ময়মনসিংহে সবজির দামে স্বস্তি, উত্তাপ বেড়েছে মুরগির বাজারে
নতুন বছরের প্রথম দিনে ময়মনসিংহের বাজারে শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহে দাম কমলেও ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে মুরগির বাড়তি দাম। মাছ ও মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও মুরগির বাজার কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের মেছুয়া বাজার ঘুরে বাজারদরের এই চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, শীতকালীন সবজির প্রচুর সরবরাহ বেড়েছে। ফলে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহ ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে ঢ্যাঁড়স এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজিতে। এছাড়া করলা ৬০ টাকা থেকে কমে ৫০, দেশি শিম ৪০ টাকা থেকে কমে ৩০, টমেটো ৫০ টাকা থেকে কমে ৪০, কাঁচামরিচ ৫০ টাকা থেকে কমে ৪০ ও মটরসুটি ১২০ টাকা থেকে কমে ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। স্থিতিশীল অবস্থায় দেশি গাজর ৩০, গোল বেগুন ৪০, শসা ৪০, চিকন বেগুন ৩০, কাঁচা পেঁপে ২৫, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজিতে, কাঁচকলা ৩০ টাকা হালি ও লাউ ৫০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি কেনার সময় কথা হয় ফজলু মিয়া নামের একজন ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, বাজারে সবজির প্রচুর সরবরাহ বেড়েছে। বিশেষ করে শীতকালীন সবজিতে ভরপুর বাজার। এতে দামও কিছুটা কমায় স্বস্তি নিয়ে সবজি কেনা যাচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা ফরহাদ মিয়া বলেন, ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ বেশি। ফলে দাম কমেছে। সরবরাহ আরও বাড়লে ক্রেতারা আরও স্বস্তি নিয়ে সবজি কিনতে পারবে।
এদিকে বাজারে ব্রয়লার মুরগি, সোনালি কক মুরগি ও সাদা কক মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৭০, সোনালি কক মুরগি ২৯০ ও সাদা কক মুরগি ২৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। স্থিতিশীল অবস্থায় খাসির মাংস এক হাজার ১৫০ টাকা ও গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে।

আব্দুল করিম নামের এক ক্রেতা বলেন, সব ধরনের মুরগির দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। বিক্রেতাদের নির্ধারিত দামেই মুরগি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা। বাজার মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন।
মুরগি বিক্রেতা রিপন মিয়া বলেন, পাইকারিভাবে মুরগির দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে খুচরা বিক্রেতারা দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। দাম বাড়ানোর পেছনে খুচরা বিক্রেতাদের কারসাজি নেই।
একই বাজারে স্থিতিশীল অবস্থায় পাবদা ৩৯০-৫২০ টাকা, শিং ৩৪০-৬৪০ টাকা, টাকি ৪১০-৫৪০ টাকা, সিলভার কার্প ২১০-২৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৮০ টাকা, পাঙাশ ১৬০-১৯০ টাকা, রুই ৩২০-৪২০ টাকা, কালবাউশ ৩০০-৩৭০ টাকা, মৃগেল ২৬০-৩৩০ টাকা, কাতলা ৩৪০-৪৪০ টাকা, ট্যাংরা ৫১০-৭৮০ টাকা, কৈ ২৪০-৩৪০ টাকা ও শোল ৫৯০-৬৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, অসাধু বিক্রেতারা অনেক সময় যৌক্তিক কারণ ছাড়াই দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে চেষ্টা করেন। এতে ঝামেলায় পড়েন ক্রেতারা। এক্ষেত্রে ক্রেতাদের বিভিন্ন দোকানে যাচাই করে যে-কোনো পণ্য কেনা প্রয়োজন। এছাড়া বাজারে আমাদের নজরদারি রয়েছে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/কেএইচকে/এমএস