বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় ছাত্রকে কক্ষে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুকুল আহমেদ
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের মুকুল আহমেদ নামে এক ছাত্রকে কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মারধরের ঘটনায় মুকুল গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার বাঁ-হাত ভেঙে গেছে। তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মুকুল আহমেদ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের দশম ব্যাচের ছাত্র এবং নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বরকান্দা গ্রামের মো. হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্ত তানজিদ মঞ্জু ও সিহাব উদ্দিন ইংরেজি বিভাগের অষ্টম ব্যাচের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে আহত মুকুল আহমেদ বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টিউশনি করে হলে ফেরার পথে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে দেখা হয় ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের কয়েকজন ছোট ভাইয়ের সঙ্গে। তাদের কাছে জানতে চাই রাতে তারা ক্যাম্পাসে যাচ্ছেন কেন। ওই শিক্ষার্থীরা জানান, দশম ব্যাচের (দ্বিতীয় বর্ষ) বড় ভাইয়েরা বঙ্গবন্ধু হলে ডেকেছেন। পরে মুকুল হলে ফিরে তাদের দশম ব্যাচের ডিসকাশন গ্রুপ নামে একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে একটি বার্তা দেন এবং লেখেন, ‘আমাদের ব্যাচের নামে ছোট ভাইদের ডাকা হয়েছে, অথচ আমরা জানি না। আগেও এভাবে ডেকে র্যাগিং করা হয়েছে অনেককে। তখন বিভাগের শিক্ষকদের কাছে আমাদের কৈফিয়ত দিতে হয়েছে। এখন আবার ডাকা হয়েছে, আমরা জানি না, এটা বাড়াবাড়ি ছাড়া কিছুই না।’
আরও পড়ুন: ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রাজনীতি ছাড়ছেন ববির ছাত্রলীগ কর্মীরা
মুকুল আরও বলেন, এই কথা লেখার এক মিনিট যেতে না যেতেই তানজিদ মঞ্জু আমাকে ফোন করে শেরে বাংলা হলের দিকে যেতে বলেন। এশার নামাজ শেষে যাওয়ার কথা বললে তখনই আমাকে যেতে বলা হয়। রাত ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু হলের পাঁচতলার নিজের কক্ষ থেকে চতুর্থ তলায় নামতেই তানজিদের সঙ্গে দেখা হয় এবং সেখান থেকে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় চতুর্থ তলার ৪০১৮ নম্বর কক্ষে। সেখানে নিয়ে কক্ষের সবাইকে বের করে দিয়ে কক্ষটি আটকে দেন তানজিদ। কেন মেসেঞ্জার গ্রুপে ওই বার্তা দিয়েছি তার কৈফিয়ত জানতে চান। এ সময় তানজিদ বলেন, তোর জন্য আমি একাদশ ব্যাচটাকে গোছাতে পারছি না। এসব বলেই শুরু করেন নির্যাতন। মঞ্জু ও তার সহযোগী সিহাব আমাকে উপর্যুপরি কিলঘুষি, লাথি এবং একপর্যায়ে জিআই পাইপ, চেয়ারের ভাঙা কাঠের হাতল দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেন। একপর্যায়ে জ্ঞান হারালে রাত ৩টার দিকে ওই কক্ষে ফেলে রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়ে তারা চলে যান। পরে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে আমাকে হাসপাতালে আনা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. খোরশেদ আলম বলেন, ঘটনাটি শোনার পর আমি ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া নিয়ে এঘটনা ঘটেছে। আমরা মুকুলের সার্বিক খোঁজ-খবর নিচ্ছি। সে অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও তাকে সহযোগিতা করা হবে।
আরও পড়ুন: হয়রানিমূলক মামলা থেকে বাঁচতে ববি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট আরিফ হোসেন বলেন, মুকুল আহমেদ বঙ্গবন্ধু হলের ৫০২০ নম্বর কক্ষে থাকেন। আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি মুকুলের ওপর হামলার ঘটনা সত্য। র্যাগিংয়ের কিছু বিষয় নিয়ে মুকুল ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। আর যারা এ ধরনের কাজে জড়িত থাকে তারাই মুকুলকে মারধর করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত তানজিদ মঞ্জু ও সিহাব উদ্দিনের ফোন নম্বরে কল করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।
শাওন খান/জেএস/এএসএম