জামায়াত আমির
৫৪ বছর ধরে যখন যে ক্ষমতায় এসেছে এ দেশকে খাবলে খামচে তছনছ করেছে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৫৪ বছর ধরে যখন যে ক্ষমতায় এসেছে, এ দেশকে খাবলে খামচে একেবারে তছনছ করে দিয়েছে। আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্র পরিবর্তন না হলে দেশের জন্য ভালো কিছুই করতে পারবে না।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় তিনি আফসোস করে বলেন, সাড়ে ১৫ বছর পর যখন একটা পরিবর্তন এলো, আমরা দেখলাম পুলিশ নাই, বিজিবি নাই, আনসারের ছায়াও নাই। নিভু নিভু অবস্থায় আমাদের সেনাবাহিনী জান দিয়ে চেষ্টা করছে কিছু করার, তারা পারছে না। তাদের পাশে মজবুত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। এ দেশ আমাদের দেশ। এত মজলুম একটা সংগঠন, এর নেতৃবৃন্দকে খুন করা হলো, ফাঁসি দেওয়া হলো। দফায় দফায় জেলে পোরা হলো, অফিস বন্ধ করে রাখা হলো। ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। আমাদের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হলো। শেষপর্যন্ত বেদিশা সরকার বেহুঁশ হয়ে আমাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করলো। এরপর আর হুঁশ ফিরে পায়নি। ওই বেহুঁশ অবস্থায় দেশ ছেড়ে তারা চলে গেছে।
কুষ্টিয়ার সমস্যার দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এখানে আপনাদের অনেক সমস্যা আছে। আমরা যখন আসছিলাম, ওপর থেকে দেখছিলাম পদ্মা-গড়াই নদী নয়, যেন মরুভূমি। এটা যখন মরুভূমি হয়ে গেছে, তখন ওপর থেকে যখন ঢলের পানি আসে তখন আর নদীতে থাকে না। দুই কূল উপচে পড়ে, দুই কূল ভাসিয়ে সবকিছুকে তছনছ করে দেয়। বছরের পর বছর নদীভাঙনের কবলে পড়ে বহু মানুষের জীবনের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। অনেক মানুষ সর্বস্বান্ত। কেন এমনটা হলো? নদী তো আল্লাহর নিয়ামত।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে আল্লাহর এই নিয়ামতগুলো তিলে তিলে খুন করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। এই নদী খননের জন্য প্রত্যেক বছর বাজেট থাকে। নদী খননের সব টাকা মুখ দিয়ে ঢুকে, পেটের ভেতরে চলে যায়; নদীর বালি আর ওঠে না। খননও হয় না। উন্নয়নের নামে ৫৪ বছর কমবেশি যারাই ক্ষমতায় গেছে, এই একই কাজ তারা করেছে।
দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম কুষ্টিয়া। এখানে খাজনার নামে চাঁদা তোলা হয় অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, এখান থেকে চাল বোঝাই করে ট্রাক রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যায়। সেখানে প্রতিটি ট্রাক থেকে বেসরকারি খাজনা আদায় করা হয়। চাঁদা বললে মানুষ একটু লজ্জা পায়, এজন্য বললাম বেসরকারি খাজনা। রেটও ভালো। প্রতি ট্রাকে ৫ হাজার টাকা। ট্রাকের মালিকরা অতিষ্ঠ, ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ।
তিনি বলেন, আমরা নিজেরা খাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না এবং দলীয় কর্মীদের পেট ভরানোর জন্য রাজনীতি করি না। বরঞ্চ এদেশের দুঃখী ভুখা নাঙ্গা মানুষের মুখে একটু খাবার তুলে দিতে পারি, আর পিঠে একটু কাপড় তুলে দিতে পারি সেই রাজনীতি করি। এটাই হবে আমাদের সংগ্রাম, ইনশাল্লাহ।
সকাল ৯টায় কুষ্টিয়ার আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হয় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভা। ভোর থেকেই দলটির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে। স্বেচ্ছাসেবকরা শহরের বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়ে জনসভাস্থলের পথ সুগম রাখার চেষ্টা চালান। সকাল ১০টার মধ্যে জামায়াত আমিরের জনসভাস্থলে পৌঁছানোর কথা থাকলেও কুয়াশায় বিলম্বিত হয় তার যাত্রা। জনসভাস্থলে পৌঁছান দুপুর ১২টার দিকে।
জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের দলীয় প্রার্থী আব্দুল গফুর, সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়ার্দ্দার, কুষ্টিয়া-৩ আসনের প্রার্থী আমির হামজা, কুষ্টিয়া-১ আসনের প্রার্থী বেলাল উদ্দিন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের প্রার্থী আফজাল হোসাইন ও কুষ্টিয়া শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির এনামুল হক।
আল-মামুন সাগর/এফএ/জেআইএম