সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠও অনিরাপদ

ধর্ষণ-নারী নির্যাতনের বিচার হয়, তবু কেন পুনরাবৃত্তি?

মুহাম্মদ ফজলুল হক
মুহাম্মদ ফজলুল হক মুহাম্মদ ফজলুল হক , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১১ এএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
ফুঁসে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-ছবি জাগো নিউজ

দেশে মাঝে মধ্যে ধর্ষণের কিছু ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। অনলাইন-অফলাইনে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ঘটনা সংঘটনের স্থানের সঙ্গে নেপথ্যে থাকা ক্ষমতাধরদের হাতও দৃশ্যমান হওয়ায় মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভ প্রতিবাদের ভাষা পায়। কর্তৃপক্ষও সেগুলো নিয়ে নড়েচড়ে বসে। তারা যে কিছু করছে তা দৃশ্যমান হয়। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিছু মামলার বিচারে দীর্ঘসূত্রতা থাকলেও বেশকিছু মামলার বিচারকাজ শেষে রায়ও হয়। মামলা সর্বোচ্চ আদালতেও গড়ায়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হয়। এত কিছু হয় তারপরও থামে না ধর্ষণের বর্বরতা।

এ অপরাধে জড়িতরা বহিরাগত কেউ নয়, তারা আমাদের মধ্যে বেড়ে ওঠা মানুষরূপী শেয়াল-শকুন-হায়েনা। নারীর প্রতি তাদের নানাবিধ অত্যাচার আমাদের ক্ষুব্ধ করে। এদের লালন-পালন ও আস্কারা দেয় রাষ্ট্রযন্ত্রের চালকরাই। ক্ষমতার সুড়সুড়িতে তারা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া ন্যক্কারজনক ধর্ষণের ঘটনাও আমাদের ক্ষুব্ধ করেছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা যে কোনো বর্বরতাকে হার মানায়। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ধর্ষণের ঘটনা জাবিতে প্রথম ঘটলো এমনটা নয়, এর আগেও সেখানে সেঞ্চুরি উদযাপনের ঘৃণ্য ইতিহাস আছে। আর স্বামীকে আটকে রেখে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের ছেলেরা সিলেটেও এক নারীকে ধর্ষণ করেছে। সে ঘটনাও আলোচিত ছিল।

একই সময়ে দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয় যৌন কেলেঙ্কারিতে উত্তপ্ত। সেগুলো হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে ঢাবি ও চবিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধেই শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে বাকৃবিতে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক অটোরিকশাচালক পেছন থেকে এসে অশালীনভাবে এক শিক্ষার্থীর গায়ে হাত দিয়েছে। এসব যৌন নিপীড়নের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উত্তপ্ত। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

১৯৯৮ সালের ঘটনা যখন ছাত্রলীগ একশ জনকে ধর্ষণ করার পর উৎযাপন করছিল। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই তো ঝাড়ু নিয়ে তাদের ক্যাম্পাস থেকে বিতারিত করেছিল। সেই আন্দোলন থেকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নিপীড়নবিরোধী সেল গঠন করা হয়েছিল। সেই অ্যাচিভমেন্ট জাহাঙ্গীরনগরের আছে আর কলঙ্ক তো আছেই।— কনোজ কান্তি রায়

সারাদেশে আলোচিত হয়েছে এমন নিপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনাও কম নয়! সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ, নোয়াখালীতে নির্বাচন ঘিরে গৃহবধূ ধর্ষণ ও ভিডিও করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা, কুমিল্লার তনু হত্যাকাণ্ড ও ফেনীর নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার মতো অসংখ্য ঘটনা আছে।

শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঢাবিতে বিক্ষোভ-ছবি সংগৃহীত

বেশ কয়েক বছর ধরে আলোচনায় আসা কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনার বিচার কোন পর্যায়ে আছে তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। এ প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তির কারণ।

এমসি কলেজে ধর্ষণের ঘটনার বিচারের হালচাল

সিলেট মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের শ্রীকান্ত ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটায় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। ঘটনাটি ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরের। ওই সময় কলেজ বন্ধ থাকলেও হলে থাকতেন জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ব্যক্তিগত গাড়িতে টিলাগড় এলাকার এমসি কলেজের সামনে স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে যান এক যুবক। রাত ৮টার দিকে তিনি সিগারেট কিনতে হোস্টেলের গেটে নামেন। এসময় ধর্ষকেরা তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে ধর্ষণ করে। স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকেও পিটিয়ে গাড়িতেই আটকে রাখা হয়। এর ঘণ্টাখানেক পর এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের একটি কক্ষের সামনে থেকে বিধ্বস্ত অবস্থায় স্ত্রীকে উদ্ধার করেন ওই যুবক। রাতেই তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী সিলেটের শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় আটজনকে আসামি করে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়। মামলার আসামিরা হলেন সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম।

