এমপির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা : এলাকায় তোলপাড়
বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে এলসি খুলে প্রায় সোয়া ১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিরোধী দলীয় হুইপ নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকত চৌধুরীসহ ওই ব্যাংকের আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দূনীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার মামলার এই খবর শওকত চৌধুরীর নির্বাচনী এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
বিশেষ করে কিশোরীগঞ্জ উপজেলাবাসী তাদের সংসদ সদস্যের উপর বেশি ক্ষিপ্ত হয়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শওকত তার নামে সরকারি বরাদ্দের হাজার হাজার মেট্রিক টন চাল ও কাবিটার অর্থ সব আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়গুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শওকত চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার দাবিও করেছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, গতকাল সোমবার অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে ঢাকার বংশাল থানায় মামলাটি (মামলা নং-৫) দায়ের করেন।
দুদুক সুত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের বংশাল শাখা থেকে মেসার্স উদয়ন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে দুটি এলসি খোলেন। এরপর আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য বাবদ ব্যাংকের ৮২ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯৫ টাকা উত্তোলন করেন। যা পরবর্তীতে সুদে-আসলে ১ কোটি ১১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৯১ টাকা হয়। পরে আসামিরা ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ওই টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানেও পাওয়া যায়।
এমামলায় আসামিরা হলেন, নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিরোধীয় দলীয় হুইপ, নীলফামারী জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং মেসার্স উদয়ন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত চৌধুরী, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বংশাল শাখার প্রাক্তন শাখা ব্যবস্থাপক মো. হাবিবুল গনি, একই ব্যাংকের চাকুরিচ্যুত অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ফার্স্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার শিরিন নিজামী, প্রাক্তন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সফিকুল ইসলাম, প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট পানু রঞ্জন দাস, প্রাক্তন ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ইখতেখার হোসেন, প্রাক্তন অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার দেবাশীষ বাউল এবং প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ অফিসার ও বর্তমানে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার আসজাদুর রহমান।
জাহেদুল ইসলাম/এফএ/এবিএস