আবরারকে নিয়ে ছোট ভাইয়ের স্ট্যাটাস

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭:৪৬ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৯
আবরারকে নিয়ে ছোট ভাইয়ের স্ট্যাটাস

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাসটি দেন তিনি ৷

ফেসবুক স্ট্যাটাসটি জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

ভাইয়া মারা যাওয়ার আগে ভাইয়ার শেষ কথা যা তখন পাশে থাকা ব্যাচমেটদের বলেছিল: "তোদের সাথে কোনো ভুল করে থাকলে আমাকে মাফ করে দিস। আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিও। বলে কালেমা পড়ে।"
অথচ এই খুনিদের মধ্যে:
১.মিজান: হলের অনেকেই তাকে অনেক খারাপ জানলেও তারা ভাইয়ের কাছ থেকে জানতে পারে মিজান নাকি অনেক ভালো। বাকি রুমমেটদের মতবাদ অনুযায়ী রুমে মিজানের সবচেয়ে বেশি সখ্য ছিল ভাইয়ার সাথে। কোথাও বাইরে খেতে গেলে নাকি ভাইয়াকে ছাড়া যেতই না।
২.মোয়াজ: ভাইয়ার রোল ৯৮ তার ১০৬। ভাইয়ার সাথে তার ভালো বন্ধুত্ব থাকলেও সে সেখানে উপস্থিত ছিল।
৩.তোহা: ভাইয়ার ১০৭ এর রুমমেট। যার সাথে দীর্ঘ সময় থাকায় ভালো সম্পর্ক ছিল।
৪.শামীম বিল্লাহ: একে টিউশন ঠিক করে দিয়েছিল ভাইয়া।
৫.খুনিদের মধ্যে দুজন কয়েক দিন আগেই সিলেটে গেছিল ভাইয়ার সাথে।
আসলে এদের তো সন্দেহ করার কোনো সুযোগ ছিল না যে এরাই এমন ষড়যন্ত্র করছে।।।
আগে একটা প্রবাদ পড়তাম: দুঃসময়ের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু (A friend in need is a friend indeed),,,,
বাবা-মা ছোট থেকে বলত বন্ধু থাকা ভালো না যখন কিছু হবে না তখন এরা সবসময় সাথে থাকবে কিন্তু বিপদে পড়লে দেখবি কোনো বন্ধুকে খুঁজে পাবি না।।।। তখন অগ্রাহ্য করলেও এখন ঠিক বুঝেছি কথাগুলা আসলেই ঠিক ছিল।।।যতই ভাই বলে ডাকা হোক না কেন বিপদে রক্তের সম্পর্ক ছাড়া কেউ আসে না।।
(মৃত্যুর পর বুয়েটের ভাইয়ারা যা করছে তার জন্য আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞ)

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটে নৃশংসভাবে খুন হন আবরার ফাহাদ৷ এ ঘটনার পর গত ১৫ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা কলেজে আসেন আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। ঢাকা কলেজ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তিনি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ভর্তি হন। আবরার ফাইয়াজ ঢাকা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়তেন।

নাহিদ হাসান /জেএইচ/জেআইএম

সর্বশেষ - ক্যাম্পাস

জাগো নিউজে সর্বশেষ

জাগো নিউজে জনপ্রিয়