থানায় পিটিয়ে হত্যা : ৩ পুলিশসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১৭ এএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ইশতিয়াক হোসেন জনি নামে একজনকে থানায় নিয়ে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে মিরপুরের পল্লবী থানার তৎকালীন তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে করা মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে ওই মামলার কার্যক্রমে ইতিপূর্বে দেয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আদালত। ফলে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা চলতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

মামলার দুই আসামির জামিন নিয়ে জারি করা রুলের শুনানি শেষে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান। অন্যদিকে বাদীপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এস এম রেজাউল করিম ও বদিউজ্জামান তপাদার।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পল্লবীর সেকশন-১১, ব্লক-বি ইরানি ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. সাদেকের ছেলে মো. বিল্লালের গায়ে-হলুদের অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন পুলিশের সোর্স সুমন মেয়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এ সময় সেখানে থাকা ইশতিয়াক হোসেন ও তার ভাই ইমতিয়াজ হোসেনকে চলে যেতে বলা হয়। এ নিয়ে সুমনের সঙ্গে দুই ভাইয়ের বাগবিতণ্ডা বাধে।

পরে সুমনের ফোন পেয়ে পুলিশ এসে দুই ভাইকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। থানায় দুই ভাইয়ের ওপর চলে অমানবিক নির্যাতন। ইশতিয়াকের অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে ইশতিয়াকের ভাই ইমতিয়াজ পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অপর আসামিরা হলেন- পল্লবী থানার তৎকালীন এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ, আবদুল বাতেন, রাশেদ, শোভন কুমার সাহা ও কনস্টেবল নজরুল, সোর্স সুমন ও রাসেল।

এরপর আদালত মামলাটির বিচারবিভাগীয় তদন্তের আদেশ দেন। বিচারবিভাগীয় তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে পাঁচজনকে অভিযুক্ত এবং পাঁচজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। এরপর তদন্তকালে পুলিশের এএসআই রাশেদুল ও কামরুজ্জামানকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ওই মামলায় ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা পাঁচ আসামি বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন পল্লবী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান (জাহিদ), এএসআই রাশেদুল ও কামরুজ্জামান (মিন্টু) এবং পুলিশের সোর্স সুমন ও রাশেদ। আসামিরা এখন জামিনে আছেন বলে জানান আইনজীবী বদিউজ্জামান তপাদার।

অভিযোগ গঠনের পর মামলাটি বাতিল চেয়ে পল্লবী থানার তৎকালীন এএসআই রাশেদুল ও কামরুজ্জামান হাইকোর্টে আবেদন করেন। এর শুনানি নিয়ে গত বছরের মার্চে হাইকোর্ট রুল দিয়ে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত করেন।

এরপর বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্ট রুল খারিজ করে মামলার কার্যক্রমে দেয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন। ফলে, পুলিশের ওই কর্মকর্তাসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে মামলা চলতে আইনগত কোনো বাধা নেই। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

এফএইচ/বিএ