ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভাত পরিবহন করে সংসার চলে মগরেবের

প্রকাশিত: ০৬:০৮ এএম, ২৯ জুলাই ২০১৬

`হগলের ভাত ফেরি করে মোর সংসারডা চালাই। অনেক আমারে ডাহে ভাত ভাই কইয়া। হুনতে ভালা লাগে। হগলের খাওয়া শ্যাষ হইবার ফর আবার ওই বাটি লইয়া ফিরা আহি।` বলছিলাম ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার জলিলপুর গ্রামের ভ্যানচালক মগরেব আলীর (৭০) কথা।

মগরেব আলী আরো জানায়, এভাবে দীর্ঘ ১৬ বছর মানুষের খাবার পৌঁছে দেন তিনি। এতো কষ্টের পরও সব দিন ঠিকমতো খেতে পান না তিনি। এই ভাত টেনে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে তিনজনের সংসার চলে না। অনেকদিন আধাপেটা খেয়ে থাকতে হয়।

মগরেব আলী জানান, মহেশপুর শহরের ব্যবসায়ীরা তখন দুপুরের খাবারের জন্য কষ্ট করতেন। অনেকে ২/৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাড়িতে যেতেন দুপুরের খাবারের জন্য। যাওয়া-আসা আর খাওয়ার সময় মিলে বেশ সময় যেত তাদের। সেই সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখতে হতো।

এই অবস্থা দেখে তার মাথায় চিন্তা আসে তিনি ভ্যানে সবার খাবার পৌঁছে দেবেন। কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে শুরু করেন ভাত পৌঁছে দেওয়ার কাজ। বর্তমানে ৭০ জন ব্যবসায়ীর ভাত পৌঁছে দেন। তারা সময় মতো খাবার পান, দোকান বন্ধ রাখতে হয় না। এতে সপ্তাহে ব্যবসায়ীরা তাকে ২০টি করে টাকা দেন।

এই টাকা দিয়ে চলে তার স্ত্রী নাদিরা বেগম, এক ছেলে লিটন মিয়া, দুই মেয়ে কল্পনা আর আল্পনাকে নিয়ে তার সংসার। এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন, ছেলেও বিয়ে করে পৃথক সংসার করছেন। এখন এক কন্যা আর স্ত্রীকে নিয়ে বেঁচে আছেন তিনি।

এ ব্যাপারে মহেশপুর শহরের ঢেউটিন ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম জানান, সপ্তাহে তার ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা আয় হয়। এই টাকা আয় করতে তাকে নওদাগা, বৈচিতলা, বেগমপুর, জলিলপুর গ্রাম থেকে এই খাবার সংগ্রহ করে দোকানে দোকানে পৌঁছে দিতে হয়।  যে টাকা আয় করেন তা দিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটান।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এসএস/পিআর

আরও পড়ুন