মাকে নিয়ে নুসরাত সুলতানার চারটি কবিতা

সাহিত্য ডেস্ক
সাহিত্য ডেস্ক সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৫৯ পিএম, ০৮ মে ২০২২

মা

ডিম মুখে নিয়ে—
বাচ্চাকে জন্ম দিয়ে,
গিলে ফেলার ভয়ে—
তিন মাস অনাহারে থেকে,
মুখে রেখে বাচ্চাকে বড় করে
মা তেলাপিয়া।
হা করে বের করে দেয়
পোনারা সাঁতার কেটে
আবার মুখে ঢুকে যায়।
একটু বড় হয়ে ছেড়ে যায় মাকে।
মা হাতি বাইশ মাস বাচ্চাকে গর্ভে পুষে রেখে
এক সমুদ্র বেদনায় প্রসব করে।
মা মুরগি একুশ দিন সব ভুলে ডিমে তা দেয়,
বাঘিনী সন্তানকে বাঁচাতে বাবা বাঘের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখে।
আমাদের মা নয় মাস গর্ভে পুষে রেখে
এক সমুদ্র বেদনায় প্রসব করেন।
সব মায়ের জন্ম দিয়েই দায়মুক্তি ঘটে,
আমাদের মা আমৃত্যু ভালোবাসার হাতিয়ারে
সন্তানকে নিখুঁত করে গড়তে চান।
মা চরম, বাস্তব বেদনা বিধুর, মধুর এক প্রশান্ত জলাশয়।
মানুষের বাচ্চা মায়ের স্তন চোষে আড়াই বছর,
আর আত্মা চোষে আমৃত্যু।

****

আমার মা

আমার মা সেরা মা
সবার চেয়ে ভালো,
আমার মায়ের কষ্ট হলে
মুখটি আমার কালো।

বড় হয়ে আনব কিনে
রঙিন পাড়ের শাড়ি,
আর ক’টা দিন সবুর কর
গয়না দেব ভারী।

সবাই তখন তোমায় দেখে
করবে খুব ঈর্ষা,
বলবে তুমি হেসে তখন
পাগল ছেলের কিসসা।

****

কারিগর

আমি তোমার ভেতরে খুঁজে পাইনি কখনো
কোনো অবলা নারী,
কিংবা অতীব মায়াবতী জননীকে।
তুমি ছিলে আমার কারিগর।
তুমি আমাকে রোদ্রে জ্বালিয়েছো,
বৃষ্টিতে ভিজিয়েছো।
দু’চোখে স্বপ্ন বুনেছো;
চাঁদে যাবার!
মিছিলে স্লোগান ধরতে বলেছো
অগ্রভাগে!
আজও তোমাকে খুঁজে পাই
আমার রক্তে বহমান বিপ্লবে!
সত্যের নির্ভীক উচ্চারণে!
নিজেকে স্বাবলম্বী ভাবার আত্মপ্রত্যয়ে!
তোমার দৃপ্ত উচ্চারণ,
কানে বাজে আজও;
‘পারি না বলে কিছু হয় না,
যেখানে বপন করা হবে,
সেখানে গজাবে!’
ভালোবাসি তোমাকে আমার জীবনের কারিগর!
আমার গর্ভধারিণী,
আমার জননী সাহসিকা।

****

মা, মধুরতম ডাক

যখন আমি মা ডাক শুনি;
আমার রক্তে মাতম ওঠে,
প্রতিবার আবার আমি মা হয়ে জন্মাই।
আবার আমি কান পেতে শুনি বিবেকের কণ্ঠস্বর
আমি ছুড়ে ফেলি নুলো আবেগ
কাম, ক্রোধ, ক্ষোভ আর হতাশা।
আমি আবার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই,
এক সুন্দর পৃথিবী বিনির্মাণের!
যেখানে কার্বন-ডাই-অক্সাইড থাকলেও সীমিত
বুকভরা নিশ্বাসের জন্য আছে পর্যাপ্ত অক্সিজেন
আছে প্রজাপতি, ঘাস ফড়িং
আছে জোছনা আর পদ্ম সরোবর।
আমি কল্পনা করি আমার মায়ের
পান খাওয়া লাল ঠোঁটের—
মুচকি হাসির মসৃণ মুখ।
কী পবিত্র, কী সত্য, কী অদ্ভুত সুন্দর!
আমি ফিরে যাই আমার স্রষ্টার কাছে;
কৃতজ্ঞতা জানাই;
হে অসীম দয়াময়, তুমি আমাকে মাতৃত্ব দিয়েছো
দিয়েছো শ্রেষ্ঠ দান আর অপার মহিমা।
প্রতিবার মা ডাকের জন্য
আমি তোমার দরবারে অপরিসীম কৃতজ্ঞ!
এই মধুর ডাক আমার, আমাদের
কান হয়ে হৃদয়ে পৌঁছাক আমৃত্যু!

এসইউ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]