আরও পড়ুন: স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজে ঘুরতে এসে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ

পরে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে অভিযোগ গঠন করেন সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। ঘটনার পর ডিএনএ পরীক্ষায় চার আসামির সঙ্গে ডিএনএ ম্যাচিং পাওয়া যায়। সে সময় চাঞ্চল্যকর মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গঠিত জেলা মনিটরিং কমিটি মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ভুক্তভোগী তরুণীর স্বামী হাইকোর্টে রিট করেন। পরে ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বদলি করতে আদেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু মামলা স্থানান্তর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গেজেট জারি হয়নি।

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির বিচার একসঙ্গে একই আদালতে করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। তবে আদালত পরিবর্তনে আবেদনে সাড়া দেননি উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে মামলার বাদী, সাক্ষী ও বাদীপক্ষের আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিলেট পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, কোনো আসামির আইনজীবী না থাকলে তাকে আইনজীবী দিতে বলা হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন ও ব্যারিস্টার এম আব্দুল কাইয়ুম লিটন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

হাইকোর্টে রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম লিটন জাগো নিউজকে বলেন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তরে হাইকোর্টের আদেশ এখনো কার্যকর হয়নি। হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবার লিভ টু আপিল করে। ফলে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি এখনো।

রাজনীতিতে যারা মাঠে থাকেন তাদের বিভিন্ন ধরণের ক্রিমিনাল অফেন্স দেখছি। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা আধিপত্য বিস্তারের জন্য এসব ঘটনা ঘটে। যুগে যুগে দেখা গেছে যে ধর্ষণ, নারীদের নির্যাতন করা এটাকেই মনে করে তাদের আধিপত্য বিস্তারের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এই পরিচয়টি এমসি কলেজে দেখেছেন, সুবর্ণ চড়ে দেখেছেন, সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছেন। জাহাঙ্গীর নগরের এ ঘটনাটি প্রথম নয়।— অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম

তিনি জানান, এখন মামলার বাদীকেও প্রলুব্ধ করার চেষ্টা চলছে। মনে হচ্ছে তাকে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। এখন তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

কুমিল্লার চাঞ্চল্যকর তনু হত্যা মামলা

কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু সেনানিবাসের একটি বাসায় প্রাইভেট পড়াতে যেতেন। সেই বাসার পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন বিকেলে তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। সে সময় পুলিশ ধারণা করেছিল, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

চট্টবিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ-ছবি সংগৃহীত

তনু হত্যার পর বিচারের দাবিতে তার কলেজের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন জোরালো আন্দোলন করেছিল। তার মরদেহের দুই দফা ময়নাতদন্ত হয়েছে। প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি এবং তনু কেন মারা গেছে তাও সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

আরও পড়ুন: তনু হত্যা মামলা এবার পিবিআইতে

দ্বিতীয় দফায় কবর থেকে মরদেহ তুলে ময়নাতদন্ত হয়েছে। আট বছরে পাঁচবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদল করা হয়েছে। পুলিশ, সিআইডির পর এখন এর তদন্ত করছে পিবিআই। সবশেষ ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি সিআইডি থেকে পিবিআইয়ের কাছে স্থানান্তর করা হয়। স্থানান্তরের প্রায় আড়াই বছর পর গত বছরের আগস্টে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেও নেওয়া হয়নি সাক্ষ্য। ২০১৬ সালে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি নিহত তনুর শরীর থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানায়।

ফেনীর নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার মামলা

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে পরদিন সোনাগাজী মডেল থানায় অধ্যক্ষকে আসামি করে মামলা করেন।

ওই দিনই অধ্যক্ষ সিরাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় অনুসারীরা ঘটনার ১০ দিন পর নুসরাতকে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাতের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন: নুসরাত হত্যা: ডেথ রেফারেন্স ও আপিল হাইকোর্টের তালিকায়

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই বছরই ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও জরিমানা করেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিল উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় বলে জানান আইনজীবীরা। নুসরাতকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ধারণ করে তা প্রচারের ঘটনায় করা মামলায় সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে একই বছর আট বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

