রেজিস্ট্রেশনবিহীন চিকিৎসকদের খুঁজে বের করার নির্দেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৩ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২
ফাইল ছবি

রেজিস্ট্রেশনবিহীন ভুয়া চিকিৎসকদের খুঁজে বের করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি ও পুলিশ মহাপরিদর্শককে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ এর দুটি ধারা সংশোধন করে দেশের ভুয়া চিকিৎসকদের সাজা বাড়ানো প্রশ্নে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রুলে জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ এর দুটি ধারা সংশোধন করে দেশের ভূয়া চিকিৎসকদের সাজা বাড়াতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেনো আইন বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আইন সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিএমডিসির রেজিস্ট্রারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে এদিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট জে আর খান রবিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

আইনজীবীরা জানান, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলকে (বিএমডিসি) এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভুয়া চিকিৎসকের অনুসন্ধান শেষে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংস্থাটিকে। একই সঙ্গে রুলও জারি করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার (৫ ডিসেম্বর) দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০’ এর ধারা ২৮ (৩) ও ২৯ (২) সংশোধন করে ভুয়া ডাক্তারের যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডের সাজাসহ জরিমানার বিধান চেয়ে দায়ের করা রিটের শুনানি হয়। এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার ঠিক করেছিলেন হাইকোর্ট। তারই ধারাবাহিকতায় আজ এই আদেশ দেওয়া হলো।

গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে আইনজীবী জে আর খান রবিন গত ২৯ নভেম্বর রিটটি করা হয়েছিল। রিটকারী আইনজীবী জে আর খান রবিন আবেদনে ভুয়া চিকিৎসকের সাজা তিন বছর ও জরিমানা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ডসহ জরিমানা বাড়াতে বিবাদীদের ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে সাজা বাড়ানোর জন্য কেন সুপারিশ করা হবে না, সে মর্মেও রুল চাওয়া হয়েছিল।

রিটে বিবাদী করা হয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি ও রেজিস্ট্রার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে।

রিটকারী আইনজীবী বলেন, মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চিকিৎসকদের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু বর্তমানে অনেকে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান আইনে যে সাজার বিধান রয়েছে, একজন ভুয়া চিকিৎসকের চিকিৎসার কারণে মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় তা অত্যন্ত নগণ্য। এ কারণে দেশে ভুয়া চিকিৎসকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবাও হুমকির মুখে পড়ছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ২৮(৩) ও ২৯(২) ধারায় ভুয়া চিকিৎকদের সাজা ৩ বছরের বিধান রয়েছে। এই সাজার পরিমাণ বাড়ানোর প্রশ্নে রিটে আর্জি জানানো হয়েছে।

আইনের ২৮ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, ‘‘এই আইনের অধীন নিবন্ধনকৃত না হইয়াও যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে এই আইনের অধীনে নিবন্ধনকৃত একজন মেডিকেল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক বলিয়া প্রতারণা করেন, অথবা প্রতারণামূলকভাবে তাহার নাম বা পদবীর সংগে নিবন্ধনকৃত মর্মে কোনো শব্দ, বর্ণ বা অভিব্যক্তি ব্যবহার করেন, তাহার মিথ্যা পরিচয়ের দ্বারা অন্য কোনো ব্যক্তি প্রতারিত না হইলেও, তাহার উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড বা ১ (এক) লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।’’

আইনের ২৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, “এই আইনের অধীন নিবন্ধনকৃত কোনো মেডিকেল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক এমন কোনো নাম, পদবি, বিবরণ বা প্রতীক এমনভাবে ব্যবহার বা প্রকাশ করিবেন না যাহার ফলে তাহার কোনো অতিরিক্ত পেশাগত যোগ্যতা আছে মর্মে কেহ মনে করিতে পারে। যদি না উহা কোনো স্বীকৃত মেডিকেল চিকিৎসা-শিক্ষা যোগ্যতা বা স্বীকৃত ডেন্টাল চিকিৎসা-শিক্ষা যোগ্যতা হইয়া থাকে। ন্যূনতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রি প্রাপ্তগণ ব্যতীত অন্য কেহ তাহাদের নামের পূর্বে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করিতে পারিবেন না।’’

‘‘(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১)-এর বিধান লংঘন করিলে উক্ত লংঘন হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড বা ১ (এক) লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন। উক্ত অপরাধ অব্যাহত থাকিলে, প্রত্যেকবার উহার পুনরাবৃত্তির জন্য অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থ দণ্ডে, বর্ণিত দণ্ডের অতিরিক্ত হিসেবে, দণ্ডনীয় হইবেন।’’

এফএইচ/জেডএইচ/কেএসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।