পুণ্ড্রনগরের প্রবাদ-প্রবচন এবং লৌকিক ছড়া: শেষ পর্ব

সাহিত্য ডেস্ক
সাহিত্য ডেস্ক সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১০ এএম, ১৭ মে ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

খৈয়াম কাদের

পুণ্ড্র ও বঙ্গ জনপদের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত আরও ক’টি লোকছড়া—

লালমনিরহাট

ঢ্যাঙ্গা ঢ্যাঙ্গা গুয়ার গাছ
তারো আগাল সরু,
কয়জন আছেন বরের বংনাই
আগা হালের গোরু।
হালত না নুটুরে পুটুর
মাইয়াতে না শোতে,
ভ্যাকরা নাটির গুতা খ্যায়া
তরতর করি ওঠে।

চাপাইনবাবগঞ্জ

> আম ধরে থোকা থোকা
কলা ধরে কাদি,
গয়না বেচে বাগান লাগায়
খেদির বড় দাদি।
পোতা আসে লাতিন আসে
আসে বেটির ব্যাটা,
কলা বেচে রান্দে বুড়ী
তিলভরা পিঠা।

পাবনা

> আকাশেতে তিন তারা
আমার নাম শুকতারা।
আমি কি কিছু জানি?
ঠাণ্ডা লেবুর পানি।
পানির মইধ্যে পোকা
মণ্ডলবাবু বোকা।

টাঙ্গাইল

> আমগাছ তলে ক্যারা গো
আমি এ্যাডা বেডি গো।
হাতে কী?
আম চুক্কা।
খাও না ক্যা?
দাঁত চুক্কা।
হাসো না ক্যা?
হি হি হি।

ময়মনসিংহ

> আবু আমার লক্ষ্মীটি গো
কোন না বিলে চরে,
আবু কইরা ডাক দিলে
উইড়্যা আইয়া পড়ে।
আয় চান্দ লইড়া
ভাত দিবাম বাইড়া,
সোনার কপালে আমার
টুক দিয়া যা রে।

নেত্রকোনা

> ইছোন বিছোন দর্গা পড়ে
মায়ে-ঝিয়ে চাইল কাঁড়ে।
চাইল কাঁড়োনির ঝি গো
কার চাইল কাঁড়ো গো?
জামাই আইছে ঘামাইয়া
ছাতি ধর নামাইয়া।
ছাতির উপরে সাপটা
বুইড়া বেডির বাপটা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

> উত্তরে ধমধম দক্ষিণে বিয়া
ধরছে নারকেল ঝরকি দিয়া।
ভাঙমু নারকেল মুরা দিয়া
খাইমু নারকেল চিড়া দিয়া।

শেরপুর (জেলা)

> হলদি গাছের জলদি ফুল
মামাগো বাড়ি কতদূর?
মামা আইলো ঘাইমে
ছাতি ধইরলাম টাইনে।
ছাতের মইধ্যে গামছা
তিনও মামির তামশা।
ছোট মামি রান্দে-বাড়ে
বড় মামি খায়,
মাইজলা মামি গাল ফুলাইয়া
বাপের বাড়ি যায়।
বাপ করে দূরদূর
মাও কয় থাইক,
আমার বেটি বাইচ্যা থাইকা
ভিক্ষা কইরা খাইক।

চাঁদপুর

> আয় আয় ওরে হাঁস
থই থই থই,
মোড়া দিব, মুড়ি দিব
আরও দিব খই।

এই লোকছড়াগুলো সংগ্রহ করেছেন তারিক মনজুর। প্রকাশিত হয়েছে ১৬ এপ্রিল ২০২৩ তারিখের দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সংস্কৃতি-পাতা অন্য আলোতে। তবে ছড়াগুলো এই লেখায় সংযোজনকালে সংশ্লিষ্ট এলাকাসমূহের ভাষা ও উচ্চারণ ভঙির আলোকে কোনো কোনো শব্দে কিছুটা পরিমার্জন ঘটানো হয়েছে।

বগুড়া-অঞ্চলে প্রচলিত ক’টি লৌকিক ছড়া বা লোকছড়া—

> গ্যান্দা (গ্যাদা) গেলো মাছ ধইরবার
মাইরা আইনলো পুটি
আয় বুবুরা সবাই মিলা
বটিত বইসা কুটি
মাছ কুটি মাছ কুটি
গীত গান গাই
রান্ধা হইলে পাটিত বইসা
মজা কইরা খাই।

