সুনীল গোমেজ হত্যা রহস্য উন্মোচন
নাটোরের বনপাড়ায় মুদি দোকানি সুনীল গোমেজ হত্যা রহস্য উন্মোচন হয়েছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে ভিন্ন ধর্মালম্বীদের টার্গেট করে হত্যার অংশ হিসেবে সুনীল গোমেজকে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী পুলিশের হাতে আটক নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলের সামরিক কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজিব গান্ধীর স্বীকারোক্তিমূলক জাবানবন্দী থেকে এসব কথ্য বেরিয়ে আসে।
রোববার এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলের সামরিক কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজিব গান্ধী। দুপুর ১টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে নাটোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে হাজির করা হয় জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজিব গান্ধীকে।
প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক শামসুল আল আমিনের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজিব গান্ধী। পরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সুনিল গোমেজ হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার।
এসময় তিনি বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে ভিন্ন ধর্মালম্বীদের টার্গেট করে হত্যা করতো নব্য জেএমবির সদস্যরা। এরই অংশ হিসেবে হত্যা করা হয় সুনীল গোমেজকে। আর এই হত্যাকাণ্ড জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজিব গান্ধীর পরিকল্পনায় মোট ৬জন অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে কিলিং মিশনে অংশ নেয় পাঁচজন।
সার্বিক বিষয়ে পরিচালনা করতে উত্তরাঞ্চল জেএমবির এই শীর্ষ নেতা। পরে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের হাতে আটক হলে সুনীল গোমেজ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে। রোববার রিমান্ড এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খাইরুল আলম, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হাই উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন বেলা সাড়ে ১২টায় বনপাড়া খ্রিস্টান পল্লীতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মুদি ব্যবসায়ী সুনীল গোমেজকে। সে সময় এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে অজ্ঞাতদের আসামি করে বড়াইগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে নিহত সুনীল গোমেজের স্ত্রী স্বপ্না গোমেজ।
গত ৩ এপ্রিল গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পূর্ণভুতপাড়া গ্রামের ওছমান গণির ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব গান্ধীকে আটক করে বগুড়া ডিবি পুলিশ। পরে সুনীল হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৬ এপ্রিল নাটোরে নিয়ে আসে ডিবি পুলিশ।
৬ এপ্রিল নাটোর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবদেন করেন আব্দুল হাই। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
রেজাউল করিম রেজা/এআরএ/আরআইপি