শাহমুব জুয়েলের গল্প ‘ভাঙতি সকাল’

সাহিত্য ডেস্ক সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:১৮ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাপের সম্পত্তি নিয়ে কচকচ করার মত সব সংসারে এমন হাদাচালাক দু’একজন থাকে। কচলিয়ে কচলিয়ে ভাগে কম দেবার ধান্দা করে। বাঙালি ঘরের এ বদখাছলত যুগে যুগে চলে আসছে। যারা ঠকবাজ তাদের জিভের তলে নীতিসাউন্ড বেশি হাই তোলে। ভূঁইয়া পরিবারের এমন ব্যাটা সালামত ভূঁইয়া বাপের কালের অভিজাত খরচা করে গা হেলিয়ে বেড়ায়।

ছোট ভাই জমির ভাইয়ের মুখের ওপর রগ টান করে না। কিন্তু ভাঙনের স্বর পেয়ে নড়ে বলল, ‘কপাল ভালা, আপনার রক্তটা মায়ের।’ মা বয়সের ভারে ন্যুব্জ তা ভেবে মুখ আমাটায় সালামত ভূঁইয়া। জমির সংযত হতে পারে না। মুখের উপর বলল, ‘গলা নামান... মনে করছেন কিছু বুঝি না। চুপ করে থাকি ভদ্রতা টাঙাই। কারণ হলো মানুষ সিন্নি পাইবো নইলে কবেই মোচড় দিয়ে বুঝাইতাম কত ধানে কত চাল। চুয়া চুয়া কথা বলে ঠকানোর ফন্দি। আমি বাপের ঘরে জন্ম নিছি না। ভরা গাঙের জলে ভাইস্যা আইছি। একসুতাও কম নিমু না।’ সাফ জানিয়ে দিল জমির। তার মা জমিরের হাত ধরে বলল, ‘ওরা জালিম ওরা ঠক ওরা অমানুষ এদিকে আয়, মা থাকতে তুই বাবা মাথা গরম করিস না।’ বড় ছেলে সালামত মায়ের দিকে তাকিয়ে মুখ টিপে টিপে হাসছিল। ঠিক কেন কারো মাথায়ই ধরছিল না। সেদিন থেকে জমির আর মাথা উঠায় না; জ্ঞানের নেশায় বাড়ি ছেড়ে শহরে চলে যায়।

বিলে কানিকানি সম্পত্তি তাদের এবং কৃষিনির্ভর সংসার। অনেকদিন ধরেই হান্ডিপাতিল এক আছে। গাঁও-গেরামে একটা সংসারই টিকেছিল বহুবছর। এ নিয়ে গেরামের দোকানপাটে সকাল-সন্ধ্যা অনেকেই কানাঘুষো করতো। কেউ কেউ ভেঙচি কেটে বলতো, ‘কেমনে সই আছে তারা চার ভাই। তাদের কোন নড়ছড় দেখি না। রাস্তার পাশে বাড়ি তবুও আছে না নাই টেরও পাই না।’

বাবা ট্রাক্টরের পার্স কিনতে ঢাকায় গেল। দেশে রাজনীতির খেচরামি চলছিল। শ্যামপুর থেকে সদরঘাট ফেরার পথে বাসে আগুন দাউদাউ করে উঠল এবং ঝলসে গেল সে। জমিরের বয়স ছিল তখন দশ বছর। জাহানারা বেগম বড় ছেলে সালামতের হাতে সংসারের ভার উঠিয়ে বলল, ‘বাবা, জমির ছোট মানুষ, ওর বুঝজ্ঞান নাই, খেয়াল রাখিছ তোদের বাবা নাই, আমারও শরীর ভালা না। কোন সময় কী হয় কে জানে, মিলেমিশে থাকিছ। জগড়া করিছ না, গেরামের মানুষ খারাপ কইবো।’ সালামত মাকে জড়িয়ে ধরে শপথ করে বলল, ‘মা তুমি কী যে কও! আমি থাকতে ভাইদের গায়ে আঁছড় লাগতেও দিমু না।’ সেদিন মা সবকিছু দেখভালের দায়িত্ব দিল তার কাঁধে এবং সব হিসাব-নিকাশ তার হাতেই আমানত ছিল। বাকি দু’ভাই গাধার মত খেটে খেটে প্রতিবছর গোলাভর্তি করে কোন টু-শব্দও করে না। বেশ সুন্দরমতই চলছিল তাদের কৃষক পরিবার। লোকের মুখে মুখে তাদের মিলমিশের শিরোনাম গড়াতে লাগল।