নোয়াখালীর দুটি আলোচিত ধর্ষণের ঘটনা

২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাতে নোয়াখালী সুবর্ণচরে একজন গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অন্য ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের রাতে ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটায় এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয় তখন। ভুক্তভোগী ওই নারী তখন অভিযোগ করেছিলেন ভোটকেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের পছন্দের নৌকার প্রতীকে ভোট না দেওয়ার রোষে ওই হামলা ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। রায়ের পরই আসামিপক্ষের আইনজীবী আপিল করার কথা জানিয়েছেন।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর একটি গ্রামে এক গৃহবধূর বাড়িতে ঢুকে তার স্বামীকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। প্রায় একমাস পরে সেই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপরই নয়জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন নির্যাতনের শিকার ওই নারী। এছাড়া নির্যাতনের ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা করা হয়। ২০২১ সালের ৪ অক্টোবর এ মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করেছে বলে জানান আইনজীবীরা।

জাহাঙ্গীরনগর ও অন্যান্য আলোচিত ঘটনা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রলীগের নেতাসহ চারজন এরইমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। প্রশ্ন হলো ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কেন বারবার ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়ায়? ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের আগের ঘটনাগুলোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় তারা বেপরোয়া বলে মনে করেন কেউ কেউ।

এরপরও অনেক ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ যে ঘটনা ঘটেছে তারই ধারাবাহিকতা। আর এখন যারা দায়িত্বে আছে, তারাও তো ছাত্রলীগের বাইরের কেউ নয়। আমরা শুনেছি, যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগই ডিসাইট করেন কে ভিসি হবেন বা কে প্রক্টর হবেন বা কে প্রো-ভিসি হবেন! এখন সবকিছুই তো ছাত্রলীগই নিয়ন্ত্রণ করে। প্রশাসনও ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণ করে, এরা তো বেপরোয়া হয়ে গেছে। —অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী

জাহাঙ্গীরনগরের ঘটনার রাতে অভিযুক্তরা মীর মশাররফ হোসেন হলের ‘এ' ব্লকের ৩১৭ নম্বর কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে বোটানিক্যাল গার্ডেনে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষকদের একজন ওই দম্পতির পরিচিত হওয়ায় তারা কৌশলে তাদের বাইরে থেকে ডেকে আনে।

আরও পড়ুন: জাবিতে গৃহবধূ ধর্ষণ: মূলহোতা মামুনসহ দুজনের দায় স্বীকার

এ ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন একই বিভাগের সাগর সিদ্দিকী ও হাসানুজ্জামান এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির হাসান। পলাতক ভুক্তভোগীর পূর্বপরিচিত মো. মামুনুর রশিদ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মুরাদ হোসেন। ধর্ষণের এ ঘটনা নিয়ে বর্তমানে চলছে তোলপাড়। সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

অন্যান্য ঘটনা

বাগেরহাট
২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি বাগেরহাটের ফফিরহাট উপজেলা সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাকিল আহমেদ ও তার সহযোগীরা দুই তরুণীকে রাস্তা থেকে অপহরণ করে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শাকিলকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও তার সহযোগীরা পলাতক।

রংপুর
২০২৩ সালের ২৫ জুন রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয় জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইয়াসিন আরাফাতের বিরুদ্ধে। ওই গৃহবধূকে জিম্মি করে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ছাত্রলীগ নেতা এখনো গ্রেফতার হয়নি।

বাকৃবিতে নিপীড়নবিরোধী বিক্ষোভ-ছবি সংগৃহীত

২০১৯ সালে রংপুরের হারাগাছ এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় হারাগাছের সারাই ইউনিয়নের ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল মিয়া। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গোপালগঞ্জ
এরকম আরও অনেক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালের ২১ জানুয়ারি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নঈম কাজীর নেতৃত্বে চারজন এক তরুণীতে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। মামলার দেড় মাস পর পুলিশ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতর করে। ওই মামলায় এখনো চার্জশিট হয়নি বলে জানা গেছে।

সাভার
২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সাভার সদর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানা এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। তার বিরুদ্ধে মামলা হলে চারদিন পর র‌্যাব তাকে গ্রেফতর করে।