> কলসি নিয়া বউ গেলো
ধইঞ্চা বনের বিলে
মাথার আঁচল তুইলা নিল
মধ্যপাড়ার চিলে
ভয় পাইয়া নতুন বউ
চিল্লা ওঠে জোরে
কলসি থুইয়া ঢুইকা পড়ে
মামা শ্বইশ্বের ঘরে।

> ঘুঘু মইলো ঘুঘু মইলো
আলাচাইল খাইয়্যা
ঘুঘুর বিয়াত যামু আমি
লাল পিরান পিন্দা
মায়ে দিলো ত্যাল সেন্দুর
বাপে দিলো বিয়া
রাজার ব্যাটা নিবার আইলো
নূপুর পায়ে দিয়া।

> আইগনা টুনি বাইগনা টুনি টুইনটা টুনির ছাও
যে টুনি পাইদ্যা থাকো আইগ্যা কথা কও
হামি তো কথা কমু না ভাঙ্গা নাও বমু না
মাইচ তলা হাঁড়িডো ফুইট্যা উঠলো নাড়িডো।

> ওয়ান টু থ্রি পইড়া প্যালাম বিড়ি
বিড়িত নাই আগুন পইড়া প্যালাম বাগুন
বাগুনত নাই বিচি পইড়া প্যালাম কেঁচি
কেঁচিত নাই ধার পইড়া প্যালাম হার
হারত নাই লকেট প্যালাম একখান পকেট
পকেটত নাই ট্যাকা চইলা গেলাম ঢাকা
ঢাকাত নাই গাড়ি চইলা আলাম বাড়ি
বাড়িত নাই ভাত দিলাম একখান পাদ
পাদত নাই গন্ধ হাইস্কুল বন্ধ।

> ইচ্চনবিচ্চন দাইড়কা মাছ
পাতে পইলো মাগুর মাছ
মাগুর মাছ নড়েচড়ে
কাক্কা আইসা ডাক পাড়ে
চলো কাক্কা বাড়িত যাই
গাইয়ের দুধ দ্যা ভাত
গাইয়ের নাম হামলা
তুইলা ফালাইলাম চামলা।

> আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম সাজে
ঢাক ঢোল ঝাঁঝর বাজে
বাজতে বাজতে চললো ঢুলি
ঢুলি গেলো কমলাফুলি
কমলাফুলির টিয়েটা
সূয্যি মামার বিয়েটা।

> মেঘ গুড়গুড় মেঘলা দিনে
ময়ূর ডাকে কেকা,
সবাই লুকায় ঘরের কোণে
ময়ূর নাচে একা।
রংধনু রং ছড়িয়ে
রঙের লহর তুলে,
মনের সুখে নাচে ময়ূর
নাচে পেখম মেলে।

> আয় বিষ্টি ঝেঁপে
ধান দেব মেপে
যা বিষ্টি থেমে যা
লেবুর পাতা করমচা।

> খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো
বর্গী এলো দেশে
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে
খাজনা দেব কিসে?
ধান ফুরালো পান ফুরালো
খাজনার উপায় কি?
আর ক’টা দিন সবুর করো
রসুন বুনেছি।