তিন ভাই বিয়েশাদি করেছে, বাচ্চাকাচ্চাও বড় হয়েছে তাদের। জমির পড়াশোনা করে। এসএসসি পাশের আগ পর্যন্ত সংসারের সাথে লেগেছিল। গতবছর শহরে ভর্তি হয়েছে সে। বড় ভাই মাসে মাসে টাকা পাঠায়। মাসের এক তারিখ হলেই মা সালামতকে ডেকে বলে, যা জমিরের টাকাটা বিকাশ করে আয়। জমির কোন টান-তাগাদা চোখে দেখে না। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা, চোখেমুখে পড়ার চাপ। মায়ের কাছে বলতে রাতেই বাড়ি ফিরল সে।

সালামত অনেকদিন মায়ের কাছে ঘেঁষে না। কিন্তু জমির বাড়ি ছাড়ার পর দিন-রাত মায়ের পিছে চড়ে থাকত। সকাল-সন্ধ্যা দু’বেলা বসতে বসতে মায়ের খাট ম্যাচা করেছে সে। জমিরের আসার আগে দু’দিন আগে কথা হয়েছিল। জমির বাড়ি ফেরে। খবর পেয়ে ছুুটে আসে সালামত। মা সালামতের দিকে ভেলভেল করে তাকিয়ে রইল। সে জমিরের খোঁজ-খবর নিয়ে বলল, ‘জমির, ভালো হইছে, বাড়ি ফিরছো। অনেকদিন মায়ের শরীরও ভালো না। কেবল আবোলতাবোল বকে।’ জমির বাড়ি ফিরে মায়ের কাছে এসে বসল, মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘মা তুমি কেমন হয়ে গেছো?’ মা দু’চোখের পানি ফেলে কিন্তু কিছু বলে না। যে মা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কত কী জানতে চায়, সে আজ কোনকিছুুই জানতে চায় না। মায়ের চোখের নদীর জোয়ারের মত জল খেলা করছে। সালামতকে দেখার পর মায়ের চোখ টলমল করতে লাগল এবং কান্না বেড়ে গেল। ‘কী হইছে মায়ের! ও মা তোমার কী হইছে। কও না তোমার কী হইছে? আমারে কও তোমারে কে কী কইছে! কও না মা...’

জাহানারা বেগমের মুখের ভাষা এখন কান্না। সালামত পাশে বসেছিল। অনেকক্ষণ পর জমিরকে বলল, ‘দেখলি তো। মায়ের কী অবস্থা! এখন যেটা বলতাম, সকালে এলাকার কয়েকজন আসবে।’ জমির বলল, ‘ভাই, কেন আসবে?’ সালামত বলল, ‘এই তো আমাদের জায়গা-জমিন নিয়ে একটু আলাপ করবো? শুন, আমার শরীরও তেমন ভালো না; অন্যদিকে মায়ের অবস্থা তো নিজ চোখেই দেখলি।’ জমির মাথা নিচু করে রইল। সালামত উঠে বলল, ‘এ-ই কথা, এখন উঠি আমি। আমার একটু কাজ আছে।’ বলে মায়ের খাট থেকে উঠে সালামত বেরিয়ে গেল।

