ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

শ্বেতপত্র প্রকাশ

নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগে ‘জামায়াতীকরণের’ অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি | নোয়াখালী | প্রকাশিত: ০৪:৩৫ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রশাসনের বিরুদ্ধে গত দেড় বছরে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক ‌‘জামায়াতীকরণের’ অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে ভাতা বণ্টন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের শিক্ষক নেতারা নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসংক্রান্ত ‘অনিয়মের শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করেন।

লিখিত বক্তব্য রাখেন নোবিপ্রবির সাদা দলের সভাপতি ও ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৩৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়। তার মধ্যে ৩১ জনই চিহ্নিত জামায়াত নেতাকর্মী। একজন বিএনপি ও অন্য দুজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত তিনজন নারী শিক্ষকের মধ্যে একজন জামায়াতপন্থি শিক্ষকের স্ত্রী। মুসলিম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

শ্বেতপত্রে দাবি করা হয়, নিয়োগ দেওয়া ২১ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১৯ জনই জামায়াতপন্থি। এরমধ্যে সাতজন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের পদধারী নেতা। এছাড়া ৬৯ জন কর্মচারীর মধ্যে ৫৫ জনই জামায়াতের নেতাকর্মী। জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের তদবিরে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, আইন বিভাগে নিয়োগপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক ড. শফিউল্যাহ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থি কোষাধ্যক্ষ এবং নোবিপ্রবি রিজেন্ট বোর্ডের এক সদস্যের আপন ছোট ভাই। এ নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও নীতিমালা ভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভর্তি পরীক্ষার সম্মানী বণ্টনেও ব্যাপক বৈষম্য করা হয়েছে। যেখানে সাধারণ শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৬ হাজার টাকা, সেখানে উপাচার্য দুই লাখ ১৫ হাজার, উপ-উপাচার্য দুই লাখ ১০ হাজার এবং কোষাধ্যক্ষ দুই লাখ ৮ হাজার টাকা নিয়েছেন।

সাদা দেলের নেতারা আরও জানান, ভর্তি সংক্রান্ত আইটি বিভাগের খরচ বাবদ পাঁচ লাখ ৩১ হাজার টাকার চেক ইস্যু করে প্রতিষ্ঠানের মালিককে মাত্র এক লাখ টাকা দিয়ে বাকি টাকা প্রশাসনের লোকজন আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের বেশ কিছু অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয় সংবাদ সম্মেলনের লিখিত শ্বেতপত্রে।

সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ফিশারিজ ও মেরিন সায়েন্স (ফিমস) বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব অনিয়ম-দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষর নজরে আনতে আজকের সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।’

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সাদা দলের নেতারা আজ সংবাদ সম্মেলন করে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন।’

উপাচার্য প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলন করা সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ সংক্রান্ত রিজেন্ট বোর্ডে সদস্য। নিয়োগের সময় তারা কোনো প্রশ্ন তোলেননি। কিন্তু এখন কেন এমন প্রশ্ন তুলে বিভ্রান্তি ছাড়াচ্ছেন।’

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইসমাইল আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি দপ্তর অত্যন্ত সুচারুরূপে পরিচালিত হচ্ছে। যে কেউ এসে তার প্রমাণাদি স্বচক্ষে দেখতে পারেন।’

তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও শিক্ষকদের বিভিন্ন পাওনা সরকারি নিয়মে বণ্টন করা হয়। বরং সংবাদ সম্মেলন করা অনেকে এরইমধ্যে বিভিন্ন কাজে নেওয়া লাখ লাখ টাকার কোনো হিসাব দেননি। এসব বিষয়ে মামলা চলমান।

সংবাদ সম্মেলনে সাদা দলের সভাপতি ও ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও ফিমস বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ, সদস্য ড. আবিদুর রহমান, জামাল উদ্দিন, আব্দুল বারেক, মিনহাজুল আবেদীন, জনি মিয়া, মোকাররম হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, মোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসআর/জেআইএম