উপসংহারের সন্নিকটে এসে আবারও বলতে হয়, যে কোনো সংস্কৃতির ধ্রুপদী উপকরণ ও অংশগুলো কোনো একক সময় ও একক অঞ্চলে আবদ্ধ থাকে না, থাকতে পারে না। বাস্তবাশ্রিত প্রয়োগ ও প্রযোজ্যতার কারণে এরা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং সর্বমহলের সম্পত্তিতে পরিণত হয়। প্রবাদ-প্রবচন ও লোকছড়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি একইরকমের সত্য। খনা ও ডাকের বচন নিখিল বাংলার সর্বাংশে এবং সর্বসমাজে মানুষের মুখে মুখে চলে। ঠিক তেমনই ‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে, যত গর্জে তত বর্ষে না, সৎসঙ্গে স্বর্গেবাস অসৎসঙ্গে সর্বনাশ, মরণকালে মকরধ্বজ খাইলেও কাজ হয় না, নদীর জল ঘোলাও ভালো জাতের মেয়ে কালোও ভালো, বাইরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট, বজ্র আঁটুনি ফসকা গিরো, ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সরদার, চাল নাই চুলা নাই মুখে বড় কথা, ভাত খাও ভাতারের গীত গাও নাঙের, অল্পবিদ্যায় ভয়ঙ্করী কথায় কথায় ডিকশনারি, সময়ের একফোঁড় অসময়ের নয় ফোঁড়, সাবধানের মাইর নাই, মাইরের উপর ওষুধ নাই, পুঁথিগত বিদ্যা পরহস্তে ধন নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন এবং এ রকম আরও অসংখ্য জনশ্রুত প্রবাদ তাম্রলিপ্তি, রাঢ়, গৌড়, পুণ্ড্র, বরেন্দ্র, বঙ্গ, নবদ্বীপ, চন্দ্রদ্বীপ, সমতট, হরিকেল ও কামরূপ থেকে শুরু করে ত্রিপুরা, আসাম, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও উড়িষ্যা পর্যন্ত সকল বাঙালির যাপিত জীবনে নিত্য উচ্চারিত উক্তি।

লোকছড়ার বেলায়ও বিষয়টি ভিন্ন কিছু নয়। সাজ্জাদ বিপ্লব রচিত ‘বগুড়ার ছড়া: চর্চার অর্ধশতক’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে গ্রামেগঞ্জে মানুষের মুখেমুখে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রচলিত ছড়াসমূহ সংগ্রহ করে ১৮৯৯ সালে যোগীন্দ্রনাথ সরকার (১৮৬৬-১৯৩৭) ‘খুকুমণির ছড়া’ নামে একটি সংকলন প্রকাশ করেন। গ্রন্থটির ভূমিকা লেখেন সাহিত্য-ব্যক্তিত্ব শ্রীরামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে ‘সিটি বুক সোসাইটির’ পক্ষে কলকাতার ‘ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড’ থেকে বের হয় এর ষোড়শ সংস্করণ। এ সংস্করণ প্রসঙ্গে প্রকাশক সলিলকুমার গাঙ্গুলি বলেন, ‘আতাগাছে তোতাপাখি বা হাট্টিমাটিম টিম চেনেন না এমন বাঙালি পাওয়া যাবে না।’ তাঁর কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই, ‘রবীন্দ্রনাথের ‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে’ বা ‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে’, নজরুলের ‘ভোর হলো দ্বোর খোলো খুকুমণি ওঠরে’, জসীম উদ্‌দীনের ‘আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা আম কুড়োতে যাই’, হোসনে আরার ‘সফদার ডাক্তার মাথা ভরা টাক তার’, সুকুমার রায়ের ‘বাবুরাম সাপুড়ে কোথা যাস বাপুরে’, মদনমোহন তর্কালঙ্কারের ‘সকালে উঠিয়া আমি মনেমনে বলি সারাদিন আমি যেনো ভালোভাবে চলি’ এবং বেনামি রচয়িতাদের ‘ঘুম পাড়ানি মাসি-পিসি মোদের বাড়ি এসো’, ‘আমপাতা জোড়া জোড়া মারবো চাবুক চলবে ঘোড়া’, ‘আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা’, ‘খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গী এলো দেশে’-এর মতো ছড়াগুলো পুরো বাংলাবিশ্বের কোন্ বাঙালির ঘরে আবৃত্ত হয় না? এমনকি বৃহত্তর বাংলা-ভূখণ্ডের বাইরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেসকল অভিবাসী বাঙালি রয়েছেন; তাদের ঘরেও এসব প্রবাদ-ছড়ার চর্চা চলে নিয়মিত।