মায়ের আঁচল সন্তানের স্বর্গলোক। পৃথিবীর কেউ না বুঝলেও মায়ের মন বোঝে, তাই সন্তানের প্রতি তার সজাগ দৃষ্টি থাকে। জাহানারা বেগমও সন্তানদের মন ভরে ভালোবাসে। জমির ছোট ছেলে, তার প্রতি মায়া বেশি। জীবনের শেষ সময়ের ছেলে সে। জমিরের এখনো হুঁশজ্ঞান হয়নি। ভাইদের উপর অনেক ভরসা তার। কতদিনের জোড়াসংসার হঠাৎ ভাঙনের চিন্তায় বড় ভাই উঠে পড়ে লেগেছে। কেন সম্পর্কের তলানি জমির বুঝে উঠতে পারে না; রাত বাড়ছে কিন্তু মন খচখচ করছে। মায়ের চোখ মুছে দিয়ে বলল, ‘মা তুমি খেয়েছো, মা তুমি খাইছো?’ মায়ের চোখে আবার জল চলে এলো। এমন সময় খাবার নিয়ে এলো সালামতের স্ত্রী, তাকে সামনে দেখেই গিজগিজ দিয়ে উঠল জাহানারা বেগম।

‘যা খামু না তোর খাবার।’ জমির দু’জনের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কী হয়েছে তোমাদের! ভাতের সাথে কী?’ ‘জমির চুপ কর। হারামজাদিরে কও দু’চোখের সামনে থেকে দূরে যাইতো।’ সালামতের বউ মুখ বাঁকা করে খাবার রেখে বলল, ‘বয়স হইছে, এহনো কী খেমটি মারে রে...’। বলে সে চলে গেল। জমির হাত কচলায়ে মায়ের মুখে ভাত তুলে দিল। প্রথম নিতে না চাইলেও জমিরের অনুরোধে কয়েক লোকমা খেয়ে নিল সে। মায়ের মশারি টানিয়ে বের হয়ে গেল জমির। নিজের রুমে গেল। কী এলোমেলো হয়ে আছে সব। আগে বাড়িতে হাই তুললেই সব ঠিক হয়ে যেত। বড় ভাবিই বিছানাপাতি ঠিক করে দিতো। আজ মনে হচ্ছে, সংসারে গোলমাল দেখা দিয়েছে। বাড়িতে তিনটা ঘর। বাবার আমলের পুরান ঘরে থাকে তার মা। মাঝেমধ্যে সে এলেও এ ঘরেই ঘুমায়। তার বাবাও ছোটছেলে হিসেবে তার বাবার কাছ থেকে ঘরখানা পেয়েছিল। সে হিসেবেই জমিরও হয়তো একদিন এ ঘরের মালিক হবে। যদিও জমিরের মাথায় এসব ভিড় করে না; তার চিন্তা এখন পড়াশোনা করে ভালো কিছু করা। এ মুহূর্তে অন্যকিছুতে তার মন নেই।

বালিশে মাথা রাখল জমির। চোখ গেল কাড়ের দিকে। আড়ের উপর চকে লেখা আছে, ‘জমির হোসেন জন্মসাল’। সে উঠে বসে আবার দেখলো। লেখা দেখে মনে হলো। অনেক পুরোনো লেখা। তবে মায়ের হাতের লেখা যে জ-বর্ণের টান দেখেই বুঝতে পারলো সে। সার্টিফিকেটে তার যে জন্মসাল, তাতে সে ভাবলো তাহলে আড়ের লেখাই তার প্রকৃত জন্মতারিখ। যা হোক, এসবে আর কী আসে যায়। তার জন্ম তো ঠিক আছে। ঘুমিয়ে পড়ল জমির।

সকাল হলো। আলো কুয়াশা ভেদ করে দক্ষিণের ক্ষেতে চ্যাক দিয়ে দিয়ে পড়ছে। বাড়ির মাঝখানে উঠান। সালামতের বউ বিছানাপত্র ঢেলে দিচ্ছে মাটির উপর। সালামত পানের কৌটা হাতে এগিয়ে জমিরকে ডাকল। জমির সায় দিয়ে বলল, ‘ভাই আসছি... তোমরা বসো।’ একে একে সালামত সব ভাইকে ডাকল এবং তারা এসে বসল। এলাকার মাতুব্বররাও সিগারেট টানতে টানতে উঠানে পৌঁছে গেল।

