মুনিয়া হত্যা মামলা: হাইকোর্টে এক আসামির ৬ সপ্তাহের জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৫৭ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

রাজধানীর গুলশানে কলেজশিক্ষার্থী মোসারাত জাহান মুনিয়া (২১) হত্যা মামলার আসামি ও ভাড়া বাড়ির মালিক ইব্রাহিম আহমেদ রিপনকে পাসপোর্ট জমা রাখার শর্তে ছয় সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

আদেশে আদালত বলেছেন, এ সময়ের মধ্যে তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না এবং মামলার তদন্তকাজে সহযোগিতা করতে হবে।

মুনিয়াকে ‘ধর্ষণের পর হত্যা’র অভিযোগে করা মামলায় আসামির জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদেশের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান মিজান জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

এদিন আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বহুল আলোচিত রাজধানীর গুলশানে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার (২২) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গুলশান থানায় গত ৭ সেপ্টেম্বর মামলা (নম্বর-৫) দায়ের করা হয়। পরে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (২) (ধর্ষণ) ও দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা) এ মামলার প্রধান আসামি নিহত মুনিয়ার প্রেমিক বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর।

এছাড়া তার বাবা, মা ও স্ত্রীসহ মোট আটজনের নাম আসামির তালিকায় রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসান।

গত ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক মামলাটি গ্রহণ করেন। কুমিল্লার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত মো. সফিকুর রহমানের ছোট মেয়ে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়ার করা এ নালিশি মামলার এজাহারে চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

ডাক্তারি পরীক্ষার বরাত দিয়ে ওই এজাহারে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগেও মুনিয়া ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভোরে যশোরে পালিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলেন, মুনিয়া দু-তিন সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তার পরনের জামা-কাপড় ছেঁড়া ছিল ও পুরুষের ডিএনএ মিলেছে। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে এ কলেজছাত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ছয় নম্বর আসামি সাইফা রহমান মিম এক নম্বর আসামি সায়েম সোবহান আনভীরের গার্লফ্রেন্ড ও সাত নম্বর আসামি কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার (মাদকসহ গ্রেফতারের পর বর্তমানে কারাবন্দি) সঙ্গেও উক্ত আসামির বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। পিয়াসা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ভিকটিম মুনিয়াকে বিভিন্ন সময় ফোন করে আনভীরের সঙ্গ ত্যাগ করতে বলে এবং তার মাধ্যমেই দুই নম্বর আসামি আনভীরের মা আফরোজার কাছে ভিকটিম সম্পর্কে কুৎসা রটিয়ে হত্যার প্ররোচনা দেয়। পিয়াসার মাধ্যমেই মুনিয়াকে বসুন্ধরা এলাকার বাসায় ডেকে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গ্রামের বাড়িতে যেতে বাধ্য করে প্রধান আসামির পরিবার।

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ আদালতে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া বাদী হয়ে এ মামলা করেন। ওই আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ বেগম মাফরোজা পারভীন মামলাটি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এদিন দুপুরে নুসরাতের জবানবন্দি রেকর্ড করেন আদালত। ধর্ষণের পর হত্যার এ চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রধান আসামি বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীর (৪২)। পাশাপাশি তার বাবা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ৭০, মা আফরোজা সোবহান ৬০, আনভীরের স্ত্রী সাবরিনা ৪০, হুইপপুত্র শারুনের সাবেক স্ত্রী সাইফা রহমান মিম (৩৫), কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, পিয়াসার বান্ধবী ও ঘটনাস্থল গুলশানের ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রী শারমিন (৪০) ও তার স্বামী ইব্রাহিম আহমেদ রিপনকে (৪৭) আসামি করা হয়েছে।

এফএইচ/ইএ/জেআইএম/এমকেআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]