শিক্ষার্থী, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের মূল্যায়ন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী কনোজ কান্তি রায় জাগো নিউজকে বলেন, ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো ঘটার কারণ হচ্ছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি। যেখানে একটা স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতায় আছে তার ছত্রচ্ছায়ায় দাপট দেখিয়ে অন্যায় করে পার পাওয়ার যে প্রবণতা যে সাহস জোগায় সেই সাহসই হচ্ছে অন্যায়গুলো ঘটনার জন্য প্রধান। দ্বিতীয়ত হচ্ছে মৌলবাদীদের আক্রমণের কারণে আমাদের সংস্কৃতি অবক্ষয়ের দিকে আগাচ্ছে। দেশীয় সাংস্কৃতিক যে অনুষ্ঠান হতো সেগুলো ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় আছে, তার সাথে সাথে শিল্পসাহিত্যের অবক্ষয় তো আছেই।

প্রশ্ন হচ্ছে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠেও যদি গৃহবধূ হেনস্তার শিকার হয় তা হলে আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের অবস্থা কি দাঁড়ায়? এমন পরিস্থিতি হলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন ভাবে এসব ঘটনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তারই একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয় ঘটেছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেও এমনভাবে নীতিনৈতিকতার অভাব পরিলক্ষিত হয় যে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিকতাসম্পন্ন শিক্ষার্থী তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছি।—মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান

তিনি জানান, ১৯৯৮ সালের ঘটনা যখন ছাত্রলীগ একশজনকে ধর্ষণ করার পর উৎযাপন করছিল। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই তো ঝাড়ু নিয়ে তাদের ক্যাম্পাস থেকে বিতারিত করেছিল। সেই আন্দোলন থেকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নিপীড়নবিরোধী সেল গঠন করা হয়েছিল। সেই অ্যাচিভমেন্ট জাহাঙ্গীরনগরের আছে আর কলঙ্ক তো আছেই।

আরও পড়ুন: জাবিতে গৃহবধূ ধর্ষণ: ছাত্রলীগ নেতাসহ ৪ জন কারাগারে

এ বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ জাগো নিউজকে বলেন, রাজনীতিতে যারা মাঠে থাকেন তাদের বিভিন্ন ধরনের ক্রিমিনাল অফেন্স দেখছি। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা আধিপত্য বিস্তারের জন্য এসব ঘটনা ঘটে। যুগে যুগে দেখা গেছে যে ধর্ষণ, নারীদের নির্যাতন করা এটাকেই মনে করে তাদের আধিপত্য বিস্তারের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এই পরিচয়টি এমসি কলেজে দেখেছেন, সুবর্ণচরে দেখেছেন, সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছেন। জাহাঙ্গীরনগরের এ ঘটনাটি প্রথম নয়।

আরও পড়ুন: জাবিতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: দায় এড়াতে পারে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

তিনি জানান, আমাদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে যৌন হয়রানি রোধে রিটটি করা হয়েছিল সেটির ভিকটিম ছিল কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তখন অনেক মেয়ে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। তারা কিন্তু বলতে পারেনি। তখনকার সময়ে জাহাঙ্গীরনগরের ঘটনা নিয়ে অনেক সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। আদালতের নজরে আনলাম, তারপর আমি সেটি উপস্থাপন করে দেশ-বিদেশের ঘটনায় রায় দেখলাম। সবকিছু মিলিয়ে আমরা গাইডলাইন পেলাম। জাহাঙ্গীরনগরে এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। ওখানে ওই কালচারটা আছে হয়তো দমন ছিল, কালচারটি উঠে যায়নি।

মানবাধিকারকর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থায় এখনো অনেক জায়গায় ভালো আছে। এটাকে খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তাদের যে কয় মাসের জন্য বহিষ্কার করলো সেটা কিন্তু কোনো পানিশমেন্ট নয়। আইন অনুযায়ী সাজা হওয়া দরকার।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, এমসি কলেজই বলেন আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বলেন, সমাজ যে কোন স্তরে নেমে গেছে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। জাহাঙ্গীরনগরের ঘটনা ১৯৯৮ সালেও এরকম মানিক ছিল সেঞ্চুরিয়ান, তার বিরুদ্ধে তো প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তাকে বরং সসম্মানে বিদেশে পাড় করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, এরপরও অনেক ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ যে ঘটনা ঘটেছে তারই ধারাবাহিকতা। আর এখন যারা দায়িত্বে আছে, তারাও তো ছাত্রলীগের বাইরের কেউ নয়। আমরা শুনেছি, যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগই ডিসাইড করেন কে ভিসি হবেন বা কে প্রক্টর হবেন বা কে প্রো-ভিসি হবেন! এখন সবকিছুই তো ছাত্রলীগই নিয়ন্ত্রণ করে। প্রশাসনও ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণ করে, এরা তো বেপরোয়া হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগের অতীত ঐতিহ্য বলে এখন আর কিছু নেই, পাশাপাশি আওয়ামী লীগও এটার মধ্যে সংক্রমিত হয়ে গেছে। সুবর্ণচরে যে ধর্ষণের ঘটনার বিচার হলো সেখানে আওয়ামী লীগের লোকজন ঘটনা ঘটিয়েছে। আগে ছাত্রলীগকে বলতাম এখন আওয়ামী লীগও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও অহরহ এমন ঘটনা ঘটে। তবে সেটা ঢাকা পড়ে যায়।