বাঙালি সংস্কৃতির এই চিরায়ত এবং শাশ্বত বাস্তবতাকে মনে রেখেই প্রবাদ-প্রবচন এবং আধুনিক ও লৌকিক ছড়া বা লোকছড়া বিষয়ক এই লেখায় বিস্তৃত পুণ্ড্র জনপদের কেন্দ্রভূমি বগুড়া অঞ্চলের কৃষ্টির দিকেই মনোযোগ নিবিষ্ট রাখার চেষ্টা করা হয়েছে; এবং খানিকটা জোরের সাথেই দাবি করা যায় যে, এখানে উপস্থাপিত বেশকিছু প্রবাদ ও ছড়ার আদি উৎসারণ ভূমি বা জন্মস্থল মূলতই পুণ্ড্রঅঞ্চল তথা বগুড়া ও আশপাশের অঞ্চলসমূহ। সেসবের মধ্যে নিম্নে উদ্ধৃত লোকপ্রবাদ ও লোকছড়া ক’টি এই দাবির অনুকূলে বিশেষ নমুনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

প্রবাদ

> যে দ্যাশে যে বাও উবুত কইরা বয় নাও।
> কুইটকার কথা কুটি গ্যান্দা মারে পুটি।
> মুখভরা খলবলানি ঘাই, কোনো কথার আইল-বাতর নাই।
> ও গাঁয়ের দেওয়ান এ গাঁয়ের কী আনছোস ঘোড়া বাতর দ্যা নি।
> ঘ্যাগা নিন্দা করে গলাফুলার, ঝাইঞ্জর নিন্দা করে চালুনের।
> পালের গরু পালানের ঘাস কায় না।
> কে কতো ধনী এক পাতাতেই চিনি।
> সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে।
> খুটির ভরে খাইটা ডোবে না খাইটার ভরে খুটি ডোবে।
> যত গুড় তত মিঠা, অধিক গুড়ে হয় তিতা।
> বইসা খাইলে রাজার ভাণ্ডারও টুইটা যায়।
> লাভে লোহা বয়, বিনা লাভে তুলাও বয় না।
> ভাত দিয়া মারে, বুদ্ধি দিয়া বাঁচায়।
> আমি কি নাচন জানি না, মাঞ্জার বিষে পারি না।
> কইলে মা মাইর খায়, না কইলে বাবা কুত্তা খায়।
> দরদীর গিলা, আমডা খায়া কুইডা দিলা।
> রান্ধন সয় বাড়ন সয় না।
> এ কথা না ও কথা, দেছে বু এল্যা আলা পাতা।
> উমানি গুমানি সব বুবু সমানই।
> যে আমার কাউনের ভাত, তার আবার ডাইন হাত।
> মাঞ্জার বিষে বইসা বুড়ি ছ্যাচা গুয়া খায়, নিকার কথা শুইনা বুড়ি দৌড় দিয়া যায়।
> পানিত পাদ মাইরা কুমিরেক ভয় দেখাও।
> কম ট্যাকা যার ঘ্যাগা বাগুন তার।
> ভাত নাই প্যাটে সোনার আংটি হাতে।
> ঘোড়া আলার ঘোড়া নাই, চ্যারাগদারের ঘোড়া।
> বাপ দাদার নাম নাই, বাইশ্যা মন্ডলের শালা।
> ছোনের ক্ষ্যাতে বিয়াইছে গাই, সেই সম্বন্ধে খালাতো ভাই।
> আমিও ফকির হইলাম দ্যাশেও আকাল পইলো।
> চ্যাঙরা কালের ব্যাটা বুড়া কালের ট্যাকা।
> সারাদিন আলেডালে রাইত হইলে কার্পাস ঢলে।
> নরম মাটি পাইয়া ঘুগরা ওঠে ধাইয়া।
> নাপিত দেখলে নরুল বাড়ে।
> ভাতার গেছে পাবনা, আমার কিসের ভাবনা।
> সারা রাত সাপ মাইরা ব্যানা দেখে কলার ছ্যাতর।
> আছে গরু না বয় হাল, তার দুঃখ চিরকাল।
> কলা চোরের মাথায় ফাতরা ওড়ে।
> দুই দিনের বৈরাগী ভাতেক কয় অন্ন।
> সোনার আংটি ব্যাঁকাও ভালো।
> কাঙ্গালের কথা বাসি হইলে ফলে।
> বান্দির হাতেপায়ে ধরি, নিজের কাম হাসিল করি।
> ম্যাম্বর কচে চাচি হামি কী আর আছি।
> বিল নষ্ট করে পানা দিল নষ্ট করে কানা।
> লোম বাছতে কম্বল উজাড়।

ছড়া

> ও-লো লো কালবাদুরের ছাও
কালের পানি খাইও না কলসি আইনা দেও;
কলসির মধ্যে গোমা সাপ গমগম করে
তাই দেইখা বুড়া-ব্যাটা দাঁড়ি মোচর পারে।

> যায় বাঘা বনে
খায় আপন মনে
খায় আর কামড়ায়
দুই চোখ করমড়ায়।
দুই কানে দুই মুলা
ধান বাইর কর কুলা কুলা।
(হরগোপাল দাসকুণ্ডু)

> ছিকা লড়ে ছিকা চড়ে দুদ্দুরাতে ট্যাকা পড়ে
একটা ট্যাকা পাল্যাম নারে ব্যান্যার বাড়িত গেলাম নারে,
ব্যান্যার বাড়িত ঘুঘুর ভাঁসা একেক ভাঁসা নও নও ট্যাকা
নও ট্যাকা দিয়া কিনলাম গাই
গাইয়ের নাম মোনামুনি
দুধ দেয় আঠারো হাঁড়ি।
রাজা খায় প্রজা খায়
কত্ত দুধ ঢেইয়ে যায়।
(হরগোপাল দাসকুণ্ডু)

> মাও লক্ষ্মী দিলো বর
ধান কুলা-দুই বার কর।
ধান দ্যায় না দ্যায় কড়ি
তাক করি লড়িঝড়ি
লড়িঝড়ি রাম রে
সোনার কড়ি বাম রে।
(খোদেজা খাতুন: ১৯৭০:১২৭-১২৮)

> সাত বামনের সাত ন্যাট
বুড়া বামনের হাঁড়া প্যাট
হাঁড়া প্যাটত মারমু গুঁড়ি
ছেলে বাড়ালো আড়াই কুড়ি
ছেলের নাম আখাল গোপাল
বুড়ার নাম বুড়া গোপাল
বুড়ির নাম ল্যাজকাটা ডোমরি।
(হরগোপাল দাসকুণ্ডু: ১৩১৮:৩৯০-৩৯১)।

লেখাটিজুড়ে যেসব তথ্য, তত্ত্ব, উপাত্ত, উদ্ধৃতি এবং ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে সেসবের নির্যাসরূপে সবশেষে বলা যায়, বগুড়া ও বৃহত্তর পুণ্ড্রঅঞ্চলের একান্ত সম্পদের নমুনা হিসেবে উপসংহারের উপান্তে প্রদর্শিত লোকপ্রবাদ ও লোকছড়াগুলোরও কোনো কোনোটি হয়তো বাংলাবিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রচলিত থাকতে পারে। সুতরাং বাংলা ভাষা ও বাংলা সংস্কৃতির সব ঐতিহ্য পুরো বাংলা-ভুবনের যৌথ এবং সমন্বিত সম্পদ বলেই আমাদের চূড়ান্ত বিশ্বাস।

তথ্য, তত্ত্ব ও ভাবোৎস

> প্রবাদের উৎসসন্ধান, সমর পাল, শোভা প্রকাশ, ঢাকা, ২০১১
> লোকসাহিত্যের কাঠামোগত স্বাতন্ত্র্য পূর্ব বগুড়া, বেলাল হোসেন, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, জুন-২০০৮
> বগুড়ার ছড়া: চর্চার অর্ধশতক, সাজ্জাদ বিপ্লব, পাতা প্রকাশ, তোপখানা রোড, ঢাকা, বইমেলা-২০১৭
> বাংলাদেশের ছড়ায় গণচেতনা (প্রবন্ধ), বিশ্বজিৎ ঘোষ, কালি ও কলম
> লৌকিক ছড়া প্রসঙ্গে (প্রবন্ধ), ড. মন্টু বিশ্বাস
> সমৃদ্ধ জনপদ ধ্রুপদি ধুনট, প্রকাশক উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ধুনট, বগুড়া, ২০২৫
> কাজিপুর উপজেলা ডায়েরি, ২০১৯
> দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার অন্য আলো, ১৬ এপ্রিল ২০২৩, লোকছড়া সংগ্রাহক তারিক মনজুর
> লেখকের নিজস্ব প্রাথমিক অনুসন্ধান, পর্যবেক্ষণ ও ভাব-চিন্তন।

এসইউ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।