দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন ডিআইজি পার্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৩ পিএম, ২৯ জুলাই ২০১৯

জ্ঞাত আয় বহির্ভূতভাবে ৮০ লাখ টাকা অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় গ্রেফতার সিলেটের বর্তমান ডিআইজি (প্রিজন) পার্থ গোপাল বণিক দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এ ছাড়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করার হীন চেষ্টাসহ সাক্ষীদের প্রভাবিত করারও চেষ্টা করছিলেন তিনি। তাকে জামিন দেয়া হলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করতে পারেন এবং তদন্ত কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারেন।

পার্থকে সোমবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক সালাহউদ্দিন তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন করে এসব কথা উল্লেখ করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও বলেন, ডিআইজি পার্থ সরকারি চাকরিতে কর্মরত থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ গ্রহণ করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৮০ লাখ টাকা অর্জন করেছেন। এছাড়া ওই টাকা নিজের দখলে নিয়ে অবৈধ পন্থার অর্জিত অর্থের অবস্থান গোপন করে পাচারের উদ্দেশে নিজ আবাসিক বাসায় কেবিনেটে লুকিয়ে রেখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। আসামি পার্থ গোপালের জেলহাজতে পাঠানোর জন্য সবিনয়ে প্রার্থনা জানাচ্ছি।

জামিন নামঞ্জুর কারাগারে জিআইজি পার্থ

বাসা থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় সিলেটের বর্তমান ডিআইজি (প্রিজন) পার্থ গোপাল বণিকের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার তাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ সময় তার আইনজীবী গাজী শাহ আলম, আব্দুর রহমান হাওলাদার, মাসুদ আহম্মদ তালুকদার, ফারুক হোসেনসহ আরও অনেকে জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে রোববার বিকেলে ধানমন্ডির ভূতের গলিতে পার্থ গোপাল বণিকের নিজ ফ্ল্যাট থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া দুদক পরিচালক মুহাম্মদ ইউছুফ বলেন, তার ঘোষিত আয়কর ফাইলে এ টাকার ঘোষণা নেই। আমাদের মনে হয়েছে এ টাকা অবৈধ আয় থেকে অর্জিত।

ডিআইজি পার্থ দাবি করেছেন, ৮০ লাখ টাকা তার বৈধ আয় থেকে অর্জিত। এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা শাশুড়ি দিয়েছেন। বাকি ৫০ লাখ টাকা সারাজীবনের জমানো।

মজলুমের টাকা আত্মসাৎ করেছে ডিআইজি পার্থ

শুনানিতে আসামি পার্থের আইনজীবী আব্দুর রহমান হাওলাদার বলেন, এ ৮০ লাখ টাকা পার্থের মা ও শাশুড়ির এবং এফডিআরের। এ টাকা তিনি বাসায় রেখেছেন ফ্ল্যাট কেনার জন্য। তাছাড়া গত বছর তিনি ১ লাখ ৯ হাজার টাকার বেশি ইনকাম ট্যাক্স জমা দেন।

শুনানির মাঝখানে বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ পার্থকে বলেন, আপনার বেসিক বেতন কত? কোন গ্রেড আপনার? তখন পার্থ বলেন, ৪২ হাজার না হয় ৪৩ হাজার টাকা হবে। আমার এ মুহূর্তে সঠিক মনে নেই। আমি ৫ম গ্রেডে।

বিচারক তখন আবার বলেন, ‘এফডিআরের টাকা কি ইনকাম ট্যাক্সে দেখাই ছিলেন? পার্থ বলেন, না স্যার এ টাকা আমার আইনজীবীর ভুলে দেখানো হয় নেই। এটা আমার ভুল ছিল না।’

পার্থ আরও বলেন, আমার স্ত্রী একজন ডাক্তার। তিনি রিলাইন্স হসপিটালে জব করেন। তার নিজেরও ইনকাম ট্যাক্স ফাইল আছে।

অপরদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, আসামি পার্থ চাকরি জীবনে মোট ২২ লাখ ৪১ হাজার ৩২২ টাকা ইনকাম করেন। এখান থেকে তিনি নিজের বা পরিবারের জন্য টাকা খরচ করেছেন। তার পরও এত টাকা কোথায় পেলেন তিনি। জেলখানায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়া মজলুম বা আসামিদের জন্য দেয়া সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন ডিআইজি পার্থ।

জেএ/এনডিএস/জেআইএম