গ্রামের দরবার। আসল কথা অনেকদূর। তাই কথার আগে পুরোনো শ্লোক, কিচ্ছা, কাহিনি শুরু করলো দরবারি আনোয়ারুল হক। জমির এসে বসল, সালামত বলে উঠল, ‘কইয়ো এবার শুরু করেন।’ আরেক দরবারি সুরুজ মিঞা বলল, ‘আনোয়ারুল­্যা তোর হাইছাল এবার ছিডা দে, আসল কথায় আয়। বাইছাল রাখ্।’ আনোয়ারুল হক পানের চিপটি ফেলতে ফেলতে বলল, ‘শুরু করেন। মানা করছে কে?’ কথা শুরু হলো। সুরুজ মিঞা বলল, ‘কী কন সালামত ভাই? কেন ডাকছেন?’ সালামত বয়ান শুরু করল, ‘জমিজামা নাল এবং হাল দাগ এখন আর আমি ধরে রাখতে পারি না। অন্যদিকে মার শরীরও ভালা না; খেনে ভালা খেনে খারাপ!’ আনোয়ারুল হক গলা হাঁকিয়ে বলল, ‘ভাজেরে অনেকদিন দেখি না’। বলতেই তাঁর চোখ গেল জানালার দিকে। জাহানারা বেগম তখন জানালা ধরে তাকিয়ে আছে। এদিকে সালামতের এক কথা, ‘আপনাগরে ডাকলাম, ভাগ-বাটোয়ারা করে দেন।’ দরবারিরা সম্মত হয়ে বলল, ‘ঠিক আপনাগো চার ভাই, এখানে ভাগের কী আছে। চার ভাগ করেন।’ সালামত পান চিবোতে চিবোতে বলল, ‘আমার একটু কথা আছে।’ অন্যরা বলল, ‘কী কথা!’ সালামত তার বউকে ডেকে বলল, ‘কই গো দলিলের ফাইলটা দে!’ ঘর থেকে দলিলের ফাইল নিয়ে হাজির হলো তার স্ত্রী। সালামত দলিল দেখিয়ে বলল, ‘এ দলিলের দাগ বাদে ভাগ করেন।’ আনোয়ারুল হক একটু নড়ে বসল, ‘সেটা আবার কী?’ সালামত বলল, ‘মা এ জায়গা আমাকে দলিল করে দিয়েছে।’ জমিরের চোখ বড় হয়ে গেল। উপস্থিত সবাই সবার দিকে চোখ পাকাতে লাগলো।

সুরুজ মিঞা তড়িগড়ি করে বলল, ‘কী ব্যাপার আপনারা চুপ কেন? এবার ভাগ করেন!’ আনোয়ারুল হক নড়ে বলল, ‘কী ভাগ!’ সুরুজ মিঞা বলল, ‘কবলা বাদে যা আছে তা।’ জমির চিৎকার দিয়ে বলল, ‘না, এটা হতে পারে না! না, এটা হতে পারে না।’ মায়ের কাছে এগিয়ে গেল। মাকে জিজ্ঞাসা করলেও কোন উত্তর করল না।

শুধু বলতে লাগলো... ‘বড় হারামজাদা! বড় হারামজাদা!’ জমির কিছু না বলেই দরবার থেকে সরে গেল। এ ফাঁকে ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে গেল। উপস্থিত সবার স্বাক্ষর নিয়ে, স্থান নিয়ে কাগজপত্র গুছিয়ে নিল সালামত। আনোয়ারুল হক সুরুজকে বলল, ‘কিরে ঘটনা কী?’ ‘আরে ভাগ পাইবেন, চাইপা যান।’ ‘হেডা ঠিক আছে কিন্তু সালামত ভাজেরে বাগাইলো কীভাবে?’ সুরুজ মিঞা কানে কানে বলল, ‘আরে কইয়েন না, গত সপ্তাহে বুড়িরে ডাক্তার দেখাইতে নিয়া গেছিল সালামত। আগেই সব রেডি করে রাখল। খালি বুড়ির স্বাক্ষরটা নিল।’ দু’জনে জোরে হেসে উঠল। দরবার শেষ। যে যার বাড়ি চলে গেল। সালামত রাতে খাবারের আয়োজন করল, জমির কাউকে কিছু না বলে বাড়ি ছেড়ে চলে গেল। রাতে ধুমধাম খাওয়া-দাওয়া হয়ে গেল। বাড়ির রানি এখন সালামতের স্ত্রী।

কাপড়ের কুচি ঠিক করে আর ঘনঘন চিপটি ফেলে মাটির উপর। চাঁদের আলোয় তাদের স্বামী-স্ত্রীর দাঁত চকচক করে। জাহানারা বেগম ঘরে বসে জানালা দিয়ে কখনো আল্লাহ, কখনো বড় হারামজাদা, বড় হারামজাদিরে বলে চিৎকার দিয়ে ওঠে। সারারাত জাহানারা বেগম এভাবেই চিৎকার করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ল।

সকাল হয়ে গেল। সালামত নামাজ ধরেছে। আজানের সাথে সাথে বাড়ি ছেড়ে দেয়। জায়নামাজ হাতে মসজিদে চলে গেল। সালামতের স্ত্রী পুকুরের ঘাটে বাসন-কোসন মাজতে গেল। এমন সময় দেখে শাশুড়ি কুজিয়ে কুজিয়ে গোরস্থানের দিকে যাচ্ছে। জাহানারা বেগম স্বামীর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার দিয়ে বলল, ‘আমারে আপনার লগে রাখেন। আমি আর পারি না। কলিজা ফাইট্টা যায়। আমারে শেষ কইরা দিছে। জমির আমারে ভুল বুঝবে। আমি কী করমু আমারে কন... কন... না।’ বলতে বলতে নজর গেল গোরস্থানের উপর বাঁকা ডালের দিকে। জাহানারা ‘জমির...’ বলে চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

সালামতের স্ত্রী দৌড়ে এসে দেখে জমিরের লাশ ঝুলছে। সেও চিৎকার দিয়ে উঠলে আশেপাশের লোকজন ‘কী হইছে কী হইছে’ বলতে বলতে এগিয়ে এলো। কেউ লাশ ধরল না। মসজিদ থেকে দৌড়ে আসল সালামত। থানায় খবর দিল। এদিকে জাহানারা বেগমের মাথায় জল ঢালতে লাগল সালামতের স্ত্রী। তার জ্ঞান ফিরলে উঠে চারদিকে তাকিয়ে বলল, ‘বড় হারামজাদা! বড় হারামজাদা।’ জাহানারা বেগম চিৎকার করতে করতে বাড়ির আল ছেড়ে চলে গেল। রাস্তার পাশে ছেলেরা তাকে ঢিল মারতে লাগল। তাতে সে আরও রেগে ওঠে এবং ছেলেদের ধাওয়া করে। হাঁটতে হাঁটতে গ্রাম ছেড়ে হারিয়ে গেল। দেশে শ্বাসকষ্ট রোগ দেখা দেয়। সালামতেরও রাতে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে গেল। পরিবারের কেউ সামনে ভিড়ে না। ছোঁয়া লাগলে কারো রক্ষা নেই। কেউ কাছে ঘেঁষে না; ফজরের আজান পড়ছে। দম চেপে আসলো সালামতের। বিছানায় ধড়ফড় করতে করতে তার শ্বাস উড়ে গেল। চারিদিকে আলো বাড়তে লাগলো।

সালামতের স্ত্রী দেখে জাহানারা বেগম পাতা কুড়াতে কুড়াতে বাড়ি ফিরছে। গায়ে ময়লা কাপড়। হাতে ইটের টুকরো। সে তাকে দৌড়াতে গেল। জাহানারা বেগম হাতের ইট ছুঁড়ে মারল সালামতের জানালায়। জানালা খুলে গেল এবং সে খিলখিল করে হাসতে হাসতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল।

এসইউ/এএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]