পূর্বাচলে ১৬ হাউজিংয়ের জলাশয় ভরাটে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:২৬ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৮

পূর্বাচল নুতন শহর এলাকার আশপাশে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানা এবং গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকার জলাশয়/জলাভূমি/নিচু ভূমি/পুকুরের তথ্য জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এ জন্য ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে এরিয়েল ম্যাপ (গুগল অথবা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ম্যাপ) অনুযায়ী জলাভূমি, পুকুর, নিচু ভূমি চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন অাদালত।

এ ছাড়া উল্লিখিত এলাকার অধীন ১৬টি হাউজিং কোম্পানি কর্তৃক জলাশয়, পুকুর, জলাভূমি, নিচু ভূমি ভরাট, দখল ও বিভিন্ন কোম্পানির সাইনবোর্ড স্থাপন বন্ধের বিষয়ে স্থিতাবস্থা জারি করেছেন হাইকোর্ট।

১৬ হাউজিং কোম্পানি হলো- প্ল্যাটিনাম পূর্বাচল সিটি, সিটি ক্লাউড, কানাডা সিটি, জমিদার সিটি, ড্রিমল্যান্ড, হোমল্যান্ড পূর্বাচল সিটি, হোমটাউন পূর্বাচল সিটি, প্রিটি রিয়েল এস্টেট, মাসকট গ্রিন সিটি, পুষ্পিতা এমপিয়ার হাউজিং, নন্দন সিটি, বেস্টওয়ে সিটি, মালুম সিটি, মেরিন সিটি এবং সোপান সিটি।

আগামী ৬ মাসের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলাশয় মন্ত্রলায়ের সচিব, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবকে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে, আদালতের আদেশ প্রতিপালন করে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি), রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এবং গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে জলাশয়, ভূমি, নিচু ভূমি এবং পুকুর ভরাট এবং বিভিন্ন কোম্পানির সাইনবোর্ড স্থাপন বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং এসব রক্ষায় কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানাতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলাশয় মন্ত্রণালয়ের সচিব, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জনস্বার্থে করা এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে সোমবার রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। সরকারপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট পূরবী সাহা এবং অ্যাডভোকেট পূরবী রানী দাস।

এর আগে গত ২১ অক্টোবর মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যার্ট পিস ফর বাংলাদেশের (এইচপিবিএর) পক্ষে অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ রিট পিটিশন দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত সোমবার এই স্থিতাবস্থা জারি করলেন।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ এর বিধান অনুসারে নদীর জায়গা দখল, ভরাট সর্ম্পূণ নিষেধ থাকলেও নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে এলাকায় এবং গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে জলাশয়, জলাভূমি, নিচু ভূমি, পুকুর ভরাট এবং বিভিন্ন কোম্পানির সাইনবোর্ড স্থাপন কার্যক্রম চলছে।

তিনি জানান, ১৬টি হাউজিং কোম্পানি ইতোমধ্যে মাটি ভরাট করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে পরিবেশ ক্ষতির সন্মুখীন হয়েছে।

মনজিল মোরসেদ বলেন, আদালত বিবাদীদের প্ল্যাটিনাম পূর্বাচল সিটি, সিটি ক্লাউড, কানাডা সিটি, জমিদার সিটি, ড্রিমল্যান্ড, হোমল্যান্ড পূর্বাচল সিটি, হোমটাউন পূর্বাচল সিটি, প্রিটি রিয়েল এস্টেট, মাসকট গ্রিন সিটি, পুষ্পিতা এমপিয়ার হাউজিং, নন্দন সিটি, বেস্টওয়ে সিটি, মালুম সিটি, মেরিন সিটি এবং সোপান সিটি কর্তৃক যেকোনো প্রকার জলাশয়/জলাভূমি/নিচু ভূমি/পুকুর ভরাট সম্পর্কিত স্থিতাবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

এফএইচ/জেডএ/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :