ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ইউড্রেনগুলো যেন অর্থ আত্মসাতের হাতিয়ার!

প্রকাশিত: ০৭:১৩ এএম, ২৫ জুন ২০১৬

ঝিনাইদহে ইউড্রেনগুলো যেন জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের অর্থ আত্মসাতের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছরই একই ইউড্রেন নতুন করে নির্মাণ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায়।

সংশ্লিষ্ঠ অফিসে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এডিবির অর্থায়নে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রতি বছরই বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেন। যার মধ্যে নলকূপ স্থাপন, ইউড্রেন নির্মাণ, রাস্তা নির্মাণ, মসজিদ-মন্দির সংস্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেঞ্চ সরবরাহ ইত্যাদি। প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্ধ দেয়া হয়। কমিটি কাজ শেষে বিল দাখিল করে টাকা উত্তোলন করে থাকেন। কাজ দেখাশুনা করেন এলজিইডি।  

অফিস সূত্রে আরো জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য ৯ লাখ ৬০ হাজার ৭৯৫ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। একই বরাদ্ধপত্রে রায়গ্রাম ও রাখালগাছি ইউনিয়নে অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা করে ৪ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। একইভাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য ১১ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। এছাড়া রায়গ্রাম ইউনিয়নে ৩ লাখ, রাখালগাছি ইউনিয়নে ৪ লাখ ও উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরাম কর্তৃক বাস্তবায়নের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে।

অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, অতিরিক্ত বরাদ্ধের এই প্রকল্পগুলো একাধিকবার দেখানো হয়েছে। বরাদ্ধপত্র দেখা গেছে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রায়গ্রাম ইউনিয়নের অতিরিক্ত বরাদ্ধের টাকায় ভাতঘরা জামতলার মেইন রাস্তার পাশে ইউড্রেন নির্মাণ ও খামার মুন্দিয়া গ্রামে ইসমাইলের বাড়ির পাশে ইউড্রেন নির্মাণ, রাখালগাছি ইউনিয়নে আনিচুরের বাড়ির পাশে ইউড্রেন নির্মাণ ও বহিরগাছি শ্যামের জমির পাশে ইউড্রেন নির্মাণ প্রকল্প দেয়া হয়েছে।

দুই অর্থবছরেই একই প্রকল্প কমিটি দেখানো হয়েছে। যার সভাপতির নাম দেয়া হয়েছে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ও স্বপন আলী। অবশ্য তারা জানিয়েছেন, এই সম্পর্কে কিছুই জানেন না তারা। এমনকি কোনো স্বাক্ষর করেননি। এগুলো আত্মসাতের জন্য দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দফতরের একটি সূত্র জানিয়েছেন।

রায়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম জানান, তারা ৭৮,৪০০ টাকা ব্যয় করে এটি নির্মাণ করেন। অথচ এডিবির বরাদ্ধ দেখিয়ে আরো দুই অর্থবছরে এই দুইটি প্রকল্পে টাকা তোলা হয়েছে।

রাখালগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৬৮ হাজার টাকা খরচ করে তারা এটি করেছেন। অথচ এই দুইটি প্রকল্পও রয়েছে ওই দুই অর্থবছরের তালিকার মধ্যে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান জানান, এই প্রকল্পগুলো জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়ে থাকে। তারপরও পর পর দুই বছর একই প্রকল্প দেয়া হলে সেগুলো সংশোধন করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের বিল উত্তোলন হয়ে গেলে কিভাবে সংশোধন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজনে টাকা ফেরত চাওয়া হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি তার নজরে আসেনি। তবে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এসএস/আরআইপি

আরও পড়ুন