পাবনা ১ ও ২ আসনে নির্বাচন স্থগিত
ভোটারদের মধ্যে হতাশা, সঠিক সময়ে ভোট দাবি প্রার্থীদের
ফাইল ছবি
পাবনা ১ ও ২ আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে ভোটারদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। আসনের সীমানা নিয়ে মত-দ্বিমত থাকলেও সঠিক সময়ে ভোট দাবি করেছেন উভয় আসনের প্রায় সব প্রার্থী।
তথ্যানুযায়ী, পূর্বে জেলার সাঁথিয়া ও বেড়ার একাংশ নিয়ে পাবনা-১ ও সুজানগর ও আমিনপুর নিয়ে পাবনা-২ আসনের সীমানা ছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সাঁথিয়া উপজেলাকে একক পাবনা-১ আসন ও বেড়া ও সুজানগরকে পাবনা-২ আসন জানিয়ে গেজেট প্রকাশ করে। তবে এ গেজেটের এই দুটি আসন সংক্রান্ত অংশটুকুর বৈধতা নিয়ে বেড়া উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। পরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে ২৪ ডিসেম্বর পূর্বের পাবনা-১ আসন (সাঁথিয়া ও বেড়ার একাংশ) ও পাবনা-২ আসন পুনর্বহাল করা হয়। এরপর গত ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগের রায়ে ইসির ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির অংশটুকু স্থগিত করা হয়। এই স্থগিতাদেশ থাকবে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করা পর্যন্ত বলে রায় দেন আপিল বিভাগ।
এর ফলে নির্বাচন কমিশন ওই দুটি আসনের সীমানায় যে পরিবর্তন এনেছিল, তা বহাল হয়। অর্থাৎ একক আসন হিসেবে সাঁথিয়া পাবনা-১ এবং বেড়া ও সুজানগর নিয়ে পাবনা-২ বহাল হয়। এই রায়ের অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে পৌঁছানোর পরিপ্রেক্ষিতে এ দুটি আসনের নির্বাচন আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দুটি আসনেরই ভোটারদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটাররা বলছেন, পূর্বের কয়েকটি নির্বাচনে তারা সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। ফলে এটিকে আকাঙ্ক্ষার নির্বাচন হিসেবে দেখছেন ভোটাররা। হঠাৎ করেই দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত করায় হতাশায় ভুগছেন তারা। এক্ষেত্রে দ্রুত সীমানা সংক্রান্ত আইনি জটিলতা কাটিয়ে নির্ধারিত সময়ে ভোট অনুষ্ঠিতের দাবি তাদের।
আমিনপুরের ভোটার ফরহাদ শেখ বলেন, এতদিন যেভাবে ছিল তাতে তো সমস্যা হচ্ছিল না। এখন নির্বাচন চলে এসেছে, এদিকে বার বার সীমানা বদলাচ্ছে। আবার ভোট বন্ধ করা হচ্ছে। এসব বিভ্রান্তি দূর করে স্বাভাবিকভাবে নির্বাচন দিলেই হয়।
সাঁথিয়ার ভোটার মুহাম্মদ হাসান বলেন, পূর্বে আমরা ভোট দিতে পারিনি। এবার সুযোগ আসছে। কিন্তু এই দুইটা আসনের সীমানা নিয়ে নানা জটিলতা দেখা যাচ্ছে। এতদিনেও এর সুরাহা করা গেলো না, এটি দুঃখজনক।
ভোটার শাহজাহান আলী শেখ বলেন, একটা ভালো প্রার্থীকে ভোট দেবো। এলাকায় ভালো শাসনব্যবস্থা হবে। সেখানে আসনই ঠিক হচ্ছে না। এখন আবার নির্বাচন স্থগিত করা হলো। এটি কী ধরনের সিদ্ধান্ত। এরকমতো আগে দেখিনি।
এদিকে হঠাৎই নির্বাচন স্থগিতের বিষয়টিকে স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন না প্রার্থীরাও। তারা বলছেন, অতীতে সীমানা সংক্রান্ত বা অন্যান্য আইনি জটিলতায় এভাবে নির্বাচন স্থগিতের নজির নেই। ফলে এই সিদ্ধান্তে তাদেরও স্বস্তির জায়গা নেই।
পাবনা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী একেএম সেলিম রেজা হাবিব বলেন, নির্বাচন স্থগিতের ব্যাপারে অফিসিয়ালি তেমন কিছু জানি না। হঠাৎই গণমাধ্যমে দেখছি।
তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। ভোটাররা ভোট দিতে উদগ্রীব হয়ে আছে। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে আমরা হতভম্ব হয়েছি। ভোটারদের মন ভেঙেছে। যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ ছাড়া নির্বাচন স্থগিত করা আমার মনে হয় সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। নির্বাচন নিয়ে নানারকম ষড়যন্ত্র আছে। এর মধ্যে কোনো চক্রান্ত আছে কি না সে প্রশ্নও থেকে যায়। তবে আশা করি এ সংক্রান্ত সকল জটিলতা নিরসন করে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যবস্থা নেবে।
পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, এই সরকারকে তিনটি ম্যান্ডেড দেওয়া হয়েছে। এর একটি হলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এজন্য যে সীমানাতেই হোক জনগণকে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতেই হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মানসিক প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে। আমাদের প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে। সেক্ষেত্রে এখনো যদি আসনের সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন না হয় সেটি সবার জন্যই অসুবিধাজনক। বার বার সিদ্ধান্ত বদলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে একটি সমাধানে আসা উচিত বলেও জানান এ প্রার্থী।
এ ব্যাপারে পাবনা জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা বলেন, নির্বাচন স্থগিত হয়েছে কি না এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন থেকে আমি কোনো তথ্য পাইনি। এক্ষেত্রে এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না।
আলমগীর হোসাইন নাবিল/এফএ/এমএস