জাকিয়া নাজনীনের তিনটি কবিতা

জাকিয়া নাজনীন
জাকিয়া নাজনীন জাকিয়া নাজনীন , কবি
প্রকাশিত: ০৬:৩০ এএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৭

পরম্পর

আমাকে শেখালে নদী-চরিত্র!
তবে শোনো হে নদীভক্ত পুরুষ, তোমাকে জানাই সত্য
আমিই মুঠোয় ধরি সনাতনী পাহাড়, বরফশুভ্র চূড়া
হুলস্থুল সূর্য্টা বহুকাল হয়ে থাকে হাসিখুশি রঙ টিপ আমার কপালে
অতঃপর প্রমাণিত হলে শুদ্ধতা
মুঠো ভরে পুরে দিই নিবিড় উষ্ণতা
পবিত্র নদীরা ভূমিনিষ্ঠ হয়
এইসব নদীতীরে যে প্রথম বসতি গড়ে
যার নামে বেড়ে ওঠে জনপদ সেও আমি
আর তাই নদীদের নামাবলি কেবল আমারই আছে জানা
আজ সেইসব নাম-মন্ত্র উচ্চারণ করব বলে দাঁড়িয়েছি কাছাকাছি
আমায় চিনেছ, কবি?

উজ্জ্বলতম আলো

ওইসব রাত
যেসব রাতে শরীর বালি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে
অন্তর পাখি হয়ে অচেনা অন্ধকারে গিয়ে দাঁড়ায়
উজ্জ্বলতম আলোর মতন
তখন তাকে চেনা নামে ডাকতেও ভয় হয়
কেননা দূর থেকে তাকে ইবলিশের চেয়েও
বেশি নিবেদিতপ্রাণ বলে মনে হয় এবাদতে
অথচ তুমি জানো আর অভিজ্ঞতা থেকে আমিও কিছুটা
এরপর কতটা অহংকারে
পড়ে যাবে পা; ডুবে যাবে অন্তর আবারও দাসত্বে
তবু ওইসব রাত! ওইসব রাতের অন্তরভেদী
আকর্ষণে নাম আর ভাতের নেশা সহ্য করে নেয়
অপরাপর সব রাত।

অন্ধকার
চারটি অন্ধ দেয়াল অন্ধকার ঘিরে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।
মৃত ভেবে ওরা আমায় এইখানে নামিয়ে দিয়ে গেছে।
ওরা কি জীবনের দিকে গেছে?

এইচআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :