সাত দিনের মধ্যে এই কমিটি করার জন্য বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট অথবা প্যাথলজিস্ট, একজন আইন বিশেষজ্ঞ অথবা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং প্রাইভেট মেডিকেলের একজন চিকিৎসকসহ মোট সাত সদস্য নিয়ে ওই কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গায় চক্ষু শিবিরে ১৭ জনের চোখ হারানোর ঘটনায় জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে রায় ঘোষণার সময় রোববার হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে এমন নির্দশনা দেন। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত।

অমিত দাস গুপ্ত সাংবাদিকদের বলেন, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনের মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে চোখ হারানো ১৭ জনকে ক্ষতিপূরণের দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ভবিষ্যতে চিকিৎসাক্ষেত্রে অবহেলার ঘটনা ঘটলে তা পর্যবেক্ষণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে আদালত কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে গত ২৯ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে ‘চক্ষু শিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সেই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট চোখ হারানো প্রত্যেককে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

রুলের শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা শহরের ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চক্ষু শিবিরে চোখ হারানো ১৭ জনের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার এবং ওষুধ আমদানি ও বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান আইরিশ কোম্পানিকে পৃথকভাবে (৫+৫) ১০ লাখ টাকা করে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের নির্দেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে রায় হাতে পাওয়ার এক মাসের মধ্যে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও চক্ষু শিবিরে চোখ হারানো ১৭ জনসহ মোট ২০ জনকে আজীবন চোখের চিকিৎসা দিতে চুয়াডাঙ্গা শহরের ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এফএইচ/বিএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।