তিনি জানান, এই সরকার সুশাসন দিতে পারবে না, বিচার বিভাগ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে না।

ছাত্র সংগঠনের কাজ যা সেটি করা। সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা রাজনৈতিক চর্চা। ছাত্রলীগ যদি রাজনীতি লেখাপড়া বাদ দিয়ে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে তাহলে তো হবে না। এ থেকে সরে লেখাপড়া এবং সমাজসেবামূলক কাজে মনোনিবেশ করতে হবে। দল থেকে নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে। তাহলেই এসব ঘটনা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।—মনজিল মোরসেদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের তরুণ সমাজের মধ্যে মূল্যবোধের অবক্ষয়, নীতিনৈতিকতার কোনো বালাই নেই এটার একটা ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ ঘটছে এসব ঘটনার মাধ্যমে। এরকম অবস্থা তখনই হয় যখন রাষ্ট্রাচারে, রাষ্ট্র যখন নীতি-নৈতিকতাহীনতাই ভোগে, রাজনীতি যখন নীতি-নৈতিকতাহীনতায় ভোগে। প্রশ্ন হচ্ছে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠেও যদি গৃহবধূ হেনস্তার শিকার হয় তা হলে আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের অবস্থা কী দাঁড়ায়? এমন পরিস্থিতি হলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্নভাবে এসব ঘটনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তারই একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেও এমনভাবে নীতিনৈতিকতার অভাব পরিলক্ষিত হয় যে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিকতাসম্পন্ন শিক্ষার্থী তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছি। এই হলো একটা দিক।

এখনও আলোর মুখ দেখেনি তনু হত্যার বিচার-ফাইল ছবি

তিনি আরও বলেন, আমাদের আইনের শাসন আরও স্বচ্ছ ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। আর অপরাধী কে এ পরিচয়টা আমাদের ভুলে যেতে হবে। সেটা যেই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী তার বিচারের ব্যবস্থা দ্রুততম সময়ের মধ্যে করতে হবে। আইনের প্রয়োগটা যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সভ্য সমাজে চলে যেতে পারবো।

আরও পড়ুন: ধর্ষণের বিচার না হওয়ার জন্য দায়ী ধর্ষকের রাজনৈতিক পরিচয়

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চরম অন্যায়ের স্থান বা জায়গায় পরিণত হয়েছে। যেখানে শত শত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে, বহু শিক্ষার্থী অন্যায় অবিচারের শিকার হচ্ছে। আপনারা লক্ষ্য করে থাকবেন সাজাও দেওয়া হয় কথা না শুনলে বা মিছিলে না গেলে। শুধু এটাই নয়, অনেককে চাপ দিতে হয় সিট পায় না, মারধর করা হয় অন্যায় বিচারের শিকার হয় আমরা এর আগে লক্ষ্য করেছি। এভাবে ইউনিভার্সিটিতে একটা ঘাঁটি তৈরি করে একটা গ্রুপ তৈরি করে, ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে তাদের কেউ কিছু বলে না। ছাত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ এ ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে যেটা হচ্ছে, সেটার একটাই কারণ তাদের মধ্যে যে একটা সাহস তৈরি হয়েছে, তারাই সর্বেসর্বা।

প্রতিকার কী- জানতে চাইলে মনজিল মোরসেদ বলেন, ছাত্র সংগঠনের কাজ যা সেটি করা। সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা রাজনৈতিক চর্চা। ছাত্রলীগ যদি রাজনীতি লেখাপড়া বাদ দিয়ে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে তাহলে তো হবে না। এ থেকে সরে লেখাপড়া এবং সমাজসেবামূলক কাজে মনোনিবেশ করতে হবে। দল থেকে নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে। তাহলেই এসব ঘটনা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।

এফএইচ/এসএইচএস/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।