উদীচীর সাবেক সভাপতি সফিউদ্দিন আহমদ মারা গেছেন

সাহিত্য ডেস্ক
সাহিত্য ডেস্ক সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১০ এএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ মারা গেছেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ ১৯৪১ সালের ১৯ অক্টোবর নরসিংদী জেলার রায়পুরায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রায়পুরা আর কে আর এম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। আইএ পাস করেন ১৯৬২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ থেকে বিএ এবং এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্র সাহিত্যের ওপর উচ্চতর পর্যায়ে পড়াশোনা ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

চাকরি জীবনের শুরুতে তিনি নেত্রকোণা কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। পরে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সরকারি চাকরি লাভ করেন এবং সেই সূত্রে বরিশালের বিএম কলেজ, ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ ও সিলেটের এমসি কলেজে অধ্যাপনা করেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্তব্যরত অবস্থায় ২০০৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

সফিউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের একজন শিক্ষাবিদ, গবেষক, প্রাবন্ধিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে উদীচীর ২০তম সম্মেলনে তিনি সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি উদীচীর ২২তম জাতীয় সম্মেলন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

তিনি বাংলা সাহিত্য, তুলনামূলক সমালোচনা এবং বিশ্বসাহিত্যে পণ্ডিত; তথ্যসন্ধানী এবং সমাজমনস্ক ও প্রগতিশীল চিন্তাচেতনায় ঋদ্ধ একজন মৌলিক গবেষক। তার গবেষণা গ্রন্থ ডিরোজিও এবং ইয়ং বেঙ্গল মুভমেন্ট ও ডিরোজিও বাংলা গবেষণা সাহিত্যে একটি মৌলিক অবদান হিসেবে স্বীকৃতি। বাংলাদেশে উনিশ শতকের রেনেসাঁর বিশ্লেষণ ও গবেষণায় তার অবদান যুগস্রষ্টা হিসেবে স্বীকৃত।

এসইউ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।