ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পেট্রাপোলে দাঁড়িয়ে পণ্যবাহী ৫ হাজার ট্রাক

প্রকাশিত: ০৮:০৯ এএম, ০৮ জুন ২০১৭

দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আমদানি পণ্য নিয়ে ওপারে দাঁড়িয়ে আছে অন্তত ৫ হাজার ট্রাক। পেট্রাপোল-বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশে পণ্য আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে এ ধরনের জট দীর্ঘদিনের পরিচিত এক দৃশ্য। এ নিয়ে দুর্ভোগে রয়েছেন আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্টরা।

বেনাপোল বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বন্দর দিয়ে প্রতিবছর প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয় এবং প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়ে থাকে। প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে অন্তত সাড়ে চার থেকে পাঁচ’শ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ভারত থেকে আমদানি করা পণ্য নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। কিন্তু নানা সঙ্কটের কারণে এই বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে জটিলতা লেগেই থাকে।

বেনাপোল কাস্টমসের উপ কমিশনার মারুফুল ইসলাম জানান, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে ৩ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। গত ১১ মাসে প্রায় ৩ হাজার ৬শ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

প্রতিদিন যে পরিমাণ পণ্য আমদানি হয়, তার রাজস্ব আদায় করে দ্রুত ছাড় করানোর জন্য তারা সচেষ্ট বলেও জানান মারুফুল ইসলাম। একই সঙ্গে বন্দরে স্থান সঙ্কুলান না থাকার বিষয়টিও উঠে আসে তার কথায়। তিনি বলেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ পণ্যবাহী ট্রাক ওপারে আসছে, তার সবটা বন্দরে প্রবেশ করতে পারছে না।

Jessore

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজনও প্রায় একই কথা বলেন। তিনি বলেন, বেনাপোল বন্দরের অবকাঠামোগত সমস্যা ও পর্যাপ্ত ‘ইকুইপমেন্ট’ না থাকার কারণে আমদানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায় সবসময়ই ৫ থেকে ৭ হাজার পণ্যবাহী ট্রাক ওপারে পণ্য দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করে। আমদানি পণ্য খালাস ও স্থান সংকুলান না হওয়ায় বেনাপোলের ওপারে পণ্যের এই দীর্ঘ লাইন থাকে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে বহুবার অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সমস্যার উত্তরণ ঘটছে না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই বেনাপোল বন্দরের শেডগুলোতে স্থানস্বল্পতা রয়েছে। এই স্থলবন্দরের অধিকাংশ ক্রেন ও ফর্কলিফট অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে বছরের পর বছর। এতে বন্দরের মালামাল খালাস প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমদানিকারকরা বন্দর থেকে সময় মতো পণ্য খালাস করতে না পারায় বন্দরে সৃষ্টি হয়েছে পণ্যজট।

ট্রাক ঢুকলেও মিলছে না ক্রেন
সূত্রটি জানায়, বন্দরের গুদাম থেকে পণ্য বের করার পর নতুন পণ্য ঢোকাতে হচ্ছে। স্থান সঙ্কুলান না হওয়ার কারণে পণ্যবোঝাই ট্রাক বন্দরের অভ্যন্তরে ও পেট্রাপোলে দাঁড়িয়ে থাকছে দিনের পর দিন। বেনাপোলে ট্রাক প্রবেশের পর তা থেকে পণ্য নামানোর অনুমতি মিললেও ক্রেন মিলছে না। ফলে জায়গা ও ক্রেন সঙ্কটে বিপাকে পড়ছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। বন্দর ব্যবহারকারীদের মেশিনারিসহ ভারী মালামাল লোড-আনলোডের সময় দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়।

Jessore

বেনাপোল কাস্টম ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়াডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা জানান, দেশের ৭৫ ভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচা মালামালের পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য আসে এই বন্দর দিয়ে। পণ্য আমদানিতে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের উপর এর প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ছে।

বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন জানান, বেনাপোলের ওপারে এখন ভয়াবহ পণ্যজট লেগে রয়েছে। প্রায় ৫ হাজার ট্রাক আমদানি পণ্য নিয়ে বন্দরের ওপারে অপেক্ষায় রয়েছে। পেট্রাপোলের কালিতলা পার্কিং থেকে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে এখন প্রায় ৫ দিন লেগে যাচ্ছে। ফলে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের যেমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তেমনি বেড়ে যাচ্ছে আমদানি ব্যয়।

বন্দরের কিছু সমস্যার কথা স্বীকার করলেন বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, বেনাপোল বন্দরে মোট ৪১টি শেডে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিন টন পণ্য ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু বন্দরে সবসময়ই ৮০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য থাকে। এখন ৬টি শেড ভেঙে বড় দু’টি শেড নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বন্দরে ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড, ভারতীয় ট্রাক টার্মিনাল ও লিংক রোড নির্মাণের কাজ চলছে। এ জন্য প্রতিদিন চাহিদা অনুযায়ী আমদানিপণ্য নিয়ে ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশের জন্য ওপারে একটা চাপ রয়েছে।

বন্দরের ধারণ ক্ষমতা বাড়লে এই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে বলেও আশা তার।

মিলন রহমান/এনএফ/পিআর

আরও পড়ুন