ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বন্দরের পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে মোংলা পৌরসভার কার্যক্রম

মোংলা (বাগেরহাট) | প্রকাশিত: ০৬:০২ পিএম, ০১ জানুয়ারি ২০২২

মোংলা বন্দর বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর। সুন্দরবনের কোণ ঘেঁষেই এ বন্দরের অবস্থান। বন্দর প্রতিষ্ঠা হওয়ার ২৫ বছর পর মোংলা পৌরসভার জন্ম। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো নেই তাদের নিজস্ব ভবন। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভবন ভাড়া নিয়ে চলতো পৌরসভার কার্যক্রম। বর্তমানে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিত্যক্ত ভবনেই ঝুঁকি নিয়েই চলছে কার্যক্রম। এতে যেকোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ১ ডিসেম্বর বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২২ হাজার টাকায় ২৭ শতাংশ জমি ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয় মোংলা পৌরসভার। এভাবে কেটে যায় প্রায় ৩৬ বছর। এরপর ২০১১ সাল থেকে পৌরসভার কার্যক্রম চলছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের তিনতলা বিশিষ্ট জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত একটি ভবনে। যা একসময় মোংলা বন্দরে কর্মরত ডকইয়ার্ডের শ্রমিকদের হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার হতো। ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দরের পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে মোংলা পৌরসভার কার্যক্রম

মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের টিঅ্যান্ডটির পাশে জরাজীর্ণ সেই ভবনেই চলছে পৌরসভার কার্যক্রম। ভবনের নিচ তলায় আছে করশাখা, জন্ম নিবন্ধন শাখা, লাইসেন্স শাখা, স্বাস্থ্য শাখা, স্টোর রুম ও কাউন্সিলরদের কার্যালয়। দ্বিতীয় তলায় আছে হিসাব শাখা, প্রকৌশলী শাখা, পানি শাখা, বিদ্যুৎ শাখা, ডিজিটাল শাখা, ডেসপাস শাখা, কনফারেন্স রুম, সচিব, প্রকৌশলী, মেয়রের কার্যালয়। তৃতীয় তলার একটি কক্ষে আছে পৌরসভার যাদুঘর।

বন্দরের পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে মোংলা পৌরসভার কার্যক্রম

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা বিশিষ্ট ভবনটির বিভিন্ন জায়গা থেকে পলেস্তারা খুলে পড়েছে। সামনের অংশের রড বের হয়ে গেছে। পিলারে ফাটল ধরেছে। ছাদের রেলিং ভেঙে পড়ছে কয়েক জায়গা থেকে। ভবন ভেঙে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আছে। এরপরও ঝুঁকি মাথায় নিয়েই এখানে কাজ করছেন মেয়রসহ ৩৫ জন স্থায়ী এবং ১০৫ জন অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী। ঝুঁকি নিয়েই সেবা নিতে হচ্ছে পৌরসভার নাগরিকদের।

ভবনের বিষয়ে মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইউনুছ মাস্টার বলেন, মোংলা উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে এর চেয়ে ভালো ভবন আছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আমাদের পৌরসভায় বিভিন্ন কাজ নিয়ে যেতে হচ্ছে। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া স্বত্বেও মোংলা পোর্ট পৌর ভবনের এই দুর্দশা। বিষয়টি আসলেই খুব কষ্টদায়ক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত।

বন্দরের পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে মোংলা পৌরসভার কার্যক্রম

পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের অনেক দুঃখ। মোংলা পোর্ট পৌরসভা ৪৭ বছরে পা দিলেও আমরা কোনো স্থায়ী জায়গায় ভবন করতে পারিনি। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে নাগরিকদের সেবা দিতে হচ্ছে আমাদের।

তিনি আরও বলেন, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর দায়িত্ব বুঝে নিয়ে আমি বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। জেলা প্রশাসকের কাছে ৫২ শতাংশ জায়গা চেয়ে আবেদনও করেছি। বিকল্প হিসেবে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছেও জায়গার জন্য আবেদন জানিয়েছি। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। নিজস্ব জায়গায় নিজস্ব ভবন হলে পৌর সভার নাগরিক সেবার কার্যক্রমের গতিশীলতা বাড়বে।

মো. এরশাদ হোসেন রনি/এসজে/জেআইএম